Advertisement

‘গণ পিটুনীতে পুলিশ নিহত’ এমন খবর যেন না আসে

আবদুল্লাহ নয়ন
আর কতো তাজা প্রাণ গেলে গণপিটুনী বন্ধ হবে। আর কতো মায়ের বুক খালি হলে ডাকাত বলে ছাত্র খুন করা রোধ হবে। বিবেক আর কতো ধর্ষিত হলে পুলিশ একজন নিরীহ মানুষকে জনতার হাতে তুলে দিয়ে খুন করবে না? এসব প্রশ্নের জবাব হয়তো পাওয়া যাবেনা। তবে যেদিন ‘গণ পিটুনীতে ৫ পুলিশ নিহত’ কিংবা ‘২ পুলিশ সদস্য গণধোলাই’র শিকার’ এমন শিরোনামে খবর প্রকাশিত হবে-ঠিক এর পরদিন থেকে ইতিহাস শুরু হবে অন্যরকম।
নোয়াখালীতে ১৬ বছরের তরুণ মিলন। পারিবারিক কাজে মা তাকে পাঠিয়েছিলেন নানার বাড়িতে। বেসরকারী একটি টেলিভিশন রিপোর্ট মতে, জনগণ মিলনকে ডাকাত ভেবে পুলিশের হাতে (জিন্দা) তুলে দিয়েছিলেন। আর পুুলিশ পিকআপ ভ্যানে করে একটু দুরে নিয়ে ডাকাত বলে জনতার মাঝে ছেড়ে দেয়। জনতা ‘মারি হালা’-‘মারি হালা’ বলতে বলতে গণ পিটুনী দেয়। একপর্যায়ে মারা যায় মিলন। অতপর খালি হয় দশ মাস দশ দিন গর্ভে ধারণ করে জন্ম দেয়া এক দরদী মায়ের বুক। এরপর পুলিশ এক জীবন্ত মিলনের লাশ ভ্যানে তুলে নিয়ে মর্গে পাঠান।
ওই পুলিশ কর্মকর্তারা বিবেকের কাছে একবার প্রশ্ন করুক। আজ যদি তাদের কোন সন্তান বা ভাইকে এভাবে গণপিটুনীতে খুন করা হতো। তাহলে ওই পুলিশ ভাইয়েরা বুঝতেন স্বজন হারানোর দুঃখ কতো বিষাদময়। মিলনের আগে সম্প্রতি ঢাকার সাভারের আমিন বাজারে ডাকাত সন্দেহে ৬ ছাত্র নিহত হয়। পুলিশ কয়েকদিন পূর্বে ঢাকার বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া ছাত্র আবদুল কাদেরকে বিনা অপরাধে আটক করে নির্মম নির্যাতন করে। ভাগ্য তার ফেভারে ছিল। অন্যথায় পুলিশ যদি ওই ছাত্রকে ডাকাতত বলে জনগণের হাতে ছেড়ে দিত। তাহলে মিলন এবং সাভারের আমিন বাজারে নিহতের ভাগ্য বরণ করতে হতো কাদেরকে। এসব ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে গণপিটুনীতে নিহতের ঘটনা ঘটলেও পুুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বোদ্ধা মহল মনে করছেন, এসব ঘটনার কোন সু-বিচার না হওয়া এবং অতি উৎসাহী পুলিশ দ্বারা জনগণকে গণধোলাইয়ে উদ্ধুদ্ধ করার কারণে এসব ঘটনা কমছেনা।
মানবাধিকার সংস্থা গুলোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০০৯ সালে ১২৭ জন, ২০১১ সালে ১২৬ জন, ২০১১ সালের জুলাই পর্যন্ত ৮৩ জন। বাংলাদেশ দন্ডবিধি ৩০৪ ধারা অনুযায়ী অনিচ্ছায় গণপিটুনীতে অপরাধের মৃত্যু হলে ১০ বছর কারাদন্ড। আর ইচ্ছাকৃতভাবে গণপিটুনী দিয়ে কাউকে মেরে ফেলা হলে তা খুন বলে বিবেচনা করা হয়। সেক্ষেত্রে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের বিধান রয়েছে।
অথচ দেশের কোথা না কোথাও গণ পিটুনী সহ নানা অপবাদে নিরীহ মানুষ হত্যা অব্যাহত রয়েছে। হত্যার পর মামলা হয়। কিন্তু দোষীরা শাস্তি পায়না। জনপ্রতিনিধিসহ মন্ত্রী-সরকারেরা আশ্বাস দেন অপরাধীদের শাস্তি দেয়ার। তারা ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি। অথচ এসব কিছু দিয়ে আসলে কিছুই হয়নি কখনও। ফলে লংঘিত হচ্ছে মানবাধিকার। এমপি-মন্ত্রীদের নিন্দা ও প্রতিবাদ করাকে আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
ঘটনার প্রতিবাদ কিংবা শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা নয়; অপরাধীদের বিচার ও অতি উৎসাহী ওই পুলিশের দৃষ্টান্ত শাস্তি না হলে এক সময় কথিত ‘গণপিটুনীতে ৫ পুলিশ নিহত’-‘২ পুলিশ সদস্য গণধোলাই’র শিকার’ এমন শিরোনামের খবর পড়ে আমাদের ব্যথিত হওয়া ছাড়া আর কোন পথ থাকবেনা।

Post a Comment

0 Comments