Advertisement

ফলোআপ:টেকনাফে মেয়ে বিয়ের নামে প্রতারণা করায় আদালতে মামলা

শামসুল আলম শারেক, টেকনাফ ॥
টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ে আপন কন্যাকে বিয়ে দেয়ার নামে প্রতারণা করায় অবশেষে আদালতে প্রতারকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে প্রতারণার শিকার স্বামী। গত ১৪ আগষ্ট এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন পত্র পত্রিকায় প্রকাশ পেয়েছিল। 
আদালতে দায়ের করা অভিযোগে জানা যায়, টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কাঞ্জর পাড়া এলাকার আবদুল খালেকের পুত্র স্থানীয় বাহার উলুম মাদ্রাসার শিক্ষক মৌলভী এএমএম আবদুল আজিজ তার আপন কন্যা উম্মুল খাইর সালমাকে একই ইউনিয়নের ঝিমংখালী এলাকার আবুল কালামের পুত্র দুবাই প্রবাসী আহমদকে গত ২১ জুলাই ৭ লাখ টাকা দেন-মোহর ধার্য্য করে ৩০ হাজার টাকার কাপড়-চোপড়সহ বিয়ে দেন। দীর্ঘ ১৭ দিন নবদম্পত্তির মধূচন্দ্রিমার পর গত ৭ আগষ্ট উম্মুল খাইরের মা-বাবা ঝিমংখালীস্থ বর আহমদের বাড়ীতে গিয়ে নাইয়ূর আনার নামে যাবতীয় ১০ ভরি স্বর্ণসহ ৫ লক্ষাধিক টাকার সা-সামান ও কাপ-চোপড়সহ  বাড়ীতে বেড়াতে নিয়ে আসে। কিন্তু এরপর থেকে কনে পক্ষ বর পক্ষের সাথে যোগাযোগ বিছিন্ন করে দেয়। এদিকে বরপক্ষ কনেকে স্বামীর কর্মস্থল দুবাই নেয়ার জন্য পাসপোর্ট (নং-এফ-০২৭৯২৬৪) তৈরী করে। ১১ আগষ্ট মেয়ের বাপের বাড়ী থেকে কনেকে ঢাকাস্থ দুবাই এম্বেসীতে স্বশরীরে পাসপোর্ট জমা দিতে নিয়ে যাওয়ার জন্য কনের বাড়ীতে বরপক্ষের লোকজন আসলে বিভিন্ন তাল-বাহনা শুরু করে। এক পর্যায়ে রাতারাতি মেয়েকে মা-বাবা কৌশলে বাড়ী থেকে সরিয়ে  অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গিয়ে বর পক্ষের অজান্তে আড়ালে রাখে। বরপক্ষ গত ১২ আগষ্ট অনেক খুঁজাখোজির পর জানতে পারে মেয়ে কুতুবদিয়াস্থ দাদার বাড়ীতে লুকিয়ে রেখেছে। এরপর বিষয়টি বরপক্ষ স্থানীয় চেয়ারম্যান নূর আহমদ আনোয়ারীকে জানালে তিনি কনের পিতা মৌলভী আবদুল আজিজকে ডেকে মেয়ের ব্যাপারে জানতে চাইলে কনের পিতা চেয়ারম্যানকে জানান, ‘মেয়ে দেশের বাইরে গেলে আমাদের মন জ্বলবে। তাই মেয়েকে দেব না’। কিন্তু চেয়ারম্যান এ পর্যায়ে বলেন, এক তরফাভাবে মেয়ের বিয়ে ভাঙ্গতে চাইলে নিয়মানুযায়ী তাদের স্বর্ণসহ সা-সামান ফেরত দিতে হবে। এ পর্যায়ে মৌলভী আজিজ বলেন, তাহলে ২ বছর পরপর মেয়েকে দেশে নাইয়ূর আনার জুডিসিয়াল স্টাম্পে এগ্রিমেন্ট দিলে আমারা মেয়েকে দেব। চেয়ারম্যান উভয়পক্ষের উকিল (ঘটক) স্থানীয় মৃত আবুল হোছনের পুত্র সোনা আলী স্ট্যাম্প আনতে নির্দেশ দেন। সোনা আলী স্ট্যাম্প নিয়ে এসে দেখে মেয়েকে নিয়ে মৌলভী আজিজ ও তার স্ত্রী হামিদা বেগম আবারো চম্পট দেয়। 
এ ব্যাপারে খোঁজ-খবর নিতে গিয়ে মেয়ে বিয়ের নামে পর্যায়ক্রমে মৌলভী আজিজের বিরুদ্ধে নানা রহস্যজনক কাহিনী জানা যায়। 
একই ইউনিয়নের সাতঘড়িয়া পাড়া গ্রামের মোঃ নূরের পুত্র খালেদ জানান, ২০১০ সালের পবিত্র হজ্বের ২ দিন আগে উম্মুল খায়ের সালমার সাথে ১০ লাখ টাকা দেন-মোহর ধার্য্যে বিয়ে হয়।   বিয়ের পর তারা ৭ দিন পর্যন্ত কক্সবাজারস্থ হোটেল প্যানোয়ার ৩০৪ নাম্বার রুমে সুখের দাম্পত্য তথা মধুচন্দ্রিমা যাপন করে। এরপর ক্নো ধরণের কারণ ছাড়াই মেয়ের বাবা মৌলভী আজিজ বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটায়। খালেদ ক্ষোভের সাথে বলেন, মৌলভী আজিজ যে কান্ড করেছে তাকে মৌলভী বললে পাপ হবে; আধুনিকযুগের দজ্জাল বলা-ই শ্রেয়। 
এ সব ঘটনা উম্মুল খাইরের বর্তমান স্বামী পক্ষ মৌলভী আজিজের বিয়ে প্রতারণা বিষয় জানতে পেরে গতকাল টেকনাফের বিজ্ঞ পারিবারিক জজ আদালতে বর আহমদ বাদী হয়ে উম্মুল খাইর সালমা, তার পিতা মৌলভী আবদুল আজিজ ও মাতা হামিদা বেগমকে বিবাদী করে একটি মামলা দায়ের করে। যা ৩৫/২০১১ নাম্বার স্মারকে রেকর্ড হয়। 
এ ব্যাপারে কন্যার পিতা মৌলভী আবদুল আজিজের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি স্বীকার করে একই সময় পরস্পর বিরোধী কথা বলেন। একবার জানান যে, বর আহমেদ বিবাহিত জেনে মেয়েকে নিয়ে এসেছি। এ ব্যাপারে তার কাছে কোন প্রমাণ আছে কি না জানতে চাইলে তখন তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

Post a Comment

0 Comments