Advertisement

ক্ষমতা হস্তান্তরে আলোচনার প্রস্তাব গাদ্দাফির

২৮ আগস্ট  :ক্ষমতা হস্তান্তরে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন পালিয়ে থাকা লিবীয় নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি। তিনি বর্তমানে লিবিয়াতেই অবস্থান করছেন। সূত্র: বিবিসি ও আল-জাজিরা অনলাইন।
বার্তা সংস্থা এপি-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকার গাদ্দাফির মুখপাত্র মুসা ইব্রাহিম এসব কথা বলেন। এপি মুসা’র বক্তব্য নিশ্চিত করেছে।
মুসা ইব্রাহিম নিউইয়র্কে এপি হেডকোয়ার্টারে ফোনে জানান, তিনি ত্রিপোলি থেকে বলছেন। লিবীয় নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি লিবিয়াতেই অবস্থান করছেন।
তিনি জানান, গাদ্দাফি অন্তর্বর্তী সরকার গঠনে বিদ্রোহীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত রয়েছেন। আলোচনার জন্য তিনি তার ছেলে আল-সাদকে মনোনীত করেছেন।
এই প্রস্তাবের মধ্য দিয়ে পালিয়ে থাকা লিবীয় নেতা তার এতোদিনের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। এরআগে তিনি বিদ্রোহীদের ‘দুর্বৃত্ত’ এবং ‘ইঁদুর’ আখ্যায়িত করে তাদের বিরুদ্ধে সমর্থকদের লড়াই অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
এদিকে লিবীয় বিদ্রোহীরা গাদ্দাফিকে আটকে হন্য হয়ে খুঁজছেন। তাকে আটক করা ছাড়া লড়াই বন্ধের সম্ভাবনা নেই এমনটাই মনে করে বিদ্রোহীরা। ইতিমধ্যে গাদ্দাফিকে ধরিয়ে দিলে বড় অঙ্কের অর্থ পুরষ্কারের ঘোষণা দেয়া হয়েছে বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে।
এখন পর্যন্ত পালিয়ে থাকা গাদ্দাফির গোপন আস্তানার কোন হদিস মিলেনি। তবে বিদ্রোহীদের ধারণা তিনি ত্রিপোলিতে আছেন। গাদ্দাফি তার অনুগতদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় কোথাও আত্মগোপন করে থাকতে পারেন।
অন্যদিকে গাদ্দাফির জন্মস্থান সিরতে দখলে চূড়ান্ত অভিযান শুরু করেছেন বিদ্রোহীরা। মূলতঃ সিরত শহরই গাদ্দাফি অনুগতদের দখলে থাকা সর্বশেষ শহর। এই শহর দখলে পার্শ্ববর্তী অবস্থান থেকে ভারি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বিদ্রোহীরা অগ্রসর হতে শুরু করেছে।
এছাড়া নিয়ন্ত্রিত ত্রিপোলিতে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। সেখানে গ্যাস-পানি-বিদ্যুতের তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এছাড়া ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামাদির অভাবে হাসপাতালে বিনাচিকিৎসায় মারা যাচ্ছে সহিংসতায় আহতরা।
প্রসঙ্গত, সরকারি ও বিদ্রোহীদের মধ্যে অব্যাহত সহিংসতার মুখে গত ১৭ মার্চ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে সামরিক হস্তক্ষেপের অনুমোদনসহ লিবিয়ার ওপর ‘নো ফ্লাই জোন’ প্রস্তাব পাস হয়। ‘নো-ফ্লাই জোন’ আরোপের পর তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে লিবিয়া। যুদ্ধবিরতি ঘোষণা সত্ত্বেও বিদ্রোহীদের সমর্থনে মার্কিন নেতৃত্বে ১৯ মার্চ লিবিয়া আক্রমণ করে পশ্চিমা বাহিনী।
উল্লেখ্য, লিবীয় নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির পদত্যাগের দাবিতে হামলার প্রায় সাত সপ্তাহ আগে দেশটিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। সরকারবিরোধী বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নিলে এতে কয়েক হাজার লোক নিহত ও বহু সংখ্যক আহত হয়। ২১ আগস্ট বিদ্রোহীদের ত্রিপোলি দখলের মধ্য দিয়ে এর অবসান হয় কিনা এখন তা দেখার বিষয়।
_আরটিএনএন

Post a Comment

0 Comments