Advertisement

তারেক মাসুদদের দুর্ঘটনার কারণ ৪টি

গত ১৩ আগস্ট মানিকগঞ্জে দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া তারেক মাসুদ-মিশুক মুনীরদের ওই দুর্ঘটনার পেছনে চারটি সম্ভাব্য কারণ খুঁজে পেয়েছে তদন্ত কমিটি। এছাড়া নবীনগর-পাটুরিয়া মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করারও সুপারিশ করে তদন্ত কমিটি।বাংলানিউজের হাতে আসা তদন্ত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।তদন্তকারী
দলের প্রধান আরিফুর রহমান সোমবার সন্ধ্যায় বাংলানিউজকে বলেন, বিরুপ আবহাওয়া, বাসের গতি, মাইক্রোবাসের অবস্থান ও চালকদের অসতর্কতা- এই চারটি সম্ভাব্য কারণের ব্যাখ্যা করা হয়েছে প্রতিবেদনে।তিনি বলেন, ‘দুর্ঘটনা যদিও বৃষ্টিপাত ও চালকদের অসতর্কতাকে মূল কারণ বলা যায়, তবে এর জন্য সম্ভাব্য চারটি কারণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।’ 

তদন্ত প্রতিবেদনে সড়কের ওপর ১৪টি সুপারিশ করা হয়েছে। তবে ওই সড়কের নির্মাণ নকশায় ‘তেমন কোনও ত্রুটি’ খুঁজে পায়নি তদন্ত কমিটি।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) প্রধান প্রকৌশলীর কাছে প্রতিবেদনটি জমা দেওয়া হয়।

মানিকগঞ্জের ঘিওরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের জোকা এলাকায় গত ১৩ অগাস্ট ওই দুর্ঘটনায় মাইক্রোবাসের আরোহী চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ, এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশফাক মুনীরসহ পাঁচ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়া তারেক মাসুদের স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ, চিত্রশিল্পী ঢালী আল মামুন, তার স্ত্রী দিলারা বেগম জলিসহ পাঁচজন আহত হন। ওই দুর্ঘটনায় মাইক্রোবাসের চালক মুস্তাফিজ সেখানেই মারা যান।

দুর্ঘটনার পর যোগাযোগ মন্ত্রীর নির্দেশে তদন্ত কমিটি গঠন করে সওজ।

সওজের ঢাকা বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আরিফুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটির অপর সদস্যরা হলেন সওজের সড়ক নিরাপত্তা বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কামরুল হক এবং মানিকগঞ্জ সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ উদ্দিন খান। কমিটি পরে এনভারনমেন্টাল রির্সাচ এন্ড এপ্লিকেশন সোসাইটির জ্যেষ্ঠ গবেষক আশরাফুল আলম রতনকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃষ্টির বিবেচনায় বাস ও মাইক্রোবাস উভয়েই বেশ দ্রুতগতিতে চলছিল। ওই আবহাওয়ায় এতো গতিতে বাস চালানো এমনিতেই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

মাইক্রোবাসের চালক তার সামনের গাড়ির খুব পেছনে পেছনে যাচ্ছিল, যা না করে তার উচিত ছিল ‘একটি বড় দুরত্ব তৈরি করে যাওয়া।’

ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে তদন্ত প্রতিবেদনে স্বল্প মেয়াদে ৬, মধ্য মেয়াদে ৫ ও দীর্ঘ মেয়াদের ৩ দফা সুপারিশের উল্লেখ করা হয়।

স্বল্পমেয়াদী সুপারিশে চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধি, ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগ, চালকদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখা, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালনা রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, রাস্তার ‘সাইন ও মার্কিং’ সম্পর্কে চালকদের জ্ঞান ‘মাঝে-মধে’ পরীক্ষা করা এবং মহাসড়কের দুই পাশে দৃশ্যপথে বিঘœ ঘটায় এমন সাইনবোর্ড বা বিলবোর্ড সরিয়ে ফেলার সুপারিশ করা হয়।

মধ্যমেয়াদী সুপারিশে চালকদের লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে আরো সতর্কতা অবলম্বন এবং বাঁকগুলোতে সড়কের প্রশস্ততা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে।

দীর্ঘ মেয়াদে চালকদের জন্য ড্রাইভিং বিষয়ে এসএসসি সমমানের পরীক্ষা চালু এবং ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের নবীনগর থেকে পাটুরিয়া ঘাট পর্যন্ত এলাকা চার লেনে উন্নীত করার সুপারিশ করেছে।

