Advertisement

রামুতে এক লাখ মানুষের অবর্ণনীয় দূর্ভোগ : পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ছে

কবলিত এগারটি ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক গ্রামের প্রায় চার হাজার পরিবারের প্রায় এক লাখ মানুষকে অবর্ণনীয় দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময় থেকে মাত্র বিশ দিনের ব্যবধানে এখানে দু’বার বন্যার সৃষ্টি হয়। এতে পানিতে ভেসে মারা যান শিশুসহ পাঁচজন।বর্তমানে কিছু কিছু এলাকায় পানি কমতে শুরু হওয়ায় ওইসব এলাকায় খাদ্য ও খাবার পানির সংকট চলছে এবং ডায়রিয়া,কলেরা,আমাশয়সহ পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ জীবানু ছড়িয়ে পড়ছে। বন্যায় রামু- নাইক্ষ্যংছড়ি, রামু- মরিচ্যা, রশিদনগর-ধলিরছড়া,চেইন্দা- রাজারকুল, ঈদগাঁহ- ঈদগড় সড়কসহ প্রায় দশটি আভ্যন্তরীন সড়কে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (৯ আগষ্ট) বিকালে লাকড়ী নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে গর্জনীয়া ইউনিয়নের রাবারড্যাম এলাকায় বন্যার পানিতে ভেসে মারা যান আবু লোকমান (২৫) নামের এক কাঠুরিয়া। তিনি স্থানীয় থোয়াইংগ্যাকাটা গ্রামের আব্দুল আউয়ালের ছেলে। আগের দিন সোমবার রাতে গর্জনীয়া বাজার থেকে ব্যবসা শেষে বাড়ি ফেরার পথে রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি সড়কের জাদিপাড়া সংলগ্ন বিধ্বস্ত অংশে বন্যার পানিতে ভেসে যান লোকাংশু বড়–য়া (৫০)নামের এক মাছ ব্যবসায়ী । প্রায় চৌদ্দ ঘন্টা পর গত মঙ্গলবার বিকালে স্থানীয় ক্ষেনছর ঘোনা বিল থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের উত্তর ফতেখাঁরকুল বড়–য়া পাড়ার মৃত অবশী মোহন বড়–য়ার ছেলে। এর আগে গত ১৬ থেকে ২২জুলাই সাত দিনের বন্যায় এক বছরের শিশু মিনহাজুল আবেদীনসহ তিনজন মারা যান। স্থানীয়রা জানান, গত ৬ আগষ্ট আবার জোরে বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলে বাঁকখালী নদী, রেজু খাল, সোনাইছড়ি ও কালিরছড়া খালে পানি বেড়ে যাওয়ায় উপজেলার ফতেখাঁরকুল সদর রাজারকুল, দক্ষিণ মিঠাছড়ি,কাউয়ারখোপ, রশিদনগর,খুনিয়া পালং, চাকমারকুল, জোয়ারিয়ানালা, গর্জনীয়া, কচ্ছপিয়া, ঈদগড় ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক গ্রামের প্রায় চার হাজার পরিবার বন্যায় প্লাবিত হয়। এসব এলাকায় পানি নামতে শুরু করায় প্রায় এক লাখ মানুষকে অবর্ণনীয় দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এবং বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে নতুন করে রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ছে।রাজারকুল সিকদার পাড়ার বাসিন্দা সরওয়ার কামাল ওরফে সোহেল জানান, প্রায় ছয় দিন পানিবন্দী থাকার পর পানি কমতে শুরু করায় এখন নানা রোগ-জীবানু ছড়িয়ে পড়ছে।ফতেখাঁরকুলের লম্বরীপাড়ার আবুল মঞ্জুর ও শ্রীকুল গ্রামের বাসিন্দা পুলক বড়–য়া জানান, রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি সড়ক, ঈদগড়-ঈদগাঁও সড়ক, তেচ্ছিপুল- অফিসেরচর সড়কসহ উপজেলার প্রায় দশটি আভ্যন্তরীন সড়ক বন্যায় বিধ্বস্ত হওয়ায় প্রায় একলাখ মানুষকে চলাচলে দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।রামু উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পকিল্পনা কর্মকর্তা রতন চৌধুরী জানান,বন্যার কারণে ডায়রিয়া,কলেরা,আমাশয়সহ পানি জাতীয় রোগ ছড়াচেছ বেশী ।এ পরিস্থিতি মোকাবেলার স্বাস্থ্য বিভাগের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে।রামু উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ জাকের উল্লাহ জানান,বর্তমানে রামু উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা চলছে। কিন্তু এ সময়ে অনেকগুলো বিদ্যালয় এবং রাস্তা-ঘাট পানিবন্দী থাকায় বাধ্য হয়ে পরীক্ষা বন্ধ রাখতে হয়। রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) শহীদ মোঃ ছাইদুল হক জানান,বন্যার্তদের জন্য গতকাল বুধবার পনের টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

Post a Comment

0 Comments