Advertisement

উখিয়া ভূমি অফিসে গন বদলী,জনমনে স্বস্তি

সরওয়ার আলম শাহীন, উখিয়া:       
উখিয়ায় দুর্নীতির আখড়া হিসেবে পরিচিত ভূমি অফিসে দুর্নীতির অভিযোগে ৩ জন কর্মকর্তাকে অন্যত্র বদলী করা হলেও রহস্যজনক কারনে আলোচিত এক দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা রয়ে গেছেন বহাল তবিয়তে। স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের ম্যানেজের মাধ্যমে তার দুর্নীতি ধামা চাপা দিয়ে উখিয়ায় থেকে যাওয়ার পায়তারা চালাচ্ছে উক্ত কর্মকর্তা।
  জানা গেছে, উখিয়ায় নতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম যোগদানের পর বিভিন্ন ভাবে আলোচিত ও দুর্নীতির আখড়া হিসাবে পরিচিত উখিয়া ভূমি অফিসের কাজকর্ম সম্পর্কে জানতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্নীতির চিত্র ফুটে উঠে। এবং বিভিন্ন স্থানীয় সংবাদপত্র সমুহে কর্মকার্তাদের দুর্নীতির  সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় তিনি  চিন্তিত দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের একে এক বদলী করতে শুরু করেন । নির্বাহী কর্মকর্তার দুর্নীতি বিরোধী অভিযান সকলের প্রসংশা কুড়িয়েছে। বিগত ২ জন নির্বাহী কর্মকর্তা তাদের মেয়াদকালে যা পারেননি তিনি তা এক মাসের মধ্যে করে দেখিয়েছেন।  ইতিমধ্যে আলোচিত ৪ জন কর্মকর্তার মধ্যে কানুনগো শাহনেওয়াজ কুতুবীকে মহেশখালী ভূমি অফিসে, অফিস সহকারী অঞ্জন দাশকে চকরিয়া ইউ এন ও অফিসে, ও নাজির মনিরুল ইসলামকে টেকনাফ ইউএনও অফিসে  বদলী করা হয়েছে। অপর আলোচিত কর্মকর্তা তহসিলদার ফিরোজ আহমদ অজানা কারেণে এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। সুত্রে জানা গেছে, সহকর্মী ৩ কর্মকর্তার বদলী হওয়ার সংবাদে তহসিলদার ফিরোজ নিজের বদলী ঠেকাতে বর্তমানে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। নেমেছেন লাখ টাকার মিশন নিয়ে। কারন তিনি নিজেই অনুমান করতে পেরেছেন বদলী হওয়া সহকর্মীদের ভাগ্য তাকেও বরন করতে হবে। তাই শেষ চেষ্টায় নেমেছেন উক্ত তহসিলদার।  তহসিলদার ফিরোজের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি সার্ভে রিপোর্ট, নামজারি, খাজনা দাখিল থেকে শুরু করে সবকিছুতেই করেন মোটা অংেকের অর্থের লেনদেন। দীর্ঘদিন এসি ল্যান্ড না থাকার ফলে দুর্নীতি পরায়ন কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেপরোয়া আচরনে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী।  জমির নিবন্ধন, খাজনা প্রদান, , নামজারি, খতিয়ান ইস্যু ইত্যাদি সবকিছুর জন্য জনগনকে প্রথমে যেতে হয়  উখিয়া ইউনিয়ন ভুমি অফিসে। এখান থেকে রিপোট দেওয়ার পর কানুনগো সহ উপজেলা ভুমি অফিসের মাধ্যমে যাবতীয় কাজ চুডান্ত হয়। তাই এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এ অফিসে দ্বায়িত্ব পালনরত তহসিলদার ফিরোজ আহমেদ এলাকার জমিজমা সংত্র“ান্ত কাজে আসা জনগনকে একপ্রকার জিম্মি করে রেখেছে। 
অভিযোগ রয়েছে, উখিয়া ভূমি অফিসের দুর্নীতিবাজ কানুনগো শাহনেওয়াজ কুতুবী ষ্ট্যান্ড রিলিজ হয়ে ইতিমধ্যে মহেশখালী ভূমি অফিসে যোগদান করলেও অপর দুর্নীতির গডফাদার অসংখ্য ভূমি জটিলতার হোতা মনিরুল ইসলাম এখনো বদলী কৃত কর্মস্থলে যোগদান করেনি। বরং তিনি কক্সবাজার জেলা প্রসাশক অফিসে অতীতের ন্যায় মোটা অংকের টাকার মিশন নিয়ে নিজের অবৈধ কর্মকান্ড ধামাছাপা দিতে এবং বদলী ঠেকাতে সম্ভাব্য সকল স্থানে তদবির চালাচ্ছে বরে জানা গেছে। এদিকে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহলিদার ফিরোজ আহমদ সরাসরি অর্থ লেনদেনের সাথে জড়িত না হলেও সে তার নিয়োজিত একান্ত সহকারীর মাধ্যমে  এখানে আসা সাধারণ জনগনের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। নিদানিয়া, ইনানী, ছোয়ানখালী থেকে জায়গা জমি সংত্র“ান্ত কাজে আসা ছলিম উদ্দিন, আবছার আলী, আবুল কাসেম, মির আহামদ সহ সবার একই কথা এখানে টাকা ছাড়া কিছু হওয়াতো দুরের কথা ,কেউ কথাও বলেনা।
 খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এখানে  খাজনা প্রদান, নামজারি, খতিয়ান ইস্যু সহ বিভিন্ন  কাজে আসা ব্যাক্তিটি সরাসরি ভূমি অফিসের সংশিষ্ট কর্মকর্তার কাছে গেলে তারা কাজটি না করে তাদের নিয়োজিত সহকারীর নিকট তা পাটিয়ে দেয়। পরিবর্তিতে তার বিশ্বস্ত সহযোগী কন্টাক করার পর কাজগুলো হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে সবকিছু ঠিকমত দেখার জন্য ভূমি অফিসের উক্ত কর্মকর্তা নিয়ম বর্হিভুতভাবে  ২জনকে একান্ত সহকারী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। ঘুষ, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ভূমি অফিসের উক্ত কর্মকর্তার পাশাপাশি আজ  এসব একান্ত সহকারীরা ও লাখ টাকার মালিক বনে গেছে। বিভিন্ন ভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে উখিয়া ভূমি অফিস। এথচ বর্তমান সরকার ঘুষ দুর্নীতি মুক্ত অফিস,আদালত, প্রসাশন জনগনের সামনে উপহার দিতে প্রতিংগা বন্ধ। কিন্তু এসব দুর্নীতি মুক্ত হবে কবে এটাই এখন জনগনের প্রশ্ন ?। এ ব্যাপারে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জহিরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ও তদন্তপুর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোন অনিয়ম ,দুর্নীতি ও জনগনের কষ্ট সহ্য করা হবেনা।

Post a Comment

0 Comments