-সোহবার হোসেন চৌধুরী:
সম্প্রতি কক্সবাজার পৌরসভার যে বেহাল দশা হয়েছে এতে করে পৌরবাসীর মাঝে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে কক্সবাজার পৌরসভার কার স্বার্থে? কিছু দিন আগে দৈনিক হিমছড়িতে প্রকাশিত হয়েছিল কৌশল পাল্টিয়েছে ভূমিদস্যুরা শিরোনামে একটি সংবাদ। উক্ত সংবাদের রেশ যেতে না যেতেই এবার কৌশল পাল্টিয়েছে পৌরসভা।
সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ আগষ্ট১১ কক্সবাজার পৌরসভার সার্বিক উন্ন্য়ন ও পৌরসভার দূর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্তে আসে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের যুগ্ন সচিব। সচিব সফরে আসার আগে শহরের বিভিন্ন স্থানের রাস্তা ভাংগা গুলোর উপরে কিছু কিছু ইট আর বালি দিয়ে তা কোন মতে সচিবের গাড়িটা যেন চলে সে ব্যবস্থা করে পৌর কর্তৃপক্ষ।
জানা যায় , বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় বিভিন্ন শিরোনামে পৌরসভার উন্নয়ন ধংসের বিরুদ্ধে সংবাদের ঝড় নামে। উক্ত সংবাদের আলোকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় থেকে যুগ্ন সচিব তা তদন্তে আসে কক্সবাজারে । এদিকে তদন্তে আসার সংবাদটি আগেভাগে জানতে পারে পৌর কর্তৃপক্ষ। তার পরপরই পত্রিকার মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হয়। আগামী সপ্তাহে শহরে বাজারঘাটাসহ বিভিন্ন স্থানের ভাংগা উয়ন্নয়নের কাজ শুরু হবে। তাতে জেলাবাসী মহাখুশি।
এদিকে পৌরবাসীর চোখে ধুলা দিয়ে লোক দেখানো উয়ন্নয়ন করে পৌর কর্মচারীরা। কিছু কিছু ইট আর বালি দিয়ে কোন রকম সচিব কে কক্সবাজার ত্যাগ করানো যায় সে ব্যবস্থা করে। সূত্রে জানা যায়, জেলার স্থানীয় ও বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকা কক্সবাজারের দূর্নীতি ও রাস্তা ঘাটের বেহাল দশার অবস্থার সংবাদ প্রকাশ করা হয়। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে তা তদন্তে আসেন যুগ্ম সচিব আব্দুল মালেক। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয়নি। সচিব ও শহরবাসীর চোখের সামনে কৌশল পাল্টিয়ে সচিবকে কোন রকম ভুল তথ্য দিয়ে শহর ত্যাগ করায়। বিনিময়ে উক্ত দৈনিক পত্রিকা গুলোকে একটি নাম উপহার দেয় সরকার দলীয় এক জনপ্রতিনিধি। উপহারটি হল যেসব পত্রিকায় সংবাদ ছাপানো হয়েছে সব গুলি নাকি সরকার বিরোধী পত্রিকা। শহরের সব রাস্তা ঠিক রয়েছে। উক্ত কথাটি সচিবকে বিমানে তুলে দেওয়ার সময় ভিআইপি কক্ষে কথাটি বলেন এক সরকার দলীয় নেতা। তখন সাথে সাথে ভারপ্রাপ্ত মেয়র বলে ওঠেন- স্যার ,যদি আবার নির্বাচন হয় তাহলে আমি আবার নিবাচিত হব আমি খুব জনপ্রিয়। এসব আবোল-তাবোল কথা বলে সচিবকে কক্সবাজার থেকে বিদায় করেন তারা। সরকারের সুনাম হয় প্রচারের মাধ্যমে। রাস্তা-ঘাট নষ্ট হলে তা তো পত্র-পত্রিকায় মাধ্যমে সরকারের কাছে জানিয়ে দিতে হবে। ভাংগনের উন্নয়ন হলে সরকারেই তো সুনাম হবে। এদিকে সচেতন মহলের প্রশ্ন একজন সরকার দলীয় জনগনের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি কি শহরের উয়ন্নয়নের কাজ চাই না। এ জাতীয় কিছু নেতার কারণে সরকারের খুব কষ্টে গড়া সুনাম ক্ষুন্নের পথে চলে যায়।
অপরদিকে কক্সবাজার পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র নাকি খুব জনপ্রিয়। তিনি ভুলে গেলেন যে, মাত্র দুই নাকি এক ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন তাতেও প্রচুর সন্দেহ রয়েছে সতেচন মহলের। এদিকে শহরের মানুষ যাতায়াতের সময় কত পাচ্ছে তা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। পৌর বাসিন্দা আবুল হাসেম, মোঃ রফিক, আরমান, মুবিন,আমিন মিয়া ও আব্বাস বলেন পৌরসভার উন্নয়ন বন্ধ রয়েছে অনেক আগে থেকেই। বর্তমানে পৌর কর্মকর্তারা সরকারকে ভুল তথ্য দিয়ে উন্নয়নের নামে উন্নয়ন না করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে জানা যায়। কিছু দিন আগে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় কিছু কলেজ ছাত্রের মাঝে একজন বলে ওঠতে শুনা যায়-আরে পৌরসভা চলছে এমন এক ব্যক্তির দ্বারা, যিনি আজকে কি বার তাও ঠিক মত বলতে পারেন না।

0 Comments