তদন্ত দল ৯ জনের সাক্ষাৎকার নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেছে। তারা হলেন, স্থানীয় এলাকাবাসী বিপ্লব চক্রবর্তী, মনির শফি ও ইকবাল আহমেদ মোক্তার; ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রইস উদ্দিন,  মানিকগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাংবাদিক গোলাম সারোয়ার সানু, চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্সের বাসযাত্রী (এ-৪ আসনের) নাঈম আহমেদ বাপ্পি, রূপক. ই-১ আসনের যাত্রী মফাককারুল ইসলাম নোমান; মাইক্রোবাসযাত্রী সাইদুল ইসলাম।৪ কারণের ব্যাখ্যা:
বিরূপ আবহাওয়ার ব্যাখ্যা দিয়ে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, বাস এবং মাইক্রোবাসের যাত্রীর ভাষ্যমতে দূর্ঘটনা সময়কালে মুষুলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল। যার দরুন যাত্রীদের পাশে থাকা জানালাগুলো ঘোলা ছিল। তবে সামনের গাস ওয়াইফার দ্বারা দ্রুত পরিস্কার করা হচ্ছিল। এমন আবহাওয়ার সময় দৃষ্টিসীমা (Visibility distance) স্বভাবতই কমে যায় এবং চালক ব্রেক করিলেও তার কার্যকারিতা কম হওয়ার কথা।

বাসের গতি:
সাধারণত স্বাভাবিক আবহাওয়ায় এবং নিবিঘ্নে চললে একটি বাসের গাবতলী বাসস্ট্যান্ড হতে পাটুরিয়া ঘাট পর্যন্ত পৌঁছাতে সময় লাগে ২ ঘন্টা। ৪ জন বাস যাত্রীর ভাষ্যমতে জানা যায় যে, গাবতলী থেকে বাসটি আনুমানিক ১০.৪০ মিঃ এ চুয়াডাঙ্গার উদ্দেশ্যে ছেড়ে সাভার বাজারে ১০-১৫ মিনিট যানজটে আটকে থাকে এবং মাত্র ১ ঘন্টা ৩০ মিনিটে দূর্ঘটনাস্থলে পৌছায়। অর্থাৎ বাসটি মুষুলধারে বৃষ্টির মধ্যেও স্বাভাবিকের চাইতে বেশি গতিতে চলছিল। বাস যাত্রীদের তথ্য সূত্রে অনুমান করা যায় যে, বাসটির গতি ছিল আনুমানিক ৭০ কিমি/ঘন্টা, যাহা ঐরূপ আবহাওয়ায় গাড়ী চালানোর জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

৪ কারণের ব্যাখ্যা:
বিরূপ আবহাওয়ার ব্যাখ্যা দিয়ে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, বাস এবং মাইক্রোবাসের যাত্রীর ভাষ্যমতে দূর্ঘটনা সময়কালে মুষুলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল। যার দরুন যাত্রীদের পাশে থাকা জানালাগুলো ঘোলা ছিল। তবে সামনের গাস ওয়াইফার দ্বারা দ্রুত পরিস্কার করা হচ্ছিল। এমন আবহাওয়ার সময় দৃষ্টিসীমা (Visibility distance) স্বভাবতই কমে যায় এবং চালক ব্রেক করিলেও তার কার্যকারিতা কম হওয়ার কথা।

বাসের গতি:
সাধারণত স্বাভাবিক আবহাওয়ায় এবং নিবিঘ্নে চললে একটি বাসের গাবতলী বাসস্ট্যান্ড হতে পাটুরিয়া ঘাট পর্যন্ত পৌঁছাতে সময় লাগে ২ ঘন্টা। ৪ জন বাস যাত্রীর ভাষ্যমতে জানা যায় যে, গাবতলী থেকে বাসটি আনুমানিক ১০.৪০ মিঃ এ চুয়াডাঙ্গার উদ্দেশ্যে ছেড়ে সাভার বাজারে ১০-১৫ মিনিট যানজটে আটকে থাকে এবং মাত্র ১ ঘন্টা ৩০ মিনিটে দূর্ঘটনাস্থলে পৌছায়। অর্থাৎ বাসটি মুষুলধারে বৃষ্টির মধ্যেও স্বাভাবিকের চাইতে বেশি গতিতে চলছিল। বাস যাত্রীদের তথ্য সূত্রে অনুমান করা যায় যে, বাসটির গতি ছিল আনুমানিক ৭০ কিমি/ঘন্টা, যাহা ঐরূপ আবহাওয়ায় গাড়ী চালানোর জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

