Advertisement

হুমকির মুখে মহেশখালীর বনাঞ্চল

শাহেদ ইমরান মিজান,মহেশখালী:
প্রতিনিয়ত অবাধে পাহাড় কাটা ও নির্বিচারে বৃক্ষ নিধনের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে মহেশখালীর সংরক্ষিত বনাঞ্চল। পাহাড় কাটা ও বৃক্ষ নিধন অব্যাহত থাকায় দিন দিন সংকুচিত হয়ে আসছে সরকারী বনাঞ্চলের পরিধি। বনাঞ্চল উজাড় হওয়ায় প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র বিলুপ্তির পথে। ফলে দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর প্রতিবেশ ও পরিবেশ বিপর্যয়ের মারাত্মক আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বনবিভাগের জনবল সংকট ও গাফিলতির কারণে প্রতিনিয়ত নির্বিচারে চলছে পাহাড় কাটা ও বৃক্ষ নিধন। এসব সরকারী বনাঞ্চল উজাড়ে দায়ী ভূমিদস্যু, কাঠচোর ও কিছু অসাধু স-মিল মালিক এবং কাঠ ব্যবসায়ীরা। এদের পিছনে বনবিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর যোগসাজেসেরও অভিযোগ রয়েছে।
বিগত দু’দশকে মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের জৈয়ার কাটা, পানিরছড়া,মোহরা কাটা, কালালিয়াকাটা, কেরুনতলী, রাজুয়ার ঘোনা, বড়ছড়া, পুঁইছড়া, হরিয়ার ছড়া, ডেইল্যা ঘোনা, কালামার ছড়া ইউনিয়নের আঁধার ঘোনা, নোনাছড়ি, অফিসপাড়া,নয়া পাড়া, চিকনি পাড়া, ইউনুস খালী, বড়–য়া পাড়া, শাপলাপুরের চালিয়াতলী, সাইটমারা,জেমঘাট, বারিয়াপাড়া, মুকবেকী, ছোটমহেশখালী ইউনিয়নের মুদির ছড়া, লম্বাঘোনা, উম্বোনিয়া, বসিরা খোলা, বড়মহেশখালী ইউনিয়নের দেবেঙ্গা পাড়া, শুকুরিয়া পাড়ার ১৮ হাজার ২৮৬ একর বনভূমির মধ্যে দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে প্রায় ১০ হাজার একর বনভূমি দখল করে নিয়েছে ভূমিদস্যুরা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এসব বনভূমি দখলে নিতে উজাড় করা হচ্ছে সরকারী সৃজিত সেগুন, গর্জন, শাল, গামারিসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ এবং সুউচ্চ পাহাড় কেটে বানানো হচ্ছে সমতল ভূমি। সমতল ভূমিতে পানের বরজ, তরি-তরকারী ও ধান চাষ করা হচ্ছে। সেই সাথে কাঠচোরদের ভয়াল থাবায় প্রতিনিয়ত ন্যাড়া হচ্ছে সামাজিক বনায়নের পাহাড়। বনভূমি উজাড় ও পাহাড় কাটার ফলে হুমকির মুখে পড়েছে দ্বীপাঞ্চলের পরিবেশ। অব্যাহত বন উজাড় ও পাহাড় কাটার কারণে মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্ক প্রকাশ করেছেন পরিবেশবাদীরা।
উপকূলীয় ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শিক্ষাবিদ রশিদ আহামদ চৌধুরী বলেন,‘ একটি দেশের প্রথম এবং প্রধান সম্পদ হচ্ছে বনভূমি। পর্যাপ্ত বনভূমির উপর নির্ভর করে পারিপার্শ্বিক সুস্থ্য পরিবেশ। মহেশখালী দ্বীপ উপজেলা হওয়ায় এমনিতে জলবায়ু হুমকিসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক হুমকিতে রয়েছে; তার উপর চলছে অবাধে বনাঞ্চল উজাড়। এধারা অব্যাহত থাকলে অচিরেই প্রাকৃতিক প্রতিশোধ পর্যবসিত হবে। তাই আমাদের এখনই সচেতন হয়ে বনাঞ্চল উজাড় ঠেকাতে হবে। বনাঞ্চল রক্ষায় ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে। এবং সাথে সাথে বনবিভাগকে সহায়তা করতে হবে। প্রয়োজনে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।’
জনবল সংকটের কারণে বনাঞ্চল উজাড় ঠেকানো যাচ্ছেনা বলে জানান উপকূলীয় বনবিভাগ মহেশখালী রেইঞ্জার বজলুর রহমান। তিনি এ প্রতিনিধিকে বলেন,‘পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় পুরো বনাঞ্চলকে সঠিক রক্ষণা-বেক্ষণ করা যাচ্ছেনা। এ সুযোগে কাঠচোর ও ভূমিদস্যুরা বনাঞ্চল উজাড় করছে। তবে বনাঞ্চল উজাড় কারীদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিগত কয়েক মাসে বেশ কয়েকজন কাঠচোর ও ভূমিদস্যু আটক করা হয়েছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম কাউচার হোসেন বলেন,‘বনাঞ্চল উজাড়কারীরা দেশের শত্র“। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Post a Comment

0 Comments