Advertisement

নাজিরহাট সড়কের টেম্পু দুর্ঘটনায় ২৫ স্কুল শিক্ষার্থী আহত

মোবাইলে কথা বলে হেল্পার গাড়ি চালানোর অভিযোগ
মোহাম্মদ হোসেন ,হাটহাজারী:
হাটহাজারী-নাজিরহাট মহাসড়কের গতকাল শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে নয়টায় সিএনজি টেম্পু দুর্ঘটনায় ২৫ স্কুল শিক্ষার্থী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শিক্ষার্থীরা টেম্পু যোগে স্কুল আসার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাপ্ত সংবাদে প্রকাশ। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশংঙ্কা জনক বলে জানা গেছে। টেম্পুর হেল্পার মোবাইল ফোনে কথা বলে গাড়ি চালানোর ফলে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংবাদ পেয়ে এএসপি হাটহাজারী সার্কেল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দুর্ঘটনা কবলিত গাড়ি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। দুর্ঘটনার পর পর চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছে। 
স্থানীয়, প্রত্যক্ষদর্শী ও দুর্ঘটনা কবলিতদের পক্ষ থেকে ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকালে মির্জাপুর উচ্চ বিদ্যালয়, মির্জাপুর বালিকা বিদ্যালয় ও মির্জাপুর বাকেরিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাশ করতে আসার জন্য চারিয়া থেকে চট্টমেট্রো- প- ০৫-৭৭৫০ নম্বরের টেম্পুতে উঠে। টেম্পুটি নাজিরহাটের দিকে যাচ্ছিল। তাই শিক্ষার্থীরা চারিয়া মাদ্রাসা, বুড়িপুকুর পাড়, চারিয়া কলঘর ও মুছার দোকান নামক স্টপিজ থেকে এই টেম্পুতে উঠে। টেম্পুটি সড়কে মুহুরী হাট পৌঁছলে চালকের সীটে বসা হেল্পার মোবাইল ফোনে কথা বলতে শুরু করে। গাড়িটি হেল্পার চালিয়ে নাজিরহাটের দিকে যাচ্ছিল। শিক্ষার্থীরা ক্লাশ করতে প্রতিদিনের মত এই গাড়িতে উঠে গন্তব্যে যাচ্ছিল। মোবাইল ফোনে কথা বলতে গিয়ে গাড়িটি সংঘরাজ শীলালংকার সংযোগ সড়কের মাথায় পৌঁছলে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পার্শ্বে খাদে পড়ে যায়। এতে মনি আক্তার (১০ ম শ্রেণী), আসমা বিনতে আজিজ (৭ম শ্রেণী), নিপা দত্ত (৮ম শ্রেণী), মোঃ আলী (১০ম), সুমি দত্ত (৯ম), আরাফাত (৮ম), সুরভী দত্ত (৭ম শ্রেণী) এবং যাত্রী রতন কান্তি নাথ (৪০) সহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে দুজনকে আশংঙ্কাজনক অবস্থায় চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর পর চালক ও সহকারী পালিয়ে যায়। সংবাদ পেয়ে এএসপি হাটহাজারী সার্কেল বাবুল আক্তার পিপিএম (বার) ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। তিনিও সংগীয় ফোর্স দুর্ঘটনা কবলিত গাড়ি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। নাজিরহাট মহাসড়কের বাস/ কোষ্টার সার্ভিস যাত্রী অনুপাতে আশংঙ্কাজনক ভাবে হ্রাস পেয়েছে। ফলে এই সড়কের অবৈধ সিএনজি টেক্সি টেম্পু চলাচলের হারও সীমাহীন ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সব গাড়ির ও চালকদের বেশির ভাগের কোন বৈধ কাগজপত্র নেই। আর চালকগণও অপরিপক্ষ কম বয়সী। সংশ্লিষ্টদের সাথে গোপন সমাঝোতা করে এসব গাড়ি ও চালক সড়কে গাড়ি চালায়। আর বাস কোষ্টার না পেয়ে যাত্রীরা প্রয়োজনের তাগিদে দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে এক প্রকার বাধ্য হয়ে গাড়িতে চলাচল করে। গাড়ির মালিকগণ লাভের অপরিপক্ষ চালকদের হাতে গাড়ি তুলে দেয়। এসব কম বয়সী চালক গণ প্রতিনিয়ত মোবাইল ফোনে কথা বলে গাড়ি চালানোর সাথে যাত্রীদের সাথেও দুর্ব্যবহার করে থাকে। কোন যাত্রী প্রতিবাদ করলে সংঘবদ্ধ চালকদের হাতে সাধারণ ও নিরীহ যাত্রীদের লাঞ্ছিত হতে হয়। এব্যাপারে জরুরী ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন বিজ্ঞ মহল।

Post a Comment

0 Comments