আব্দুর রাজ্জাক,মহেশখালী:
ঈদ মানে খুশির আমেজ । সারা দেশের ন্যায় কক্সবাজারের উপকুলীয় দ্বীপ মহেশখালী উপজেলায় ও ঈদ বাজার গুলো বেশ জমে উঠেছে। বিভিন্ন মার্কেটগুলোতে এবার ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। পুরুষের পাশাপাশি নারী ক্রেতার সংখ্যাও চোখে
পড়ার মতো।ধনী,মধ্যবিত্ত,নি¤œবিত্ত,জেলে,কৃষক,দিনমজুর,ব্যবসায়ীরা যে যার সাধ্যমত কেনা কাটায় ব্যস্ত। রমজানের শেষ সপ্তাহে কেনা-কেটায় ধুম লেগে গেছে গ্রাম গঞ্জে ও।এবার ঈদ পণ্যের মূল্য আকাশ ছোয়া। সে কারণে নি¤œ আয়ের মানুষ স্ত্রী-সন্তানদের মুখে একটু হাসি ফোটানোর আশায় ঈদ বাজার করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে।
সরজেমিন পরির্দশন কালে দেখা যায়,মহেশখালী দ্বীপের প্রধান বানিজ্যিক কেন্দ্র গোরকঘাটা বাজার বিগত কয়েক বছরের মন্ধাভাব কাটিয়ে চাঙ্গা হইতে শুরু করেছে।জানাগেছে, বিগত ৫/৭ বছরে মধ্যে মহেশখালীর বড় রাখাইন পাড়ার মার্কেট গুলো ছিল তরুন তরুনী ও রমনীদের সারা বছর জুড়ে কেনাকাটার প্রানকেন্দ্র ।মহেশখালী পৌরসভার গোরকঘাটা বাজারে নারীদের পছন্দনীয় উল্লেখযোগ্য কোন মাকের্ট বা শতিতাপ নিয়ন্ত্রীত কোন শপিং সেন্টার ছিলনা। যার ফলে রাখাইন মহিলা ব্যবসায়ীরা গ্রাহকদের কাছ থেকে একচেটিয়া ভাবে উচ্ছ দামে বেচা বিক্রি করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়।ফলে এই বছর রাখাইন পাড়ার মার্কেট গুলোর প্রতি সব ধরনের নারী পুরুষ ক্রেতা সাধারন বিমুখ হয়েছেন।এ বছর গোরকঘাটা বাজারে নতুন নতুন শীতাতাপ নিয়ন্ত্রীত শপিং সেন্টার হওয়ায় সব ধরনের ক্রেতাসাধারন এই বাজারের দিকে বেশ ঝুকে পড়েছে ।এ বাজারের একাধিক ব্যবসায়ীরা জানান,অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর তিন/চার গুন বেচা বিক্রি বৃদ্ধি পেয়েছে।স্কুল,কলেজ ও মাদ্রাসা পড়–য়া ছাত্র/ছাত্রীদের রুচি সম্মত পোশাক হল থ্রি-পিচ, আর শিশু কিশোরদের পছন্দ হল বেশি ডিজাইন করা জিন্স পেন্ট। ব্যবসায়ীরা মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রতি বছরের ন্যায় এবছর ও উল্লেখযোগ্য দৃষ্টি নন্দন পোষাকের সমাহার মজুদ করেছে। গোরকঘাটা বাজারের হাজী জালাল শপিং সেন্টারের আল আমিন ক্লথ ষ্টোর,কুদ্দুচ মার্কেট,আল-হোসাইন সুপার মার্কেটের চমক ডির্পাটমেন্টাল ষ্টোর,রাবেয়া মার্কেট, লিটা ষ্টোর, আল হাসান বস্ত্র বিতান, আনাস ক্লথ ষ্টোর,মোশের্দ ফ্যাশন, শারমিন সুজ,সাকিব ষ্টোর,সাত কানিয়া সু ষ্টোর,স্বপ্নপুরী টেইর্লাস,সেঞ্চুরি টেইর্লাস,ষ্টুডেন্ট টেইর্লাস,নক্সী ফ্যাশন, রাখাইন তাতঁ কারখানা, কুয়েত জুয়েলার্স, এবং দিদার মার্কেটসহ বড়ছোট সব খানেই ক্রেতাদের প্রচন্ড ভীড় লক্ষ্যনীয়।বাহারী রং এর পোষাকের পাশাপাশি প্রিয়জনদের দাওয়াত করতে ঈদ কার্ডের দোকানে প্রচুর রমনীদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আল হোসাইন ক্লথ ষ্টোর ও চমকের মালিক মো: ফরিদুল আলম জানান,কাপড়ের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও প্রতি বছরের ন্যায় এ বছর মহেশখালীর ঈদ মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের কমতি নেই। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এটিএম কাউছার হোসেন ও অফিসার্স ইনচার্জ হুমায়ুন কবির জানান, ঈদ মার্কেটগুলোতে ক্রেতা বিক্রেতাদের সুবিধার জন্য পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং বাজারেরর বিভিন্ন জায়গায় নৈশ প্রহরী দিয়ে রাত দিন পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঈদকে সামনে রেখে মহেশখালীতে কোন ধরনের চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম চলতে দেয়া হবে না। সন্ত্রাসী কিংবা চাঁদাবাজির সংবাদ পাওয়া মাত্রই মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নেযা হবে।


0 Comments