নয়ন কক্স নিউজ ডেস্ক:
মহেশখালীতে বয়লার(হাওয়ার ট্যাংকি) বিস্ফোরনে ঘটনাস্থলেই দুই জন নিহত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার পৌরসভার গোরকঘাটা বাজারে।
ঘটনার বিবরন ও প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা যায়, গতকাল বুধবার দুপুর দেড় ঘটিকার সময় মহেশখালী পৌর এলাকার গোরকঘাটা বাজার সংলগ্ন ডাকবাংলোর র্পাশ্বে পুরাতন হাসপাতালের সামনে ছোট মহেশখালী তেলী পাড়া এলাকার বার্মাইয়া আতাউর রহমানের মালিকানাধীন ওয়ার্কশপের হাওয়ার ট্যাংকি বিকট শব্দে বিস্ফোরন হয়ে তার ১১ বছরের অবুঝ শিশু মনির ও পথচারী ছোট মহেশখালী ঠাকুরতলা এলাকার ছাচী রাম দের পুত্র বিজয় রাম দে প্রকাশ বান্ডু(৪০) ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায়। ঘটনার পর পরই উপজেলা নির্বাহী অফিসার এটিএম কাউছার হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরন করেন। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, বিগত ৪/৫ বছর আগে বিআইটি এর জাহাজের সামুদ্রিক ৫ টন ওজনের এই বিশাল বয়াটি সাগরে ভাসমান অবস্থায় পেয়ে ছোট মহেশখালী মুদিরছড়ার জনৈক আবুছৈয়দ বহদ্দারের ছোট ভাইয়ের মাছ ধরার ফিশিং ট্রলার উক্ত বয়াটিকে নিয়ে আসে এবং তা মুদিরছড়া খালের পার্শ্বে রাখে। পরর্বতিতে র্দীঘ ৫ বছর ওই বয়াটি পরিত্যক্ত থাকার পর সম্প্রতি ছোট মহেশখালী ইউপি নির্বাচন হলে দক্ষিন নলবিলার রবিউল হোসেনের পুত্র সিরাজুল মোস্তফা বাশী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয় এবং চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদানের পর পরই এই সরকারী বয়াটিকে পরিষদের প্যাডে লিখিতভাবে নাম মাত্র টেন্ডার দেখিয়ে আতাউর রহমান নামক এক বার্মায়ার কাছে ১০হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন। পরে ৫ টন ওজনের বয়াটি ওই ওর্য়াকসপ মালিক বর্মাইয়া আতাউর রহমান মুদিরছরা থেকে নৌপথে সেটিকে গোরকঘাটা বাজারের পুরাতন হাসপাতাল সংলগ্ন তার ওর্য়াকশপে নিয়ে আসে। সে বিশাল বয়াটিকে ঘষে মেঝে সেখানে ছিদ্র করে হাওয়ার ট্যাংকি বানায় । পরবর্তিতে বিভিন্ন গাড়িতে হাওয়া দেওয়ার জন্য বয়াটিতে হাওয়ার মেশিন সংযোগ করে ৩/৪ দিন যাবৎ বিরতিহীন ভাবে হাওয়া দিতে থাকলে হাওয়া বেশী হয়ে যাওয়ায় গতকাল দুপুরে বিকট শব্দে ট্যাংকটি বিস্ফোরিত হয় এবং ঘটনাস্থলেই দুইজনের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর পরই ওর্য়াকসপ মালিক বর্মাইয়া আতাউর রহমান পালিয়ে গেছে।
সচেতন মহলের অভিমত চেয়ারম্যানের খামখেয়ালীপনা ও টাকার লোভের কারণেই অকালেই ঝরে গেল দুটি তরতাজা প্রাণ। চেয়ারম্যান যদি উক্ত বয়াটি বিক্রি না করতেন তাহলে এত বড় দূর্ঘটনাটি ঘটত না । এলাকাবাসী এই হত্যাকান্ডের সুষ্ট বিচার দাবী করছেন।
এ ব্যাপারে ছোট মহেশখালী ইউপি চেয়ারম্যান সিবরাজুল মোস্তফা বাশীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি টেন্ডারের কথা স্বীকার করে বলেন -আমি প্রথমে টেন্ডার দিয়েছিলাম পরে তা বাতিল করা হয়েছে।


0 Comments