সংবাদ বিজ্ঞপ্তি:
নারী নির্যাতন প্রতিরোধ জোট, কক্সবাজার জেলা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছে যে, সাম্প্রতিক সময়ে কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন উপজেলায় নারী ও শিশু নির্যাতন মারাত্মক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে নারী ও শিশু ধর্ষনের ঘটনা যে হারে বাড়ছে এতে যে কোন সচেতন মানুষই হতবাক না হয়ে পারে না। নারী নির্যাতন প্রতিরোধ জোট মনে করছে এটা একটি সামাজিক অবক্ষয়। জেলায় ব্যাপক হারে ইয়াবাসহ মাদকের ছড়াছড়ির কারণে মানুষ মনোষ্যত্ববোধ হারিয়ে পশু হয়ে যাচ্ছে। এই জন্য একক ভাবে আইন শৃংখলা বাহিনীকে দোষ দেয়া যায় না। আড়াই থেকে পাঁচ বছরের শিশু যেখানে লালসার শিকার হচ্ছে তা মোটেই মেনে নিয়া যায় না। আমরা কক্সবাজারের জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সচেতন জনগনকে এ ধরনের বিকৃত রুচি সম্পন্ন ও বিকারগ্রস্থ লোকজনকে অচিরেই আইনের হাতে সোপর্দ করার জন্য দাবী জানাচ্ছি। অন্যতায় এই সব দানব অচিরেই ভয়াবহ আকারে মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে যা কোন অবস্থাতেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না।
গতকাল শনিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪টায় শহরের গোলদিঘীর পাড়স্থ মুক্তির হল রুমে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ জোট, কক্সবাজার জেলা শাখার জরুরী সভায় উক্ত দাবী জানানো হয়। জোটের সিনিয়র সদস্য কক্সবাজার সাহিত্য একাডেমীর সভাপতি সাংবাদিক-গবেষক মুহম্মদ নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে জোটের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জোটে সভায় জোটের আহবায়ক রামু কলেজের অধ্যক্ষ শারমিনা আফরোজা রেসমিনের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক ও মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়। সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত থেকে বক্তব্য পেশ করেন, জোটের সদস্য কক্সবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মাসুদা মোর্শেদা আইভি, কক্সবাজার পৌরসভার সেনেটারী ইন্সপেক্টর কবি শামীম আকতার, শহর সমাজ সেবা কর্মকর্তা কুমকুম আচার্য্য, কক্সবাজার পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ খোরশেদ আলম, মুক্তির ফোকাল পার্সন বিপুল সেন, সাংবাদিক আনোয়ার হাসান চৌধুরী, বলরাম দাশ অনুপম ও আজাদ মনসুর।
সভায় পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মুক্তির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিমল চন্দ্র দে সরকার ও কক্সবাজার প্রভাতী শিশু শিক্ষা নিকেতনের সিনিয়র শিক্ষক রাশেদা আখতার।
সভায় আলোচনাক্রমে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ জোটকে পুনগঠন করার সিদ্ধান্ত হয়। আগামী মাসে কমিটির সভা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পুনগঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। কমিটিতে আরও কিছু কার্যকর ও কর্মঠ সদস্য অন্তভূক্তির সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়াও আগামী ২১ সেপ্টেম্বর বুধবার সকালে জেলা আইন শৃংখলা পরিস্থিতি তথা নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধের দাবীতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে স্মারকলিপি প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়। উক্তদিন সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা প্রশাসককে এবং ১০ টায় পুলিশ সুপারকে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। স্মারকলিপি প্রদান অনুষ্ঠানে জোটের সদস্যবৃন্দসহ সমমনা সকলকে উপস্থিত থাকার জন্য জোটের যুগ্ন আহবায়ক কবি শামীম আকতার ও প্রফেসর মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম ও সদস্য সচিব সাংবাদিক মোহাম্মদ শফি উল্লাহ শফি অনুরোধ জানিয়েছেন।

0 Comments