Advertisement

চকরিয়ায় গণপিটুনিতে দুর্ধর্ষ ডাকাত নিহত: ডাকাতের গুলি ও হামলায় আহত-৭

মুকুল কান্তি দাশ, চকরিয়াঃ
চকরিয়ায় গণপিটুনিতে নিহত হয়েছে থানার তালিকাভূক্ত এক ডাকাত ও শীর্ষ সন্ত্রাসী। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের দৌলনীঘোনা এলাকায় একটি বাড়িতে ডাকাতি করতে গিয়ে গণপিটুনিতে সে মারা যায়। এদিকে ডাকাত প্রতিরোধে এগিয়ে আসলে ডাকাতেরা এলাকাবাসীর উপর উপর্যপুরি গুলি এবং ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে গুলিবিদ্ধসহ ৭জন গুরুতর আহত হয়। তন্মধ্যে গুলিবিদ্ধ তিনজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ডাকাতের ব্যবহৃত দেশীয় তৈরি একটি দু’নলা বন্দুক, একটি করে কিরিচ, ছোরা ও দুটি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে।  
নিহত ডাকাতের নাম আনোয়ার আলী আনু (২৭)। সে পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের দক্ষিণ ঈদমনি ঘোনা এলাকার হাজি কবির আহমদের পুত্র। ডাকাতের গুলি ও হামলায় আহতরা হলো দৌলনী ঘোনা এলাকার নেছার আহমদের পুত্র কুতুব উদ্দিন (৩০), মৃত ফররুখ আহমদের পুত্র আকবর আহমদ (৬০), তার পুত্র মোহাম্মদ মাসুম (২০), আলী আকবরের পুত্র মোহাম্মদ জমির (৫০), মোহাম্মদ আরিফ (৪৮), মোহাম্মদ রহিম (৫২) ও সিরাজ আহমদ (৪৬)। 
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে ১০-১২ জনের একদল সশস্ত্র ডাকাত দৌলনীঘোনা এলাকার মোহাম্মদ আলমগীরের বাড়িতে ডাকাতি করার উদ্দেশ্যে হানা দিয়ে বাড়ির চারপাশে অবস্থান নেয়। এ সময় আজিজ নামের এক দুর্ধর্ষ ডাকাত আলমগীরের ব্যবহৃত মোবাইলে ফোন করে এক গ্লাস পানি ও একটি সিগারেট চেয়ে দরজা খুলতে বলে। আজিজের কথামতো বাড়ির মালিক সাড়া না দেওয়ায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে দরজার নিচের কিছু অংশ কেটে বাড়ির ভেতরে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে। 
চকরিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ ফরহাদ জানান, ডাকাত প্রতিরোধে স্থানীয় জনতা এগিয়ে এসে আনু ডাকাতকে পাঁকড়াও করে গণপিটুনি দেয়ার সময় অন্যরা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ গণরোষ থেকে ওই ডাকাতকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার মৃত্যু হয়। ওসি জানান, আনু থানার তালিকাভূক্ত ডাকাত ও শীর্ষ সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে ডাকাতি, ডাকাতির প্রস্তুতি, পুলিশ এসল্টসহ অসংখ্য মামলা রয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

Post a Comment

0 Comments