, কক্সবাজারকে একটি আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নের কাজ হাতে নেয়া হয়েছে। নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর এ মাস্টার প্লান প্রণয়ন করছে। তিনি বুধবার সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্যে নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের অপু উকিলের এক প্রশ্নের উত্তরে একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাস্টার প্লানে কক্সবাজার শহর, কক্সবাজার হতে টেকনাফ পর্যন্ত সমুদ্র সৈকত, মহেশখালী উপজেলা শহর ও সেন্টমার্টিন দ্বীপ প্রকল্পএলাকার অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আগামী ২০ বছরের জন্য অর্থাৎ ২০১০ থেকে ২০৩০ সালপর্যন্ত প্রায় ৮০ হাজার একর জায়গার পরিকল্পিত ভূমি ব্যবহার নিশ্চিতকরণের নিমিত্তে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, মাস্টার প্ল্যানের আওতায় কক্সবাজার শহরের স্ট্রাকচার প্ল্যান ও এ্যাকশন এরিয়া প্ল্যান প্রণয়ন, কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ইকোট্যুরিজম এলাকার স্ট্রাকচার প্ল্যান ও এ্যাকশন এরিয়া প্ল্যান তৈরি, কক্সবাজার শহর, কক্সবাজার শহর থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সমুদ্র সৈকত, মহেশখালী উপজেলা শহর ওসেন্টমার্টিন দ্বীপের ভূমির সর্বোচ্চ ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণের জন্য নীতিমালা তৈরি, কক্সবাজার এলাকায় বীচ ট্যুরিজম, কালচারাল ট্যুরিজম, রিক্রিয়েশনাল ট্যুরিজম, সিটি বেজড ট্যুরিজম ও ইকো ট্যুরিজমের জন্য উপযুক্ত এলাকা চিহ্নিতকরণ এবং ট্যুরিজমের বিকাশ ও টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা ও কৌশল প্রণয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ ও পরিবেশগত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়ন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত প্রায় ১২০ কিলোমিটারের উপরে হলেও মাত্র ৭-৮ কিলোমিটারে পর্যটকগণ যাতায়াত করে থাকেন। শেখ হাসিনা বলেন, সমুদ্র সৈকতে পর্যটক আকর্ষক স্পটগুলোর মধ্যে লাবনী, কলাতলী, সুগন্ধা, শৈবাল, হিমছড়ি, ইনানী উল্লেখযোগ্য। স্পটগুলোতে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের লাবনী হোটেলটি লাবনী পয়েন্টে, শৈবাল ও উপল হোটেল দুটি শৈবাল পয়েন্টে রয়েছে। এছাড়া বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় লাবনী পয়েন্টেঅভিসার, মিশুক, কল্লোল, কলাতলী পয়েন্টে সী-ক্রাউন, সী-প্যালেস, লংবীচ, সুগন্ধা পয়েন্টে সুগন্ধা, সীগাল, প্রাসাদ প্যারাডাইস, ইনানী পয়েন্টে প্যাবেল স্টোন, মারমেইড ইকোরিসোর্ট এবং হিমছড়িতে বাংলাদেশ আর্মি পরিচালিত একটি ট্যুরিস্ট স্পট রয়েছে। কক্সবাজারে প্রায় ১০৩টি হোটেল-মোটেল, রেস্ট হাউজ ইত্যাদি পরিচালিত হচ্ছে। শেখ হাসিনা বলেন, কক্সবাজার বাংলাদেশের অন্যতম সী-বীচ টাউন এবং পৃথিবীর দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্র সৈকত হিসেবে সুপরিচিত। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজার এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, আর্থিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, বাসস্থান, উন্মুক্ত স্থান, শিা, স্বাস্থ্য, বিনোদনে নিয়োজিত বিভিন্ন সরকারি ও আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জন্য স্ট্যান্ডার্ড ডিজাইন করা। ওয়াস্ট ম্যানেজমেন্ট এর জন্য ড্যাম্পিং গ্রাউন্ড চিহ্নিত করা, ইটিজেড এর জন্য টেকনাফে স্থান চিহ্নিত করা, বীচ এরিয়াতে ওয়াচ টাওয়ার এর লোকেশন নির্ধারণ করার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া পর্যটনের উন্নয়নের জন্য ক্যাবল কার, রেলওয়ে,মনোরেল ইত্যাদির প্রভিশন রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, কক্সবাজারের মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নের কাজটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। মাস্টার প্ল্যান সম্পন্ন হওয়ার পর সে অনুযায়ী কক্সবাজারের পর্যটন স্পটগুলোর আধুনিকায়নের ব্যাপক উন্নয়ন গ্রহণ করা হবে। উক্ত উন্নয়ন কাজ সম্পাদনের নিমিত্ত ইতোমধ্যে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ(কউক) গঠনের বিষয়টিও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, পর্যটনকে পরিবেশ বান্ধব করার জন্য উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে বাংলাদেশের বঙ্গোপসাগরের ১২০ কি.মি. দৈর্ঘ্যের সমুদ্র সৈকতটির সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও পরিবেশ বান্ধব করার জন্য বন অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়নে কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত দীর্ঘ সৈকতে প্রথম ঝাউ বাগান সৃজন করা হয়। বর্তমানে সৈকতের পাহাড়ী এলাকাএবং ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির অংশ ছাড়া অবশিষ্ট প্রায় ৫০ কি.মি. এলাকা জুড়ে ঝাউ বন বিদ্যমান রয়েছে। উক্ত ঝাউ বন পর্যটক আকর্ষণের পাশাপাশি সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড়ের প্রকোপ থেকে সৈকত সংলগ্ন এলাকাবাসীর জীবন ও সম্পদ রা করে চলেছে। বর্তমানে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে আরো ১২ হাজার ৫শ টি ঝাউ চারা রোপণের কাজ চলছে। তিনি বলেন, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে পরিবেশ দূষণ ও ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র সংরণের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ইউএনডিপির আর্থিক সহায়তায় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং কিছু প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।
নয়ন কক্স নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন


0 Comments