Advertisement

মহেশখালীর পাহাড়ে ২০ টি স্থানে অবাধে তৈরী হচ্ছে অস্ত্র

আবদুর রাজ্জাক,মহেশখালী:
মহেশখালীর পাহাড়ের গহীন অরন্যে ২০ টি কারখানায় অবাধে তৈরী হচ্ছে দেশীয় তৈরী অস্ত্র ও গোলাবারুদ। এলাকার দাগী,সন্ত্রাসী ও দেশের র্শীষ সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর কাছে এসব  অস্ত্রের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং দাম বেশী পাওয়ায় এখানকার কারিগররা এই অস্ত্র তৈরী করতে মরিয়া হয়ে উঠছে। ফলে রাতদিন পরিশ্রম করে তারা বিভিন্ন রকমের দেশীয় অস্ত্র তেরী করে যাচ্ছে।
 এলাকার কিছু প্রভাবশালী মহল তাদেরকে বিভিন্ন ভাবে সহায়তা করে আসছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ,র‌্যাব ও আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা এর আগে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে  অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান অস্ত্র,গোলাবারুদ ও অস্ত্র তৈরীর সরাঞ্জাম উদ্ধার করলেও র্দীঘদিন থেকে মহেশখালীতে কোন বড় ধরনের উদ্ধার অভিযান না হওয়ায় কারিগররা আরো বেপরোয়া হয়ে বেশী অস্ত্র তৈরী করছে বলে সুত্রে প্রকাশ। জানা যায়,উপজেলার বড় মহেশখালী,হোয়ানক,কালারমারছড়া ও শাপলাপুরের গহীন পাহাড়ের কড়াইবনিয়া,পুটিরঝিরি,সারসিয়া,গুলুরবরঘোনা,কমলাঘোনা,মরাজিরি,লোহারছরা,মুরিছরাসহ প্রায় ২০ টি স্থানে এসব অস্ত্র তৈরী হচ্ছে বলে জানা গেছে। সকাল থেকে একটানা সন্ধ্যা পর্যন্ত বিরতিহীন ভাবে তারা অস্ত্র তৈরী কাজ  করে। তারা দিনের বেলায় অস্ত্র তৈরী করাকে বেশী নিরাপদ মনে করে কারন এলাকার বিভিন্ন জায়গা ও বিভিন্ন স্থানে তাদের একাধিক সোর্স থাকায় র‌্যাব,পুলিশ আসার আগাম খবর তারা মোবাইলের মাধ্যমে সোর্সের কাছ থেকে পেয়ে সর্তক অথবা পালিয়ে যায়। ফলে রাত্রে ঝুকি নিয়ে তারা কাজ করে না।  গহীন পাহাড়ের ভিতরে খোদাই করে দুই দিক রাস্তা রেখে মনোরম পরিবেশে তারা ওর্য়াকশপের মত করে এই অস্ত্র তৈরীর কারখানা গুলি তৈরী করে। এখানে রয়েছে বিভিন্ন প্রকার লোহার পাত, ষ্টীলের নল,ড্রিল মেশিন, গ্যাসের চুলা,র্সোড ব্লেইড,কয়লা,লেইদ মেশিনসহ বিভিন্ন অস্ত্র ও গোলাবারুদ তৈরীর যন্ত্রপাতি। এখানে একটি অস্ত্র তৈরী করতে এক থেকে দেড় হাজার টাকা খরচ হলে ও সেটি স্থানীয় ভাবে ২/৩ হাজার টাকা এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে তা ৭/৮ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। আর এসব কারখানায় নিয়মিত আসা যাওয়া রয়েছে এলাকার দাগী সন্ত্রাসী ও একাধিক মামলার ফেরারী আসামীদের। তাদের রয়েছে একটি শক্তিশালী নেটওর্য়াক। ওই নেটওর্য়াক ফিশিং ট্রলার ও লবন বোঝাই কার্গো বোট এর মধ্যমে তারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় অস্ত্র সরবরাহ ও বিক্রি করে। সম্প্রতি গত ২৩ জুন মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নে র‌্যাব-৭ চট্টগ্রাম অভিযান চালিয়ে দেশীয় তৈরী একনালা বন্দু ৭ টি ,দেশীয় তৈরী এলজি ১ টি,৩০৩ রাইফেলের তাঁজা গুলি ৮ রাউন্ড,শর্টগানের তাঁজা কার্তূজ ৮ রাউন্ড, ১ টি চাপাতিসহ  বিপুল পরিমান অস্ত্র ও গোলাবারুদ সহ ইমান হোসেন মিন্টু, নুর মোহাম্মদ,আব্দুল খালেক,ছদর আমিন ৪ জন অস্ত্র কারিগরকে গ্রেফতার করে। অপর দিকে গত ৯ মে রবিবার গভীর রাত্রে র‌্যাব-৭ উপজেলার ক্রাইমজোন হিসেবে খ্যাত কালারমারছড়া ইউনিয়নের নোনাছড়ি বাজারর্ রীজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২ টি এল.জি বন্দুক,২ টি দেশীয় তৈরী রাইফেল ও ১২ রাউন্ড তাজা গুলি সহ মোহাম্মদ আলী বাসিন্ন্যা,হেলাল উদ্দিন, রফিক নামের তিনজন অস্ত্র কারিগরকে গ্রেফতার করেছে। এলাকাবাসী এই অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার পুর্বক অস্ত্র কারখানাগুলোতে সাড়াশী অভিযান পরিচালনা করার জন্য সরকারের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

Post a Comment

0 Comments