মমতাজ উদ্দিন আহমদ, আলীকদম:
মাতামুহুরী নদীর ভাঙনের কবলে পড়েছে আলীকদম উপজেলা সদর ও চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের ইউয়নের কয়েকটি পাড়া। প্রতি বর্ষায় পাহাড়ি ঢলে মাতামূহুরী নদীর পানির স্রোত তীব্রতা পায়। প্রতিবছর পানির ঢেউয়ে ভাঙ্গছে নদীর কুল। নদী তীরবর্তী জনপদ রক্ষায় স্থানীয় বাসিন্দারা একাধিকবার আবেদন নিবেদন জানালেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা আমলে নেয়নি বলে জানা গেছে।
জানা যায়, আলীকদম উপজেলা সদরের খুইল্যা মিয়া পাড়ার নদী তীরবর্তী অংশ ও রোয়াম্ভু বুলু কারবারী পাড়ায় ভাঙ্গন চলে প্রতি বর্ষায়। ভাঙ্গনের কারণে নদী তীরবর্তী ঘাট ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে। প্রতি বর্ষায় ভাঙ্গনে নদীর পাড়।
জানা যায়, আলীকদম উপজেলা সদরের খুইল্যা মিয়া পাড়ার নদী তীরবর্তী অংশ ও রোয়াম্ভু বুলু কারবারী পাড়ায় ভাঙ্গন চলে প্রতি বর্ষায়। ভাঙ্গনের কারণে নদী তীরবর্তী ঘাট ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে। প্রতি বর্ষায় ভাঙ্গনে নদীর পাড়।
সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলায় জনবসতি গড়ে ওঠার প্রথম দিকে মাতামূহুরী নদীর তীরবর্তী রোয়াম্ভু এলাকায় অন্ততঃ ষাট বছর আগে রোয়াম্ভু খাল মাতামূহুরী নদীর মিলনস্থলে তঞ্চঙ্গ্যা ও চাকমা সম্প্রদায়গণ বসতভিটা নিয়ে বসবাস শুরু করেন। সমসাময়িক কালে খুইল্যা পাড়ায় জনবসতি গড়ে উঠে। তখনকার সময়ে অন্য উপজেলার সাথে যোগাযোগের জন্য একমাত্র মাধ্যম ছিল নৌ পথ। সে সুবাদে এ পাড়া দুটি মাতামূহুরী নদীর তীরে গড়ে উঠে বলে জানালেন পাড়া প্রধান বুলু কারবারী। পরে এলাকায় ধীরে ধীরে বাঙালী জনবসতিও গড়ে উঠে। মাতামূহুরী নদীর নাব্যতা হ্রাসের কারণে এখন সামান্য বেশী বৃষ্টি হলে পানি বৃদ্ধি পায়। একদিকে মাতামূহুরী নদীর স্রোত অন্যদিকে রোয়াম্ভুখালের পাহাড়ী ঢল প্রতিবছর পাড়ার পরিধি সংকুচিত হচ্ছে বুলু পাড়ার পরিধি। অপরদিকে, খুইল্যা পাড়ার নদী ঘাটটি নদীগর্ভে বিলীন হতে চলেছে। ভাঙনের কবলে পড়ে অনেকের বসতভিটা ও আবাদী জমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বসতবাড়ি হারিয়ে অনেকে বাধ্য হয়ে চলে যান অন্যত্রে। বর্তমানে যারা আছেন তারাও বসতভিটা হারানোর ভয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন পার করছেন। অব্যাহত ভাঙনের মূখে প্রতিবছর ধ্বংস হচ্ছে নদী তীরবর্তী বসতবাড়ি ও ক্ষেতখামারের জমি।
বুলু কার্বারী জানান, ইতোপূর্বে উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে পাড়াবাসীর পক্ষে একাধিক আবেদন করা হয়েছে। আজ পর্যন্ত কিছু জানা যায়নি। ইউপি মেম্বার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, মাতামুহুরীর প্রবল সোতে প্রতিবছর ভাঙ্গনে নদী তীরবর্তী এলাকা। পাড়াকে রক্ষা করতে হলে বড় বাজেটের প্রয়োজন। ইউনিয়ন পরিষদের সামান্য বরাদ্দে সমাস্যা সমাধান হবে না।


0 Comments