Advertisement

ফখরুদ্দিনকেই দূষলেন মঈনউদ্দিন

জরুরি অবস্থার সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যা-লয়ের ছাত্র-শিক্ষক নির্যাতনে নিজের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে এ ঘটনার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা
 ফখরুদ্দীন আহমেদকে দায়ী করেছেন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) মইন উ আহমেদ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠের তুচ্ছ ঘটনায় ছাত্র-সেনা সংঘর্ষের ব্যাপারে টেলি কনফারেন্সের মাধ্যমে সাক্ষ্য দেয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন। মঙ্গলবার সংসদ ভবনের চতুর্থ লেভেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির কক্ষে নতুন করে সংযোগ দেয়া চারটি টেলিফোনের মাধ্যম এ সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।
জেনারেল মইন আরো বলেন, ২০০৭ সালের আগস্টের ঘটনা দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত হলেও এতে তার কোনো ভূমিকা ছিল না। এ ঘটনায় সেনাবাহিনীর ওপরের সারির কেউ নয়, জুনিয়র সারির কেউ কেউ সম্পৃক্ত থাকতে পারেন। তবে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল, তা সামাল দিতে উপদেষ্টাম-লী বিশেষ করে প্রধান উপদেষ্টা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, সেনাবাহিনী তা বাস্তবায়নে সাহায্য করেছে। কিন্তু সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে তার বা সেনাবাহিনীর কোনো ভূমিকা ছিল না।
টেলি কনফারেন্সে মইন উ আহমেদ কমিটির করা অধিকাংশ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে কৌশলে এড়িয়ে গেছেন বলেও সূত্র জানায়। সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এ কনফারেন্স শেষ হয় ১১টার সময়। কমিটির সভাপতি রাশেদ খান এমপির সভাপতিত্বে এ সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
টেলিকনফারেন্স শেষে উপ-কমিটির আহ্বায়ক রাশেদ খান মেনন বলেন, তিনি (মইন) বলেছেন ওই সময় একটি অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটে গেছে, পরবর্তী সময়ে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল, তা সামাল দিতে উপদেষ্টাম-লী (তত্ত্বাবধায়ক সরকার) যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তাই বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে তার কোনো ভূমিকা ছিল না।
চার বছর আগের ওই ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখতে সংসদীয় এ উপ-কমিটি এর আগে নির্যাতিত ছাত্র-শিক্ষকদের বক্তব্য শুনেছিল। তখন তারা ওই ঘটনার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার পরিচালনাকারীদের, বিশেষ করে মইন উ আহমেদকেই দায়ী করে বক্তব্য দিয়েছিল। এক সময়ের ছাত্রনেতা ও ডাকসুর ভিপি মেনন বলেন, তার (মইন) বক্তব্য আমাদের খুব একটা সন্তুষ্ট করতে পারেনি।
মঙ্গলবার উপ-কমিটির বৈঠকে নির্যাতিত দুই শিক্ষকও অংশ নেন। তারা হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক হারুণ অর রশীদ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মলয় কুমার ভৌমিক। এছাড়াও বৈঠকে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক ও শিক্ষা সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। কমিটির অন্য তিন সদস্য শাহ আলম, মির্জা আজম ও বীরেন শিকদারও ছিলেন বৈঠকে।
জিমনেসিয়ামে কয়েকজন ছাত্রের সঙ্গে সৈন্যদের তর্কাতর্কির জের ধরে ২০০৭ সালের ২০ থেকে ২৩ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালায় পুলিশ। তখন গ্রেপ্তার করা হয় ৪ জন শিক্ষকসহ অনেক ছাত্রকে। বিভিন্ন মামলায় আসামি করা হয় তাদের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ অসন্তোষের প্রকাশ ঘটে সারাদেশে ছাত্রবিক্ষোভের মাধ্যমে। ফলে পিছু হটে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মুক্তি দিতে বাধ্য হয় সেনা পরিচালিত ওই তত্ত্বাবধায়ক সরকার।
মহাজোট সরকার ক্ষমতায় যাওয়ার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি ওই সময়কার ঘটনার অনুসন্ধানে এ উপ-কমিটি করে। সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মেনন হন উপ-কমিটির আহ্বায়ক। সংসদীয় উপ-কমিটি গত বছর এ বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরুর পর এ পর্যন্ত বিভিন্ন সেনা কর্মকর্তা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বক্তব্য শুনেছে। তবে ডাকা হলেও কমিটির সঙ্গে দেখা করতে আসেননি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দীন আহমদ এবং সাবেক সেনা প্রধান মইন উ আহমেদ।
এরপর কমিটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মূল কর্তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দেয়ার হুঁশিয়ারি দিলে মইন উ আহমেদ টেলিকনফারেন্সে বক্তব্য দিতে রাজি হন।
গত ২৩ আগস্ট উপ-কমিটির বৈঠকে টেলি কনফারেন্সের দিন-তারিখ ঠিক হয়। এ বিষয়ে স্পিকার আবদুল হামিদের অনুমতি নেয়াসহ যাবতীয় প্রস্তুতিও সম্পন্ন করে কমিটি। সংসদীয় উপ-কমিটির সঙ্গে এটাই প্রথম কোনো টেলিকনফারেন্স।
মইনের সাড়া মিললেও বিদেশে অবস্থানরত ফখরুদ্দীন এখনো কিছু জানাননি। তবে তিনি এর আগে ই-মেইলে তার বক্তব্য পাঠালেও তা পূর্ণাঙ্গ নয় বলে মনে করছে সংসদীয় উপ-কমিটি।
মেনন আশা করেছেন, ফখরুদ্দীনও মইন উ আহমেদের মতো আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য নিয়ে হাজির হবেন।

Post a Comment

0 Comments