Advertisement

নভেম্বরে আবার বাড়বে বিদ্যুতের দাম-আগাম না জানানো সরকারের কৌশল

ঢাকা, ২৪ সেপ্টেম্বর: জ্বালানি তেল ও সিএনজির দাম বাড়ানোর পর আগামী নভেম্বর থেকে দশ মাসে ৩য় বারের মতো বাড়ছে বিদ্যুতের দাম।
 পাইকারি ও খুচরা দু’পর্যায়েই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। দাম বাড়ানোর জন্য প্রস্তাব দিয়ে প্রস্তাবের পক্ষে সকল ব্যাখা নিয়ে প্রস্তুত পিডিবি। কিন্তু কৌশলগত কারনে দাম বাড়ানোর বিষয়টি আগে থেকে জনগনকে জানানো হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বিইআরসি ও পিডিবির দুই চেয়ারম্যান।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি ও আগস্টে দু’দফা বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। ১০ মাসের মধ্যে তৃতীয় দফা বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত ঘোষণার ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পাবে। চলতি বছরের মধ্যে গ্যাসের দামও আরেক দফা বাড়ানোর আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
বিইআরসি’র চেয়ারম্যান ইউসুফ হোসেন জানান, “খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে কমিশন। কিন্তু কৌশলগত কারণে এ মুহূর্তে তা ঘোষণা করা হচ্ছে না।”
“নভেম্বরের ১ তারিখ থেকে বিদ্যুতের নতুন মূল্যহার কার্যকর করা হবে। বিদ্যুত্ বিতরণের দায়িত্বে নিয়োজিত ৫টি কোম্পানির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে”, বলেন তিনি।
“জ্বালানি তেল ও সিএনজির মূল্য বৃদ্ধির কারণে একটা জনঅসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে—একারনে এখনই বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করা যাচ্ছে না” বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পিডিবি চেয়ারম্যান জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় পিডিবি বিদ্যুতের পাইকারি দাম আরও বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। পিডিবির চেয়ারম্যান আলমগীর কবীর বলেন, “জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার আগেও আমাদের একটি প্রস্তাব দেয়া ছিল। ফার্নেস অয়েলের দাম বাড়ার পরে আমরা রিভাইস করে দিয়েছি। ফুয়েলের দাম বাড়ার কারণে আমাদের খরচ বেড়েছে।”
“গত বছর আমাদের প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি হয়েছে। এ বছর যদি না বাড়ে, তাহলে সেখানে অসহনীয় পর্যায়ে যাবে, যার পরিমাণ হবে সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা” বলেন আলমগীর কবির।
তবে দাম বাড়ানোর জন্য পিডিবির নতুন প্রস্তাব পেয়ে খুশি নন বিইআরসির চেয়ারম্যান সৈয়দ ইউসুফ হোসেন। তিনি বলেন, “এতে বিদ্যুতের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে জটিলতা বাড়বে। এটা ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিতে পাঠাতে হবে। এটা নভেম্বরের আগে করতে চাই না।”
ইউসুফ হোসেন বলেন, “বিদ্যুতের নতুন দাম বাড়ানোর পিডিবির প্রস্তাবের ব্যাখ্যা চাইবেন।”
পিডিবি’র চেয়ারম্যান আলমগীর কবীর জানান, “এমন ব্যাখ্যা দাবি করা হলে তাদের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যাখ্যা দেয়া হবে।”
চলতি বছরের গোড়ার দিকে ফেব্রুয়ারি মাসের ১ তারিখ থেকে ভোক্তা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ৫ শতাংশ বৃদ্ধি করে বিইআরসি। একইসঙ্গে বিদ্যুত্ বিতরণ সংস্থাগুলোর জন্যও পাইকারি দাম ১১ শতাংশ বাড়ানো হয়। মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দিতে গিয়ে তখন কমিশন বলেছে, এ দাম বৃদ্ধি অন্তর্বর্তীকালের জন্য।
ফেব্রুয়ারিতে মূল্যবৃদ্ধির সময় ১০০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়নি। বৃদ্ধি করা হয়নি কৃষি, শিক্ষা, ধর্মীয়, সামাজিক ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুতের মূল্য। একইসঙ্গে ঘোষণা করা হয় যে, ১ আগস্ট থেকে বিদ্যুতের দাম আরেক দফা বৃদ্ধি পাবে।
একসঙ্গে দু’দফা মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা বাংলাদেশের ইতিহাসে এ প্রথম। শুধু তাই নয়, পাইকারি মূল্যবৃদ্ধির জন্য শুনানি করে একইসঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য খুচরা পর্যায়ে মূল্যবৃদ্ধি কার্যকর করাও অভিনব।
ফেব্রুয়ারিতে ৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধির ফলে ১০১ থেকে ৪০০ ইউনিটের ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য দাঁড়ায় ৩ টাকা ৩০ পয়সার স্থলে ৩ টাকা ৪৭ পয়সা। ৪০০ ইউনিটের ঊর্ধ্বে ৫ টাকা ৬৫ পয়সার স্থলে ৫ টাকা ৯৩ পয়সা, ক্ষুদ্রশিল্পে ৪ টাকা ৩৫ পয়সার স্থলে ৪ টাকা ৫৭ পয়সা, বাণিজ্যিক গ্রাহকদের বেলায় ৫ টাকা ৫৮ পয়সার স্থলে ৫ টাকা ৮৬ পয়সা, রাস্তার বাতি ও পানির পাম্পে ব্যবহৃত বিদ্যুতের ক্ষেত্রে ৩ টাকা ৯৮ পয়সার স্থলে ৪ টাকা ১৮ পয়সা, ১৩২ কেভি লাইনে বিদ্যুতের ফ্ল্যাট রেট ৯ টাকা ৭৪ পয়সার স্থলে ১০ টাকা ২৩ পয়সা।
আরইবি’র অধীন ৭০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মূল্য সমিতিভেদে কম-বেশি বেড়েছে।

Post a Comment

0 Comments