Advertisement

ঈদকে সামনে রেখে মহেশখালীতে চলছে গণ-ডাকাতি ॥আতংকে মানুষ

মহেশখালী প্রতিনিদি: মহেশখালীতে আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে ডাকাতরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন সড়কে চলছে গন ডাকাতি। রাত একটু বাড়লেই ওই সব সড়কে ডাকাতি সংগঠিত হয়। উপজেলার গোরকঘাটা কুতুবজোম ও ঘটিভাংগা সড়ক, শাপলাপুর বালুর ডেইল সড়ক,কালারমারছড়া জনতাবাজার সড়ক ও চাই্ল¬াতলী মাতারবাড়ী সড়কে ডাকাতির ঘটনা নিত্য-নৈমত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিনের বেলাও ঠিকমত এসব এলাকা দিয়ে পথচারী হাঁটা-চলা যায় না। বিশেষ করে উপজেলার ক্রাইমজোন হিসেবে খ্যাত কালারমারছড়া ও মাতারবাড়ী সড়কে আশংকাজনক হারে সড়ক ডাকাতি বৃদ্ধি পেয়েছে। এলাকাবাসীরা জানান, ওইসব এলাকায় সন্ত্রাসী ও ২৫ টি মামলার পলাতক আসামী কালা জাহাঙ্গিরের নেতৃত্বে ৫০/৬০ জনের একটি ডাকাতদল প্রতিদিনই দু’টি স্পটের যে কোন একটি সড়কে একটি না একটি ডাকাতির ঘটনা সংগটিত করছে। আর এসব ডাকাতের সাথে কিছু অসৎ পুলিশের রয়েছে সখ্যতা। কালারমার ছড়ার ডাকাত প্রবণতা এলাকাগুলো হচ্ছে- উত্তর নলবিলা, মাতারবাড়ি সড়কের চিতাখোলা সংলগ্ন এলাকা এবং শাপলাপুর ষাটমারা সড়ক এলাকা উলে¬খযোগ্য। উলে¬খিত স্পটগুলোর মধ্যে কালারমারছড়া সন্ত্রাসের জনপদ এলাকার স্পটে রাত-দিন ঈদকে সামনে রেখে ঘরমুখী মানুষ গণডাকাতির শিকার হচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, মহেশখালীর ৩লক্ষাধিক জনগণের একমাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থা উত্তর নলবিলা এলাকার সড়কগুলোতে এখন আতংকিত জনপদ হয়ে মহেশখালীর জনগণকে অতিষ্ট করে তুলেছে। বার বার গণ ডাকাতের কবলে পড়ে ডাকাত আক্রান্তে শিকার হওয়া সাম্প্রতিক সময়ে মহেশখালীর কালারমার ছড়া সড়কগুলোতে সংঘবদ্ধ অস্ত্রধারী ডাকাত দলের নিরাপদ চরন ভূমিতে পরিনত হয়েছে। বর্তমানে সড়কগুলোতে ডাকাতদল তাদের হানা অব্যাহত রেখেছে। জানা গেছে, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহনের পর কিছুদিন ডাকাতির প্রবণতা কমে গেলেও সাম্প্রতিক সময়ে বিগত সময়ের মত ঈদকে সামনে রেখে ডাকাত দলের আনাগোনা আশংকাজনকহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। জানা গেছে, গত ৩০ জুলাই শনিবার দিবাগত রাত ১টার সময় উত্তর নলবিলা সড়কে ডাকাতদল ডাকাতি করার সময় কালারমারছড়া ফাঁড়ির পুলিশের একটি টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছলে ডাকাতরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি করে পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টাগুলি ছোঁড়ে । এসময় পুলিশ এবং ডাকাতদের মধ্যে ঘন্টা ব্যাপী বন্দুক যুদ্ধ হয়। ডাকাতদের গুলিতে ফাঁড়ি পুলিশের নায়েক ঝন্টু চাকমাসহ ৩ পুলিশ কনস্টেবল গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়। ২দিনের ব্যবধানে একই কায়দায় গত ৩ আগস্ট উত্তর নলবিলা সড়কে দিন-দুপুরে একাধিক দুর্ধষ ডাকাতি সংঘটিত হয়। পরদিন সকাল ১০টার সময় মহেশখালী থানার ওসি হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে একদল পুলিশ দুপুর ২টার সময় নলবিলা এলাকার টেইট্টা ঘোনা থেকে ডাকাতের সাথে জড়িত সন্দেহে ৪জনকে আটক করে। আলোচিত ২দিন ডাকাতি সংগঠিত হওয়ায় এ সড়কে চলাচলরত লক্ষাধিক জনগণকে ডাকাত আতংকে ভাবিয়ে তুলেছে। একাধিক ডাকাত থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেও আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে ফের ডাকাতি করে। উলে¬খিত সড়কের পার্শ্বের পাহাড়ী এলাকা হওয়ায় ডাকাত দল ডাকাতি সংঘটিত করে নির্বিঘেœ গা ঢাকা দেয়। জানা যায়,গত বছর ঈদের ২০দিন আগে এবং ঈদের দিন কালারমারছড়া ও মাতারবাড়ীর উলে¬খিত সড়কে উপর্যপুরি ডাকাতি সংগঠিত করে যাত্রী সাধারণের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকার মালামাল ও নগদ টাকাসহ সর্বস্ব লুটে নেয়। অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে অস্ত্রধারী ডাকাতদলের নির্দয় প্রহারে আহত হয় শত শত যাত্রী সাধারণ। ঈদের আগের রাতে কালারমারছড়া সড়কে চট্টগ্রাম থেকে দেশের বাড়িতে ঈদ করতে আসা এক গৃহবধুর ৪ভরি স্বর্ণালংকারসহ ঈদের কাপড় ও মূল্যবান জিনিস পত্র লুট করে নেয় ডাকাত দলের সদস্যরা। একই দিনে মাতারবাড়ীর বাসিন্দা দুবাই প্রবাসী লক্ষাধিক টাকার মালামাল নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ডাকাতদের কবলে পড়ে সর্বস্ব খুইয়ে হয়েছে পথের ভিখারী। ডাকাত দলের চুরিকাঘাতে অনেকে বরণ করেছে চির পঙ্গুত্ব্, প্রাণ হারিয়েছে অনেকে অকালে। তাই ওসব সড়কগুলোতে প্রশাসনের নজরদারী প্রয়োজন। এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে নবাগত পুলিশ সুপার সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর এ প্রতিবেদককে জানান, থানা পুলিশ কয়েকবার অভিযান চালালে ছোট-খাটো ও কয়েকজন ডাকাত গ্রেফতার হলেও কালারমারছড়ার উত্তর নলবিলা এলাকার পার্শ্বে গহিণ পাহাড় থাকায় প্রকৃত ডাকাতদের আটক করতে পুলিশ সক্ষম হচ্ছেনা, তবে এলাকার লোকজন সহযোগীতা করলে পুলিশ প্রকৃত ডাকাতদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হবে।

Post a Comment

0 Comments