Advertisement

রামুতে প্রবল বর্ষণে ও পাহাড়ী ঢলে আবারো পান্দি হয়ে পড়েছে লক্ষাধিক মানুষ

রামুতে বন্যা শেষ হতে না হতেই আবার পানিবন্দী হয়ে আছে লক্ষাধিক মানুষ। জানা যায়, আমন চাষের উপযুক্ত রোপনের সময়ে বন্যার পানি পুরো এগারটি ইউনিয়নে প্রায় পাঁচশত একর জমি বর্ষার পানিতে তলিয়ে গেছে। রামু নাইক্ষ্যংছড়ি সড়ক রামু মরিচ্যা পুরাতন আরাকান সড়ক সহ বিভিন্ন গ্রামাঞ্জলের রাস্তাঘাটের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। গত টানা বর্ষনে ও পাহাড়ী ঢলে বাকখালী নদীর পানি অস্বাভাবিক বাড়তে শুরু করেছে। সম্প্রতি বন্যায় চাকমার কুল মিস্ত্রিপাড়া বেড়ীবাধ দিয়ে ও ভুতপাড়া সড়কের আগের ভাঙ্গন থেকে পানি প্রবাহিত হয়ে আবারও হাজার হাজার পরিবার পানি বন্দী হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। টানা বর্ষনে রামুর বিভিন্ন বাজার ঐতিহ্যবাহী রামু ফকিরাবাজার, জোয়ারিয়ানালা বাজার, গর্জনিয়া বাজার, নাইক্ষ্যংছড়ি বাজার, এছাড়াও বিভিন্ন গ্রাম গঞ্জের হাট বাজারে ক্রেতাদের দুর্ভোগের অন্ত নেই। পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের নালা ও নর্দমা আবর্জনায় ভরে যাওয়া জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। রামু উপজেলার বিএনপি সভাপতি আহমদুল হক চৌধুরী জানান-বন্যা শেষ হতে না হতেই আবারও পাণিন্দী হয়ে পড়ে রামু জন সাধারণ। রাস্তাঘাট সহ নদীপার্শ্ববর্তী পানি বন্দী হয়ে অসহায় জীবন যাপন করছে অসংখ্য মানুষ। এ মুহুর্তে সরকারীভাবে ত্রান বিতরণ সহ ও বিভিন্ন স্বেচ্চাসেবী সংগঠনের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান তিনি। রামুর সচেতন মহল জানান- এই বারের পানিতে রামুর শিকলঘাট ব্রীজ পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। লম্বরীপাড়া বেড়ীবাঁধ ও সিসি ব্লক সহ বিভিন্ন ইউনিয়নের যেমন রাজারকুল, দেয়াংপাড়া, নয়াপাড়া, দক্ষিণ মিঠাছড়ি, হাইটপি, বৈলতলী, মৈষকুম, চাকঢালা, ফাক্রিয়াকাটা, কাজীরবিল, পশ্চিমপাড়া, মাঝিরকাটা, দোছড়ি, ছাগলকাটা, সিকদারপাড়া, আতিক্কাবিবির, বেড়ীবাধ সিসি ব্লক সহ বেড়ীবাধ গুলো হুমকির মুখে রয়েছে। যেকোন মুহুর্তে বেড়ীবাধ ভেঙে অসংখ্য ঘরবাড়ীও ফসলী জমি চিংড়ী ঘের সহ তলিয়ে যাওয়ার আসঙ্খা রয়েছে। তড়িৎ পানি উন্নয়ন বোর্ড কোন সংস্কার কাজ না করলে এ জন্য দায়ী থাকবে পানি উন্নয়ন বোর্ড। রামুর অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্টান পানিতে নিমজ্জিত অবস্থায় রয়েছে। খোজ নিয়ে আরো জানা যায়, রামুর চাকমারকুল ইউনিয়নের শ্রীমুড়া পুরো এলাকায় চাষাবাদী জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। পাহাড়ী এলাকায় অবস্থানরত অনেক ঘরবাড়ী ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যেকোন মুহুর্তে পাহাড় ধ্বসে দুর্ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে। গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া, নাইক্ষ্যংছড়ি, মনির ঝিল, রশিদনগর, কাউয়ারখোপ, মিঠাছড়ি, রাজরকুলের চৌকিদারপাড়া সহ অনেক পাহাড়ের নিচে বা উপরে বসবাসকারী অসংখ্য অসহায় মানুষ দূবৃত্ত জীবন কাটাচ্ছে। অন্যদিকে রামুর পুরো এগারটি ইউনিয়নের মানুষের পাশপাশি তাদের পোষ্য গৃহপালিত পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছে বন্যার কারণে।

Post a Comment

0 Comments