মাইক্রোবাসের অবস্থান:
বাস যাত্রীদের ভাষ্যমতে মাইক্রোবাসটি একটি বাস অথবা ট্রাকের পিছনে পেছন-পেছন যাচ্ছিল এবং দুর্ঘটনা কবলিত মাইক্রোবাসটি রাস্তার ডান বাঁক (Visibility distance) অতিক্রম করছিল। এমন অবস্থায় বিপরীত দিক হতে আগত যানবাহন দৃষ্টিগোচর হয় না, তার উপর মুষুলধারে বৃষ্টি থাকায় মাইক্রোবাস চালকের রাস্তার ডান বাঁকে (Right turn) থাকা দ্রুতগামী বাসটি সুস্পষ্ট দৃষ্টি গোচর হচ্ছিল না। দূর্ঘটনা কবলিত বাসটিও বাস/ট্রাকের পিছনে থাকা মাইক্রোবাসটিকে হয়তো দেখতে পাচ্ছিল না। দূর্ঘটনা কবলিত বাসটি মাইক্রোবাসের সামনে থাকা বাস / ট্রাককে অতিক্রম করার পর মুহূর্তেই আকস্মিক ভাবে ছোট মাইক্রোবাসটিকে দেখতে পায় এবং বাঁক ও গতির কারণে মাইক্রোবাসের সহিত সংঘর্ষ ঘটায়।

চালকের অসতর্কতা:
বাসযাত্রীর তথ্যমতে প্রতীয়মান হয় যে দূর্ঘটনা কবলিত বাসটির গতি ছিল আনুমানিক ৭০ কিঃ মিঃ/ঘন্টা। মুষলধারে বৃষ্টি এবং বাঁক অতিক্রম করার সময় এই গতিতে গাড়ি চালানো এবং বিপরীত দিক হতে আগত বাস / ট্রাকের পিছনে আরও গাড়ি থাকতে পারে এমন চিন্তা না করা বাস চালকের অসতর্কতা প্রমাণ করে। বাস / ট্রাকের পিছনে থাকা মাইক্রোবাসের চালক একটি বড় দূরত্ব (এধঢ়) তৈরি করে পিছনে পিছনে যাওয়া উচিত ছিল।

বাস যাত্রীদের ভাষ্যমতে মাইক্রোবাসটি একটি বাস অথবা ট্রাকের পিছনে পেছন-পেছন যাচ্ছিল এবং দুর্ঘটনা কবলিত মাইক্রোবাসটি রাস্তার ডান বাঁক (Right turn) অতিক্রম করছিল। এমন অবস্থায় বিপরীত দিক হতে আগত যানবাহন দৃষ্টিগোচর হয় না, তার উপর মুষুলধারে বৃষ্টি থাকায় মাইক্রোবাস চালকের রাস্তার ডান বাঁকে (Right turn) থাকা দ্রুতগামী বাসটি সুস্পষ্ট দৃষ্টি গোচর হচ্ছিল না। দূর্ঘটনা কবলিত বাসটিও বাস/ট্রাকের পিছনে থাকা মাইক্রোবাসটিকে হয়তো দেখতে পাচ্ছিল না। দূর্ঘটনা কবলিত বাসটি মাইক্রোবাসের সামনে থাকা বাস / ট্রাককে অতিক্রম করার পর মুহূর্তেই আকস্মিক ভাবে ছোট মাইক্রোবাসটিকে দেখতে পায় এবং বাঁক ও গতির কারণে মাইক্রোবাসের সহিত সংঘর্ষ ঘটায়।

চালকের অসতর্কতা:
বাসযাত্রীর তথ্যমতে প্রতীয়মান হয় যে দূর্ঘটনা কবলিত বাসটির গতি ছিল আনুমানিক ৭০ কিঃ মিঃ/ঘন্টা। মুষলধারে বৃষ্টি এবং বাঁক অতিক্রম করার সময় এই গতিতে গাড়ি চালানো এবং বিপরীত দিক হতে আগত বাস / ট্রাকের পিছনে আরও গাড়ি থাকতে পারে এমন চিন্তা না করা বাস চালকের অসতর্কতা প্রমাণ করে। বাস / ট্রাকের পিছনে থাকা মাইক্রোবাসের চালক একটি বড় দূরত্ব (Gap) তৈরি করে পিছনে পিছনে যাওয়া উচিত ছিল।

Post a Comment

0 Comments