Advertisement

নির্মম, নিষ্টুর!

শেখ মোহাম্মদ হানিফ,পেকুয়া॥ মোজাহিদুল ইসলাম রাব্বি। বয়স আনুমানিক ২বছর ৩মাস। এই নিষ্পাপ শিশুটি পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের পুরাতন বহদ্দার পাড়া এলাকার মো: ইয়াহিয়া ও নার্গিস আক্তার পাখির পুত্র। গত ৫বছর আগে প্রেম সূত্রে প্রনয় ঘটে এ দম্পতির। তখন থেকেই
ইয়াহিয়ার পরিবার ওই বিয়ে মেনে না নেওয়ায় ইয়াহিয়া তার স্ত্রী নার্গিসকে নিয়ে ২/৩শ গজ দূরে নার্গিসদের বাড়িতে বসবাস করতে থাকে। প্রায় সময় নার্গিসকে তালাক দিতে ইয়াহিয়ার উপর চাপ দিতে থাকে শশুর হুমায়ুন কবির চৌধুরী, ভাসুর জাকারিয়া, ফয়সল, জুলফিকল, ইকবালসহ অন্যরা। এবিষয় নিয়ে তাদের সাথে ইয়াহিয়ার ঝগড়া-বিবাদও হতো প্রায় সময়। কিছুদিন পূর্বে কর্মক্ষেত্রের সুবাদে ফেনী যায় স্বামী ইয়াহিয়া। এদিকে গত বৃহস্পতিবার রাতে নামাজ পড়ে শিশু রাব্বিকে সাথে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন মা নার্গিস আক্তার। অত্যন্ত গরীব হওয়ায় বাড়ির দরজা ছিলো নড়বড়ে। রাতের আঁধারে আনুমানিক ২টার দিকে বাড়িতে ঢুকে কে বা কারা শিশু রাব্বিকে নিয়ে গিয়ে গলা টিপে হত্যা করে পার্শ্ববর্তী মসজিদের পুকুরে ফেলে দেয়। রাত ৩টার সময় নার্গিস আক্তার সেহেরীর রান্না করতে উঠে দেখে তার আদরের শিশুটি বিছানায় নেই। এরপর থেকে পাগলীনি মা পুরো বাড়ি ও গ্রামের প্রতিটি বাড়ি খুঁজতে খুঁজতে অবশেষে সকাল ৭টার দিকে পুরাতন বহদ্দার পাড়া জামে মসজিদের পুকুরে শিশু রাব্বিকে খুঁজে পায়। তবে জীবিত নয়, লাশ হিসেবে। এরপর থেকে কয়েক মিনিট পর পর মুর্ছা যাচ্ছেন মা নার্গিস আক্তার। শিশু রাব্বির নানী মমতাজ বেগম অভিযোগ করে জানান, তারা (নার্গিসের শশুর বাড়ির লোকজন) প্রেমঘটিত বিয়ে বলে প্রথম থেকেই মেনে নেয়নি। তাই তাদেরকে আমার বাড়িতে স্থান দিই। এরা প্রায় সময় খবর পাঠাতো ইয়াহিয়ার জীবন থেকে সরে না গেলে বড় ধরনের ক্ষতি করবে। এই নিষ্পাপ শিশুটিকে হত্যা করে তারা (নার্গিসের শশুর বাড়ির লোকজন) সেই প্রতিশোধই নিল। নার্গিস আক্তার বিলাপ করে করে শুধুই কাঁদছেন, তার মুখে কোন ভাষা নেই। কেউ কিছু জিজ্ঞেস করলে নির্বাক দৃষ্টিতে ছেয়ে থাকেন। তার শুধু একটাই দাবি, ফুলের মতো নিষ্পাপ শিশু রাব্বিকে যারা হত্যা করেছে তাদের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি হোক। স্থানীয় লোকজন জানান, আহা! কি নির্মমতা, কি পাষন্ডতা। কতো নিষ্টুর, পাষন্ড হলে এরকম একটি নিষ্পাপ শিশুকে মানুষ হত্যা করতে পারে। তারাও এ হত্যাকান্ডের সুষ্টু বিচার দাবি করেন প্রশাসনের কাছে। এদিকে গত শুক্রবার সকাল ১১টায় ওই শিশুটির লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পেকুয়া থানা পুলিশ। কক্সবাজার জেলার এএসপি ( পেকুয়া সার্কেল) মো: খালেদ-উজ-জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পেকুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান বলেন, এবিষয়ে পেকুয়া থানায় মামলা হয়েছে। যার নং-০৫,তাং-১২-০৮-২০১১ইং। এজাহার নামীয় কোন আসামী না থাকলেও ঘটনার বিবরনে ৯জন ব্যক্তি নাম উলে¬খ করেছে বাদী। তবে এরকম একটি নিষ্পাপ শিশুকে যারা হত্যা করেছে অবশ্যই তাদের আইনের আওতায় উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

Post a Comment

0 Comments