Advertisement

কক্সবাজার স্টেডিয়াম সংস্কারে বাজেট বরাদ্দের পরও বাস্তবায়নে ধীরগতি : দূর্ঘটনার আশংকা

কক্সবাজার জেলার মানুষের প্রাণের খেলা ফুটবল। জাতীয় পর্যায়ে এখানকার ফুটবলাররা অবদান রেখে চলেছেন যুগ যুগ ধরে। বর্তমানে দেশের সর্বোচ্চ মর্যাদার ফুটবল আসর পেশাদার লিগে কক্সবাজার জেলার প্রায় ৪০ জন ফুটবলার অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন দলের হয়ে।

আর জাতীয় দলের হয়েও বেশ কয়েকজন ফুটবলার মাঠ মাতিয়েছেন বিভিন্ন সময়ে। ফুটবলার তৈরির হ্যাচারি বললেও ভুল হবে না কক্সবাজার জেলাকে। জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহযোগিতায় স্থানীয় জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ডিএফএ) প্রতি বছরই প্রথম বিভাগ ফুটবল লিগ আয়োজন করে থাকে।

দেশের অন্যান্য ডিএফএগুলো জেলা ক্রীড়া সংস্থার অসহযোগিতার কারণে কাজ করতে না পারলেও এখানকার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। ক্রীড়া সংস্থা আর ডিএফএ এক সঙ্গে একে অপরের পরিপূরক হয়ে কাজ করে আসছে। যার কারণে ফুটবল এগিয়ে যাচ্ছে সুপারসনিক গতিতে।

মাঠে ফুটবল নিয়মিত থাকলেও এখানকার স্টেডিয়ামটি নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই স্থানীয় ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তা এবং সংগঠকদের। কারণ পাঁচ হাজার আসনবিশিষ্ট এ স্টেডিয়ামটি ১৯৫৭ সালে নির্মাণ করা হয়েছিল। এরপর আর কোনো সংস্কারের ছোঁয়া লাগেনি এখানে। ফলে স্টেডিয়ামটির প্যাভিলিয়ন-গ্যালারি বহু আগেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। যে কোনো সময় এ গ্যালারিটি ভেঙে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর জসীম উদ্দিন অভিযোগের সুরেই বললেন, স্থানীয় ফুটবল লিগ শুরু হলে পুরো স্টেডিয়াম ভরে যায় কানায় কানায়। স্থানীয় ফুটবলে যে পরিমাণ দর্শক হয় আমাদের এখানে, পেশাদার লিগে ঢাকার মাঠেও এতো দর্শক খুঁজে পাওয়া যায় না। দর্শকের ভারে যে কোওনা সময় ভেঙে পড়তে পারে প্যাভিলিয়ন গ্যালারিটি। এ বিষয়ে এনএসসি’র নিকট বহুবার ধরনা দিয়েছি।

তারা আমাকে বার বার বলছে, বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে। কিছু দিনের মধ্যেই কাজ শুরু হবে। প্রায় দেড় কোটি টাকার একটি বাজেট নাকি করা হয়েছে এনএসসি’র কর্মকর্তাদের নিকট থেকে জানতে পেরেছি। কিন্তু আজও তার বাস্তবায়ন দেখতে পারছি না। স্টেডিয়ামটি সংস্কার করা হলে এখানকার ফুটবল আরও উন্নতি হতো। তিনি সরকারের নীতিনির্ধারকদের নিকট এ বিষয়ে সহযোগিতা কামনা করেন।

সম্প্রতি কক্সবাজারের স্থানীয় কিছু ক্রীড়াপাগল মানুষ কক্সসিটি এফসি নামে একটি ক্লাব গঠন করেছেন। আসন্ন পেশাদার লিগের সেকেন্ড টায়ারে অংশ নেয়ার অনুমতিও পেয়েছে ক্লাবটি। এর মধ্যেই দল গোছানোর কাজও শেষ করে ফেলেছে ক্লাবটি। পেশাদার লিগে বিভিন্ন ক্লাবের হয়ে খেলা স্থানীয় ফুটবলারদের নিয়েই দল সাজিয়েছে নবাগত এ দলটি।

ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক খালেদ আজম বিপ্লব জানালেন, প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকা খরচ করে দল গঠন করা হবে। পেশাদার লিগ খেলা প্রায় ৮ জন ফুটবলারকে এর মধ্যেই কনফার্ম করে ফেলেছি আমরা।


আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই দল গোছানোর কাজ শেষ করে ফেলব। আর কোচ হিসেবে বি লাইসেন্সধারী একজন কোচ নিয়োগ করব। তবে আপাতত আমরা নিজেরাই ছেলেদের কোচিং করাব। নিজেদের লক্ষ্য জানাতে গিয়ে আজম বিপ্লব জানালেন, আমাদের বিশ্বাস, আমরা পেশাদার লিগের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অবশ্যই অর্জন করতে পারব। আমাদের সে ক্যাপাবিলিটি আছে। আমাদের ফুটবলাররা সবাই সে চেষ্টাই করবে মাঠে।

স্থানীয় ডিএফএ’র এক কর্মকর্তা জানালেন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহযোগিতার কারণেই আমরা নিয়মিত লিগ মাঠে গড়াতে পারছি। লিগের কারণে প্রতি বছরই নতুন নতুন ফুটবলার তৈরি হচ্ছে।

আগামী নভেম্বর মাসে একটি ফুটবল ক্যাম্পের আয়োজন করা হচ্ছে। বাফুফে থেকে একজন কোচ দেয়া হবে। নিজেদের খরচেই আমরা ঐ ক্যাম্প পরিচালনা করব। আশা করি এর মাধ্যমে আমাদের ফুটবল আর এগিয়ে যাবে।

Post a Comment

0 Comments