সোয়েব সাঈদ, রামু:
রামুতে মাইক্রোবাসযোগে পাচারকালে জনতার সহায়তায় প্রায় ৬০০ লিটার বাংলা চোলাই মদ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ভোর পাঁচটায় রামু -মরিচ্যা সড়কের খুনিয়াপালং এলাকা থেকে এসব মদ আটক করে।
এ ঘটনায় মদ পাচারকারী ৩ জনের বিরুদ্ধে রামু থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। মামলায় অভিযুক্তরা হলেন, খুনিয়াপালং ইউনিয়নের দারিয়ারদিঘী থোয়াইংগ্যাকাটা গ্রামের আব্দু শুক্কুর প্রকাশ শুক্কুর মেম্বারের ছেলে হোছন আহমদ ও হাছন আলী এবং ছৈয়দুর রহমানের ছেলে আবু তাহের।
জানা গেছে, সোনাইছড়ি হয়ে আসা মদ খুনিয়াপালং হকে মাইক্রোবাস যোগে অন্যত্র পাচারের খবর পেয়ে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেয় এবং নিজেরাও সড়কে ব্যারিকেড দেয়। অবস্থা বেগতিক দেখে মাইক্রোবাস আরোহীরা মদ ফেলে গাড়ি নিয়ে কৌশলে সটকে পড়ে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, এ মামলায় অভিযুক্তরা মাদকদ্রব্য পারচারকারী সিন্ডিকেটের শীর্ষ সদস্য এবং সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক। তারা দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়ন হতে বাংলা চোলাই মদ পাচার করে আসছে। ওই চক্রটি সোনাইছড়ি এলাকা থেকে মদ বহন করে এনে খুনিয়াপালং থেকে মাইক্রোবাস, পিকআপ, চান্দের গাড়ি (জীপ) ও সিএনজি টেক্সী যোগে পর্যটন শহর কক্সবাজার, চকরিয়া, মরিচ্যা, উখিয়া ও রামুর বিভিন্নস্থানে সরবরাহ করে আসছে। ওই চক্রের মদ পাচার করে আনা মদ খুনিয়াপালং ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানেও বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে এখানকার যুবসমাজ ও সাধারন লোকজন মাদকের করাল গ্রাসে দিনদিন নিমজ্জিত হচ্ছে। এছাড়া পাচারকারী সিন্ডিকেট-এর সদস্য দ্বারা নিয়মিত মদ পাচার ও ব্যবসায় চালিয়ে মোটা অংকের টাকা উপার্জন পূর্বক আঙ্গুল ফুলে কলা গাছে পরিণত হচ্ছে।
রামু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একে নজিবুল ইসলাম জানান, সোনাইছড়ি সড়ক হয়ে সম্প্রতি একটি চক্র প্রতিদিন মদ পাচারে লিপ্ত রয়েছে। ওই এলাকার লোকজনও থানায় এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে জনতার সহায়তায় অভিযান চালিয়ে এসব মদ আটক করা হয়। এসময় মদ বহনকারী গাড়িতে থাকা ৩ ব্যবসায়ীর নামে মামলা রুজু করা হয়েছে।

0 Comments