- খবরের মান অনুন্নত
- থেমে নেই বিএনপি প্রেম ও লুটপাট
বাংলাদেশ বেতার কক্সবাজার কেন্দ্রের বার্তা বিভাগের সহকারী বার্তা নিয়ন্ত্রকের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি, অনিয়ম সরকারি চাকুরীর নিয়ম শৃঙ্খলার পরিপন্থি কার্যকলাপ ও সীমাহীন স্বেচ্ছারিতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রাপ্ত অভিযোগে জানাগেছে, উক্ত বেতার কেন্দ্রের সহকারী বার্তা নিয়ন্ত্রক সৈয়দ মোহাম্মদ ইমরানুল হক চট্টগ্রাম শহরে অবস্থান করে অফিসের কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তিনি শুধু তার নিজের বেতনের চেকে স্বাক্ষর করার জন্য এবং বার্তা বিভাগের কর্মচারীদের বেতনের চেকে স্বাক্ষর করার জন্য প্রতিমাসে ২ দিন অফিসে উপস্থিত থাকেন প্রত্যেক মাসে ২৮ দিন অনুপস্থিত থাকেন। জানাগেছে, বেতারের সদর দপ্তর থেকে কোন বিষয়ে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি চট্টগ্রামে অবস্থান করেও কক্সবাজারে অবস্থান করছেন বলে জানান। তিনি যে সব সময় ছুটি ছাড়াই কক্সবাজারের বাহিরে অবস্থান করে তার একটি বাস্তব প্রমাণ হচ্ছে আগামি সেপ্টেম্বর মাসের জন্য তৈরি করা পাঠক পাঠিকাদের সিডিউলে অগ্রিম তারিখ দিয়ে স্বাক্ষর করে বাড়িতে চলে যাওয়ার বিষয়টি। কয়েকজন সংবাদ পাঠক-পাঠিকা অভিযোগ করেছেন, আগামি মাসের (সেপ্টেম্বর- ২০১১) সংবাদ পাঠের সিডিউলটি টাইপ ও স্বাক্ষর করে চলতি আগস্ট মাসের ২৪ তারিখে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। অথচ, সহকারী বার্তা নিয়ন্ত্রক ২৮/০৮/২০১১ইং তারিখ লিখে অগ্রিম তারিখে সিডিউলে স্বাক্ষর করেছেন। সিডিউলটির স্মারক নং- বাবেক্স/আঃবাঃ/২২/২০১১-২০১২ তারিখ ২৮/০৮/২০১১ইং। অনুসন্ধান কর জানাগেছে, সহকারী বার্তা নিয়ন্ত্রক ২৪ আগস্ট সকালে সিডিউলে ২৮ আগস্টের তারিখ লিখে অগ্রিম স্বাক্ষর করে ওই দিনই বিকেলে কক্সবাজার থেকে স্ব-স্ত্রীক চট্টগ্রাম চলে যান। কিন্তু পাঠক-পাঠিকারা ২৪ আগস্ট বিতরণকৃত সিডিউলে ২৮ আগস্ট তারিখের স্বাক্ষর দেখে আশ্চর্য হয়ে যান। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, উক্ত সহকারী বার্তা নিয়ন্ত্রকের সকল অফিসিয়াল কার্যক্রম চরম অনিয়মের মধ্যে সম্পন্ন হয়ে থাকে। যার ফলে তার সংবাদ বুলেটিন গুলোও খুবই নিম্নমানের হচ্ছে বলে শ্রোতারা অভিযোগ করেছেন। কয়েকজন বেতার শ্রোতা জানিয়েছেন, বিকাল সাড়ে ৩টায় সংবাদ শুনতে গেলে এমন নিম্ন মানের সংবাদ শুনতে হয় যা দুনিয়ার কোন বেতারে শোনা যাবে না। যেমন, বিভিন্ন অজপাড়া গাঁয়ের অখ্যাত রাস্তার মেরামত কাজ এগিয়ে চলার খবর, গ্রাম এলাকায় সেনিটারী পায়খানা উদ্বোধনের সংবাদ, ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক কয়েক কেজি চাল বিতরণের খবর, রহিমার বাপের রাস্তায় ইট বিছানো, কামালের মার পাড়ায় নলকূপ স্থাপন, কাশেইম্যার বাপের পাঠশালার স্কুল ভবন মেরামত, প্রাইমারী স্কুলে টুল টেবিল সরবরাহের সংবাদ, কয়েকদিন আগের বিভিন্ন বাসি সংবাদ সমূহ উক্ত বেতার কেন্দ্রে হরদম প্রচার করা হয়। সরকারি উন্নয়ন কর্মকান্ডের প্রয়োজনীয় সংবাদ সমূহ সেখানে কখনো প্রচার করা হয় না।
সহকারী বার্তা নিয়ন্ত্রক ইমরানুল হক বিগত বিএনপি সরকারের আমলে ব্যাপক দেন দরবার ও তদবিরের মাধ্যমে চাকুরীতে নিয়োগ লাভ করেন। তাই বর্তমান সরকারের উন্নয়ন মূলক কার্যক্রমের সংবাদ তার বেতারে নেই বললেই চলে। আরো জানাগেছে, বেতারের উপ-মহাপরিচালকের (বার্তা) কক্সবাজার বেতার কেন্দ্রের সংবাদের ব্যাপার গত ৬ বছরে একবারও খোঁজ খবর না নেয়ায় কক্সবাজার বেতার কেন্দ্রের সংবাদের মান দিন দিন অধঃপতনের দিকে যাচ্ছে। এমতাবস্থায়, কক্সবাজার বেতারে সংবাদ প্রচারের নামে প্রতি বছর ৩ থেকে ৪ লাখ সরকারি টাকা অপচয় হচ্ছে। ইতিপূর্বেও সহকারী বার্তা নিয়ন্ত্রকের বিরুদ্ধে ভূঁয়া মাস্টার রোল কর্মচারী দেখিয়ে অর্থ আত্মসাত, ভূয়া বিল ভাউচার করে জ্বালানী তেলের টাকা আত্মসাত এবং উপজেলা সংবাদদাতাদের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা তাদের নামে ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে নিজের পকেটে ঢুকানোর অভিযোগ উঠেছে। অথচ, তাকে রহস্যজনক কারণে ৬ বছরেও অন্যত্র বদলী না করে বেতার সংবাদের বারোটা বাজাচ্ছেন ঢাকার শীর্ষ কর্মকর্তারা।

0 Comments