সুমাইয়া ফেরদৌস, চকরিয়া : চকরিয়া উপজেলার বদরখালী থেকে ছালেহ আহমদ
(৫২) নামের এক বড় ঋন খেলাপীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। গত ১৬ আগষ্ট বিজ্ঞ
আদালত তার জামিন আবেদন নাকচ করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে। তার বিরুদ্ধে
বাংলাদেশ ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংক থেকে বিভিন্ন ভুয়া প্রকল্প ও কোম্পানীর
নাম দিয়ে প্রায় ৮ কোটি টাকা আত্মসাত করার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে
জানা যায়; বদরখালী ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের মাতারবাড়ি পাড়ার মরহুম
হাজী ছদর আহমদের পুত্র ছালেহ আহমদ সোনালী ব্যাংক বদরখালী শাখা থেকে একটি
কোম্পানির নাম দিয়ে ১ কোটি ১৫ লাখ ঋন নেন। ওই ঋন তিনি নিজের নামে ও তার
ছেলে মেয়েদের নামে জায়গা সম্পত্তি ক্রয় করে নেন। নিদির্ষ্ট সময়ে ওই
টাকা পরিশোধ না করে তিনি এখন ওই ব্যাংকের কাছে ঋন খেলাপী। তিনি ওই মামলায়
গত ১৬ আগষ্ট গ্রেফতার হয়ে এখন শ্রী ঘরে রয়েছেন। এ ছাড়াও আল ছদর সী ফোর্স
লিমিটেড়ের নাম দিয়ে শাহারবিলের জনৈক ছাবের আহমদকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক
দেখিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পেকুয়ার করিয়ারদিয়া মৌজায় একটি ভূয়া
মিঠা পানির প্রকল্পের নামে ২ কোটি ১৫লাখ টাকার ঋণ গ্রহন করেন। সংশ্লিষ্ট
সুত্র জানায়; করিয়ারদিয়া এলাকায় এ ধরণের ও এ নামের কোন মিঠা পানির
প্রকল্প নেই। শুধু মাত্র কাগজপত্র বানিয়ে এই ঋনের টাকা তুলে ছাবের আহমদ ও
তার নিজের স্ত্রী ও ছেলে মেয়ের নামে ব্যাংকে জমা রাখে। যে প্রলল্পটি
দেখিয়ে এ ঋন নেয়া হয়েছে ওই চিংড়ি প্রকল্পটির মালিক মরহুম হাজী ছদর আহমদ
সিকদার। যার ১০ জন ওয়ারিশ রয়েছে। বদরখালীর জসিম উদ্দিন করিয়ারদিয়া
আকোয়া ট্রাষ্ট চিংড়ি উৎপাদন কেন্দ্র নাম দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে
আড়াই কোটি টাকার ঋন নেন। ওই নামের কোন প্রকল্প করিয়ারদিয়া এলাকায় নেই।
শুধুমাত্র কাগজপত্র বানিয়ে আত্মসাত করার উদ্যেশে ওই ঋন নেয়া হয়েছে।
কক্সবাজার বাস টার্মিনাল এলাকায় সাদ্দাম প্লাওয়ারমিল নাম দিয়ে সোনালী
ব্যাংক কক্সবাজার শাখা থেকে ৮৫ লাখ টাকার ঋন নেয়। অথচ ওই মিলটি এখন বন্ধ
রয়েছে। ওই ঋনের জন্য সাদ্দাম প্লাওয়ার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের
বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এলাকাবাসি জানায় ছালেহ আহমদের বিরুদ্ধে আয় কর
ফাকির ২টি মামলা, বিদ্যুত বিল খেলাপীসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এ ছাড়াও
ছালেহ আহমদের বিরুদ্ধে তার ১০ ভাই বোনের মধ্যে তিনিই বেশীরভাগ সম্পত্তি
নানা কৌশলে আত্মসাত করে আসছেন। এ ব্যাপারের ছালেহ আহমদ ব্যাংকের ঋন খেলাপীর
কথা স্বীকার করে জানান; তাকে তার নিকট আত্মীয় স্বজনই ধরে দিয়েছে।

0 Comments