Advertisement

লিবিয়ায় চালু হচ্ছে শরিয়া আইন: যুদ্ধ চালিয়ে যাবেন গাদ্দাফি

লিবিয়ার বর্তমান ক্ষমতাসীন জাতীয় অন্তর্বর্তী পরিষদের (এনটিসি) চেয়ারম্যান ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুস্তফা আবদেল জলিল ঘোষণা করেছেন, আগামীতে লিবিয়া চলবে
শরিয়া আইনে। আর ভবিষ্যত লিবিয়া হবে একটি মধ্যপন্থী ইসলামী রাষ্ট্র। গাদ্দাফির পতনের পর সোমবার রাজধানী ত্রিপোলিতে প্রথমবারের মতো এক জনসমাবেশে তিনি একথা বলেন। নতুন জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে প্রায় ১০ হাজার মানুষ সমাবেশে সমাবেশে উপস্থিত হয়। লিবিয়ার অধিকাংশ এলাকা বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে এলেও বিভিন্ন স্থানে গাদ্দাফিপন্থীরা এখনো সক্রিয় রয়েছে। বিশেষ করে সিরত এবং বনি ওয়ালিদসহ কয়েকটি শহর তাদের দখলে রয়েছে। এসব জায়গায় উভয়পক্ষের মধ্যে এখনো তুমুল যুদ্ধ চলছে বলে খবর পাওয়া গেছে। অজ্ঞাত স্থান থেকে গতকালও গাদ্দাফি তার সমর্থকদের প্রতি 'বিজয় অর্জন না হওয়া পর্যন্ত দখলদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ' চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে লিবিয়ার সবশেষ পরিস্থিতিসহ মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কট নিয়ে অলোচনার জন্য তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তাইপ এরদোগান তার আরব দেশগুলো সফর কর্মসূচির প্রথমদিনে মঙ্গলবার মিসরের রাজধানী কায়রো পৌঁছেছেন। অন্যদিকে লিবিয়ার বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অপরাধের অভিযোগ করেছে আমেরিকা ও লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামেনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সূত্র : বিবিসি, আল-জাজিরা, সিএনএন, টাইম, পিটিআই, রয়টার্স, এএফপি, এপি
আবদেল জলিল তার ভাষণে, সাবেক সরকারের অবশিষ্টদের ওপর প্রতিশোধ পরায়ণ আচরণ না করার জন্য আন্দোলনের যোদ্ধাদের প্রতি আবারো আহ্বান জানান। তিনি বলেন, লিবিয়ার নতুন আইনের প্রধান উৎস হবে ইসলামি শরিয়া। 'চরমপন্থী দৃষ্টিভঙ্গি' কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না বলে তিনি দৃঢ়ভাবে জানান। সমাবেশস্থলে উপস্থিত মানুষের উল্লাস, বেলুন, আশতবাজি আর সঙ্গীতের মূর্চ্ছনা এবং নতুন পতাকা নাড়িয়ে আনন্দ প্রকাশ করে জমায়েতটিতে উৎসবের আমেজ এনে দেয়।
বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অপরাধের অভিযোগ
লিবিয়ার বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অপরাধের অভিযোগ করেছে আমেরিকা ও লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামেনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। মঙ্গলবার আমেরিকাভিত্তিক অ্যামেনেস্টির প্রকাশিত এক রিপোর্টে বলা হয়, লিবীয় নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি এবং তার অনুগতরা যুদ্ধ অপরাধ করেছে। কিন্তু তাকে উৎখাতের জন্য ভূমিকা পালনকারী বিদ্রোহীদের অপরাধও একেবারেই কম নয়। রিপোর্টে বলা হয়, 'বিদ্রোহীরা এপ্রিল এবং জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে আইন বহির্ভূতভাবে গাদ্দাফির কয়েক ডজন অনুগতকে হত্যা করেছে। এ হত্যাকা-ের পরপরই তারা লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলের দায়িত্ব গ্রহণ করে। উত্তেজিত বিদ্রোহী সেনা এবং সমর্থকরা গুলি করে, ফাঁসি দিয়ে এবং অন্যান্য উপায়ে আটক কয়েক ডজন সেনাকে হত্যা করেছে।' এছাড়া কয়েক হাজার লিবীয়কে তাদের বাড়ি, মসজিদ, রাস্তা থেকে অপহরণ করা হয়েছে। অপহৃতদের মধ্যে অনেক শিশুও আছে বলে রিপোর্টে বলা হয়।
অন্যদিকে লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাদ্দাফি বাহিনী ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। যুদ্ধ চলার সময় অধিকাংশ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার জন্য দায়ী গাদ্দাফি বাহিনী। তবে যারা গাদ্দাফির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে, তারাও গুরুতর অপরাধের সঙ্গে জড়িত। গাদ্দাফির ভাড়াটে কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকানরা বিচার বহির্ভূত হত্যাকা-ের শিকার হচ্ছে। অ্যামনেস্টি অবশ্য বলেছে, তাদের প্রতিবেদনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের পূর্ণাঙ্গ চিত্র উঠে আসেনি।

Post a Comment

0 Comments