শেখ মোহাম্মদ হানিফ,পেকুয়া॥
পেকুয়ায় গত কয়েক দিনের পৃথক পৃথক সংঘর্ষে অন্ততপক্ষে ১৫ ব্যক্তি আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গত ৩০ আগষ্ট মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় পেকুয়ার উত্তর মেহেরনামা বারবাকিয়া রাস্তার মাথা এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের তুমুল সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ৬জন আহত হয়েছে। আহতদের পুলিশ উদ্ধার করে পেকুয়া হাসপাতালে ভর্তি করেছে। আহতরা হলো-উত্তর মেহেরনামা তেলিয়াকাটা এলাকার মৃত কবির আহমদের পুত্র নুরুল কাদের (৪০), পুত্র ইছহাক (২০) ও বেলাল উদ্দিন (২০), খাইরুল বশরের পুত্র আলা উদ্দিন (২২), মৃত উকিল আহমদের পুত্র মোস্তাক আহমদ (৫০)ও ফেরদৌস আহমদ (৪৫)। আশংকাজনক অবস্থায় আহত বেলাল উদ্দিনকে চমেক হাসপাতালের ২৮নং ওয়ার্ডের ৫২নং কেবিনে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে ৩০ আগষ্ট মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় পেকুয়া বাজারে চাঁদার দাবীতে পপুলার ফার্মেসী নামের একটি ঔষধের দোকানে হামলা চালিয়ে ফার্মেসী মালিক মোস্তাক আহমদকে (৫০) মারধর করেছে সন্ত্রাসীরা। এসময় সন্ত্রাসীরা প্রায় ১লক্ষ টাকা লুট করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহত ব্যবসায়ী মোশতাক আহমদকে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করিয়েছে। এব্যাপারে আহত মোস্তাক আহমদ জানান, পেকুয়া চৌমুহনী এলাকার একটি মার্কেট নির্মাণ করতে গিয়ে স্থানীয় মোক্তার আহমদের পুত্র কাইছারের নেতৃত্বে কয়েকজন সন্ত্রাসী ১লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। আমি উক্ত চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওইদিন কাইছারসহ বেশ কয়েকজন দিনে দুপুরে আমার ফার্মেসীর ভিতরে ঢুকে অতর্কিত অবস্থায় হামলা ও লুটপাট চালায়। এসময় ব্যবসায়ী মোস্তাক আহমদ গুরুতর আহত হন। এদিকে গত ১ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় রাজাখালী ইউনিয়নের পালাকাটা এলাকার মৃত মোজাফ্ফর আহমদের পুত্র আছহাব উদ্দিনের দখলীয় জমির পাকা ধান সন্ত্রাসী কর্তৃক কেটে নেওয়ার সময় বাঁধা দেওয়ায় হামলা চালিয়ে ২জনকে গুরতর আহত করে। আহতদের পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়েছে। আহতরা হলো-পালাকটা এলাকার মৃত গোলাম রব্বানের পুত্র হাজী জাবের আহমদ (৭৫), তার পুত্র জাকের হোসেন (৪৮)। এঘটনায় জমির মালিক আসহাব উদ্দিন বাদি হয়ে শাকের উল্লাহ, বাবুলসহ ১০/১২জনকে আসামী করে পেকুয়া থানায় এজাহার জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। অপরদিকে গত ৩১ আগষ্ট সকাল ১০টায় উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের কাদিমাকাটা এলাকার নতুন জামে মসজিদ সংলগ্ন রাস্তায় ঈদের নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে পূর্ব শত্রতার জের ধরে স্থানীয় আবুল হোসেন প্রকাশ কালা বদর পুত্র মিনারের উপর কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে স্থানীয় কবির আহমদের পুত্র গিয়াস উদ্দিন, শাহাব উদ্দিন, শাহাদত কবিরসহ বেশ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এসময় মিনারকে বাঁচাতে তার পিতা কালা বদ এগিয়ে আসলে তার উপরও হামলা চালানো হয়। এতে কালা বদ (৪৫) তার স্ত্রী খদিজা বেগম (৩৪), পুত্র মিনার (২৩), স্থানীয় নুরুল আলমের পুত্র শওকত (২২) আহত হয়। গুরতর আহত অবস্থায় খদিজা বেগমকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে গত ২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে বারবাকিয়া ইউনিয়নের নাথ পাড়ায় পূর্ব শত্রতার জের ধরে স্থানীয় ফনিন্দ্র লাল নাথের পুত্র তপন কান্তি নাথের (৪৫) উপর স্বশস্ত্র হামলা চালায় মৃত সৃধাংশু বিমল নাথের পুত্র আলোচিত সজল বৈদ্য ও তার সাঙ্গ-পাঙ্গরা। এসময় তপন কান্তিকে মাথায় কুপিয়ে গুরতর জখম করে। তাকে প্রথমে পেকুয়া হাসপাতালে নেওয়া হলে আহতের অবস্থা আশংকাজনক দেখে কর্তব্যরত ডাক্তার উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করে। এসব ঘটনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকা গুলোতে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এবিষয়ে পেকুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান বলেন, যেসব ঘটনা ঘেেটছে তার এজাহার পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

0 Comments