মুহাম্মদ জিয়াউদ্দীন ফারুক, চকরিয়া:
চকরিয়া পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রের অন্যতম আবাসিক এলাকা সবুজবাগে ১৫ দিন ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। এলাকাবাসী জানায়, গত ১৫ দিন আগে চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠ সংলগ্ন বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারটি বিকল হয়ে যাওয়ায় দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ পুরো সবুজবাগ এলাকা অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসী বিষয়টি চকরিয়া আবাসিক প্রকৌশলীকে অবহিত করেন। ওই আবাসিক প্রকৌশলী ট্রান্সফরমারটি ঠিক করে আনার জন্য কক্সবাজার নিয়ে যায়। এরইমধ্যে অন্ধকারে নিমজ্জিত এলাকাবাসী টাকা দিয়ে হলেও ট্রান্সফরমার ঠিক করে আনার জন্য আবাসিক প্রকৌশলীকে টাকা হস্তগত করেন। এরপর গত শুক্রবার চকরিয়া পিডিবি কর্তৃপক্ষ পুরোনো একটি ট্রান্সফরমার স্থাপন করলে পরক্ষণেই তা নষ্ট হয়ে যায়। এদিকে সবুজবাগ আভ্যন্তরীণ আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা বলেন, আমরা নিজেদের সুবিধার্থে শুধুমাত্র সবুজবাগ এলাকায় ২শ কেবির একটি ট্রান্সফরমারের জন্য আবেদন করে ৫০হাজার টাকা প্রদান করলেও পিডিবির আবাসিক প্রকৌশলী বিদ্যাপীঠ মসজিদ কর্ণারে নামে মাত্র একটি বৈদুতিক খুঁটি স্থাপন করে কালক্ষেপণ করে চলছে। অপরদিকে পক্ষকালব্যাপী বিদ্যুৎ না থাকলেও পিডিবি কর্তৃপক্ষের স্বেচ্ছাচারী মনোভাবের কারণে চকরিয়া উপজেলার অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কোরক বিদ্যাপীঠ, চকরিয়া মহিলা কলেজ ও সবুজবাগ আবাসিক এলাকার বিপুল শিক্ষার্থীসহ ৪/৫হাজার মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন বিদ্যুৎ অনুপস্থিতির অবর্ণীয় দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে অভিভাবকরা জানান, সামনে ৫ম শ্রেণীর পি.এস.সি, ৮ম শ্রেণীর জে.এস.সি ও বার্ষিক পরীক্ষা। কোরক বিদ্যাপীঠের আবাসিক হোস্টেলে থাকা সহস্রাধিক শিক্ষার্থী ও আবাসিক এলাকার বসবাসরত শিক্ষার্থীদের বিদ্যুতের অভাবে দৈনন্দিন শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে অনুষ্ঠিতব্য পি.এস.সি১১, জে.এস.সি১১ ও বার্ষিক পরীক্ষা১১ এ বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন অভিভাবক মহল। এলাকাবাসী আরো জানান, সবুজবাগ এলাকায় বহুতল ভবনে বসবাসরত জনসাধারণের দুর্ভোগ অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিদ্যুৎ না থাকায় পানির অভাবে প্রতিনিয়ত বাথরুম সারার কথা দুরেই থাক, রান্নাকাজেও ঘটে চলছে ব্যাঘাত। ট্রান্সফরমার বিকল ও স্থাপন প্রসঙ্গে চকরিয়া আবাসিক প্রকৌশলীর কাছে জানতে চাইলে মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। সবুজবাগ এলাকায় তড়িৎ ট্রান্সফরমার স্থাপন করে ভোগান্তি লাঘবে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

0 Comments