Advertisement

রাজা হতে চেয়েছিলেন গাদ্দাফি: যৌন নির্যাতনের অভিযোগ নারী দেহরক্ষীদের

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক, ২৮ অগাস্ট  : লিবিয়ার পলাতক স্বৈরশাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফি নিজেকে দেশটির রাজা অথবা বাদশাহ বলে ঘোষণা দেয়ার পরিকল্পনা
 করেছিলেন।
বিপ্লবী যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে জিততে পারলে তিনি এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতেন বলে লন্ডনভিত্তিক আরবি দৈনিক আশ-শারকুল আওসাত খবর দিয়েছে।
পত্রিকাটি বলছে, ত্রিপোলিতে লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রীর পরিত্যক্ত অফিসের একটি গোপন দলিল থেকে এ পরিকল্পনার খবর ফাঁস হয়েছে। ব্রিটিশ দৈনিক টেলিগ্রাফের এক সংবাদদাতা এ তথ্য উদ্ধার করেন। লিবিয়ার সংঘাতের বিষয়ে এতে আট দফা কৌশলের কথাও রয়েছে।
১৫ জুলাই তারিখের এসব দলিলে দেখা যায়, লিবিয়ায় শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে দেশটির উপজাতিদেরকে ব্যবহারের বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এতে বলা হয়েছে, “উপযুক্ত সময়ে দেশের সব গোত্র প্রধান ও শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের ডেকে গাদ্দাফিকে রাজা অথবা বাদশাহ ঘোষণা করা হবে।” আর এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে গাদ্দাফির সাত ছেলের মধ্যে এক ছেলেকে রাষ্ট্রের পরবর্তী কর্ণধার নিয়োগ করা হতো।
১৯৬৯ সালে লিবিয়ায় সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর থেকে গাদ্দাফি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পদ গ্রহণ করেননি। তিনি রাষ্ট্রীয়ভাবে সবসময় “ব্রাদার লিডার” কিংবা “বিপ্লবের পথ প্রদর্শক” বলে নিজের পরিচয় দিতেন। তবে, হাতে গোনা কয়েকবার তিনি নিজেকে “রাজাদের রাজা” বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
এদিকে, ব্রিটিশ পত্রিকা সানডে টাইমসের বরাত দিয়ে জার্মান বার্তা সংস্থা ডিপিএ জানিয়েছে, কর্নেল গাদ্দাফির পাঁচ মহিলা দেহরক্ষী অভিযোগ করেছেন- তারা নানা সময় গাদ্দাফি ও তার ছেলেদের মাধ্যমে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।
এর মধ্যে একজন জানিয়েছেন, তার ভাইকে মাদক চোরাচালানের মিথ্যা অভিযোগে জড়িয়ে তাকে জোর করে গাদ্দাফির দেহরক্ষী করা হয়। ত্রিপোলিতে বিপ্লবীদের হামলার সময় এসব দেহরক্ষীর ওপর গাদ্দাফি ও তার অনুগত সেনা কর্মকর্তারা ব্যাপক যৌন নির্যাতন চালিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

Post a Comment

0 Comments