শফিউল ইসলাম আজাদ,উখিয়া:
উখিয়া-টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে সম্প্রতি মরণ নেশা ইয়াবা পাচার বেড়েছে। উখিয়া-টেকনাফ-চট্টগ্রাম-ঢাকার একাধিক সিন্ডিকেট ঈদকে সামনে রেখে এসব মাদকদ্রব্য পাচারে তৎপর হয়ে পড়েছে। ইয়াবা পাচারের সাথে উখিয়া-টেকনাফের প্রভাবশালী মহল জড়িত রয়েছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া একটি তালিকা সুত্রে জানা গেছে। মাঝে মধ্যে কোষ্ট গার্ড, র্যাব,গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা কিছু মাদক জব্ধ করলেও বিপুল পরিমান ইয়াবা সহ মাদকদ্রব্য চালান দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার হয়ে যাচ্ছে। উখিয়া-টেকনাফে ইয়াবার বড়ি দাম কম, তাই এসুবাধে পাচারকারীরা এখান থেকে ক্রয় করে বেশি দামে ঢাকা-চট্টগ্রামে বিক্রি করে আসছে। চলতি মাসে দুই দফা পৃথক পৃথক অভিযানে প্রায় দেড় কোটি টাকা ইয়াবা সহ ১৫জন ইয়াবা পাচারকারী আটক হলেও থেমে নেই পাচার।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, মিয়ানমারের চার রোহিঙ্গা চোরাচালানি জোবাইর, হাজী ফয়েজ, ইউনুছ ও ইসমাইল চট্টগ্রামে থেকে ইয়াবা পাচার নিয়ন্ত্রণ করে যাচ্ছে। তাদের সঙ্গে জড়িত ঢাকার নিলুফার ইয়াসমিন ওরফে রিয়া ও জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বাধীন চক্র। চক্র দুটিকে সহযোগিতা করে শহিদুল, রাশেল সহ বেশ কয়েকজন। ব্যক্তিগত গাড়ীতে করে তারা টেকনাফ যাতায়াত করে। তাদের সাথে করে ও অনেক সময় ইয়াবার বড় চালান নিয়ে আসে আবার অনেক সময় বাড়াটে লোকজন (নারী-শিশু) দিয়ে টেকনাফ থেকে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম-ঢাকা সহ বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে। বিজিবি সুত্রে পাওয়া রিপোর্টে জানা যায়, গত জানুযায়ী মাসে ৩৬০পিচ ইয়াবা সহ ২জন পাচারকারীকে, ফেব্রয়ারী মাসে ৪হাজার ৪৩পিচ ইয়াবা সহ ৯জন পাচারকারীকে, মার্চ মাসে ৬হাজার ১৭৪পিচ ইয়াবা সহ ৪জন পাচারকারীকে, এপ্রিল মাসে ১৩হাজার ৭৭৮ পিচ ইয়াবা সহ ২জন পাচারকারীকে, মে মাসে ১৭হাজার ৭৯১পিচ ইয়াবা সহ ১১জন পাচারকারীকে, জুন মাসে ৪হাজার ৩৭০পিচ ইয়াবা সহ ৬জন পাচারকারীকে, জুলাই মাসে ৯হাজার ৭২৪ পিচ ইয়াবা সহ ৮জন পাচারকারীকে, আগষ্ট মাসে (২৯) তারিখ পর্যন্ত ৫০হাজার ২৭৩ পিচ ইয়াবা সহ ১৫জন পাচারকারীকে আটক করা হয়। এব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সহকারী পুলিশ সুপার (উখিয়া সার্কেল) ছত্রধর ত্রিপুরা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, ঢাকার ইয়াবা পাচারকারী রিয়া-জাহাঙ্গীরকে ইয়াবা সহ আটক করা হয়েছিল। সে সময় তারা কয়েকজন মুল ইয়াবা পাচারকারীর তথ্য ও দিয়েছিল। সেখান থেকে অনেককে আটক ও করা হয়েছিল। তিনি আরো বলেন, ঈদকে সামনে রেখে ইয়াবা পাচারকারীরা সক্রিয় হয়ে উঠার জোর চেষ্টা চালাচ্ছে। মাদক পাচাররোধ করা খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। কারণ এখানকার পাচারকারীরা মলদ্বারে করে এসব পাচার অব্যাহত রেখেছে। তাই ডগ স্কোয়ার্ড দেওয়া হলে মাদক পাচার নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

0 Comments