Advertisement

বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্কে নতুন অতিথি

মিজবাউল হক, চকরিয়া: 
ঈদের একটানা বন্ধের ছুটিতে পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে বেড়াতে কে না চায়। একটু আনন্দ পেতে প্রকৃতির কাছে সবাই ছুটে যায়। আর সেই বেড়ানোর স্থানটা যদি হয় সাফারি পার্ক,
 তাহলে কেমন হয় ! এবারের ঈদকে সামনে রেখে নতুন রুপে বর্ণিল সাজে সাজিয়েছে ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাফারি পার্ক। ইতোমধ্যে পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রধান ফটক ধুয়া মুচা করে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে পার্ক কর্তৃপক্ষ। পার্কের সামনে নির্মিত হয়েছে আকর্ষণীয় কয়েকটি তোরণ। দেশিবিদেশী পর্যটকরা নির্ভয়ে চলাফেরা করতে বাড়তি নিরাপত্তা নেয়া হয়েছে। পার্কের বাইরের কটেজ গুলো বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটকদের বাড়তি আনন্দ দিতে আনা হয়েছে দেশের একমাত্র নতুন অতিথি সাদা বাঘ। ৫ বছর বয়সের সাদা বাঘটি পর্যটকদের আনন্দ দিতে ভূল করবে না। বিলুপ্ত সাদা প্রজাতির বাঘ দেশের কোন বনাঞ্চলে দেখা যায় না। তবে এ ধরণের সাদা বাঘ ভারতের বনাঞ্চলে মাঝে মধ্যে দেখা যায় বলে পার্ক কর্তৃপক্ষ জানান। দুই মাস পূর্বে সিলেটে ব্যক্তিগত মালিকাধীন মিনি চিড়িয়াখানা থেকে সাদা বাঘসহ বেশ কয়েকটি বন্যপ্রাণী বনবিভাগ উদ্ধার করেছে। পরে বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্কে আনা হয়। সাফারী পার্কে হাসপাতালের একটি কাচায় সাদা বাঘটি রাখা হয়েছে। 
পর্যটকদের ভারে মূখরিত হয়ে উঠবে দেশের একমাত্র ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্কটি। কক্সবাজার জেলার প্রবেশধারেই চকরিয়া উপজেলা ডুলাহাজারা এলাকায় পার্কটি অবস্থিত। পার্কটির সম্মুকে রয়েছে মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য, মুর‌্যাল ও ম্যাপ। পর্যটকরা একনজর ম্যাপ দেখলেই পার্কের ৯৬০ হেক্টর এলাকা দেখার সুযোগ হবে। পুরো এলাকা দেখতে স্থাপিত হয়েছে ১০তলা উচু পর্যবেক্ষণ টাওয়ার। একটু ভেতরে ঢুকলেই পাখীর কোলাহল কিচিমিচির আওয়াজ। পার্কের চারপাশে সবুজ আর সবুজ। পর্যটকদের প্রকৃতির টানে নিয়ে যাবে আরো গভীরে। বড় বড় শত বছরের গর্জন আর বিভিন্ন প্রজাতির গাছগাছালি ও লতা আঁকাবাকা হয়ে রয়েছে। নেই কোন গরম আছে শুধু ঠান্ডা পরশ। দেখলে মনে হবে প্রকৃতি যেন আপন মহিমায় সাজিয়েছে। একটু সামনে গেলেই দেখা যাবে সারি সারি কাঁচায় বন্দি বন্যপ্রাণী ও পাখী গুলো। পর্যটকরা আদর করে বন্দি পাখিদের বিভিন্ন নামে ডাকলেও কেউ সাড়া দেয় না। মানুষ দেখলে ভয়ে কাছে আসে না তারা। দেখতে মোটাসোটা শিং গুলো লম্বা। ভিতরে বিশাল এলাকা জুড়ে অবাধে তাদের বিচরণ। এছাড়াও আরো রয়েছে বাঘ, সিংহ, হাতি, গড়াল, উট পাখী, ওয়াইল্ডবিষ্ট, ময়ূরের বাচ্চা, কুমির, তারকা কচ্ছপ, অজগর, বন গরু, জলহস্তি, ঘুঘু পাখী, সোনালী ফ্রিজেন্ট, টার্কিড মুরগি, ময়না, দূর্লভ প্রজাতীর কবুতর, ভাল্লুক, বিদেশি কুকুর ও বন ছাগল। 
 বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্কের স্থানীয় ইজারাদার একেএম সামশুদ্দিন মাহমুদ লিটন জানান, বন্যপ্রাণী ও পাখী গুলো পর্যটকদের বাড়তি আনন্দ দিচ্ছে। প্রতিদিন দেশবিদেশ থেকে আসা হাজার হাজার পর্যটকরা প্রাণী গুলো ঘুরে ঘুরে দেখছে।

Post a Comment

0 Comments