বান্দরবানে ইক্ষু চাষে সফলতা দেখা দিয়েছে। এখন জেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপকভাবে ইক্ষু চাষ হতে দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউটের কয়েক বছরের উদ্যোগের ফলে ইক্ষু চাষে সফলতা আসতে শুরু করেছে।
ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে বান্দরবানের পাহাড়ি
এলাকায় পতিত জমিগুলো এখন ইক্ষু চাষের আওতায় এনে এগুলোকে মূল্যবান ভুমিতে পরিণত করা হয়েছে।
এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামীতে বান্দরবানের পতিত জমিগুলো চাষাবাদের আওতায় ও ইক্ষু চাষে আরো সফলতা আসবে।ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিটিউটের বান্দরবান উপ-কেন্দ্রের ইনচার্জ ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ ক্যছেন জানান, পার্বত্য চট্টগ্রাম দেশের মোট
আয়তনে দশ ভাগের এক ভাগ। এ এলাকার দুই-তৃতীয়াংশ জমি উঁচু পাহাড় আর অবশিষ্ট জমিগুলো হালকা ঢালু ও সমতল জমি। পার্বত্যাঞ্চলে হাজার হাজার একর জমি চাষযোগ্য অথচ পতিত হিসেবে পড়ে আছে। যুগ যুগ ধরে পাহাড়ি কৃষকরা উঁচু পাহাড়ে ঝুম চাষ করে এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে পার্বত্যালে প্রায়ই সমতল জমি ক্ষতিকর তামাক চাষের দখলে চলে যাওয়ায় পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের ঝুঁকি দিক দিন দিন বেড়েই চলছে।
প্রায় চার বছর ধরে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় অর্থায়নে ইক্ষু গবেষণা ইনষ্টিটিউট এর প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে পার্বত্যাঞ্চলে হাজার হাজার একর জমি ক্ষতিকর তামাক ফসলের বিকল্প হিসেবে ইক্ষু চাষের দিকে জোরদার হচ্ছে। এতে করে কৃষকরা ভালো ফলন পাচ্ছে। একই জমি থেকে ইক্ষুর সাথে বিভিন্ন সবজির সাথী ফসল হিসেবে চাষ করে কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে।
সদর উপজেলার রাজবিলার কৃষক চাইহ্লাপ্রু মারমা জানান, গত বছর তিনি এক একর জমিতে ইক্ষু চাষ করে এক লাখ টাকা এবং একই জমিতে ইক্ষুর সাথে সাথী ফসল বাঁধাকপি ও গোলআলু চাষ করে আরো ৪৫ হাজার টাকা পেয়েছেন। সে হিসেবে এক একর জমিতে ইক্ষু ও ইক্ষুর সাথে সাথী ফসল চাষ করে মোট লাভ এক লাখ ৪৫ হাজার টাকা পাওয়া যায়। যা অন্য কোনো ফসল চাষে এতো লাভ পাওয়া সম্ভব নয়।
পার্বত্যাঞ্চলে এই আবাদযোগ্য পতিত জমি এবং এক ফসলী উঁচু জমি খুব সহজেই স্বল্প সেচের মাধ্যমে ইক্ষু চাষের জন্য উপযোগী এবং সম্ভাবনাময়। পরিকল্পিতভাবে এসব জমিতে ইক্ষু চাষ করা গেলে ইক্ষুর চাহিদা মেটানো ও ইক্ষু হতে গুড় ও চিনি তৈরি করে এসবের সংকট নিরসনে সহায়তা হবে।
ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বান্দরবানে সাড়ে ১১ মেট্রিক টন, রাংগামাটিতে সাড়ে আট মে.টন এবং খাগড়াছড়ি পাবত্য জেলা ১৫ মে. টন উন্নতমানে আখের গুড় উৎপাদিত হয়েছে। যার চাহিদা স্থানীয়ভাবে ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রয়েছে।
পার্বত্যাঞ্চলে চিবিয়ে খাওয়ার উন্নতমানে ইক্ষুর জাত হিসেবে- রংবিলাস, চায়না, ভিয়েতনাম,অমৃত, চিত্রা, বনপাড়া গ্যান্ডারী, ঈশ্বরদী২৪, সিও ৫২৭, সিও ২০৮ এবং গুড় উৎপাদন উন্নতমানে ইক্ষুর জাত হিসেবে- ভিএমসি ৮৬-৫৫০, ঈশ্বরদী১৬, ঈশ্বরদী৩৬, ঈশ্বরদী৩৭, ঈশ্বরদী৩৮, ঈশ্বরদী৩৯, ঈশ্বরদী৪০ ইত্যাদি।
কৃষিবিদ ক্যাছেন আরো জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূ-প্রকৃতি ও জলবায়ু ইক্ষু চাষের অনুকুল হওয়ায় ইতিমধ্যেই এটি একটি সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। ভবিষ্যতের ইক্ষু আবাদের কর্মপরিধি আরো স¤প্রসারিত হবে। ইক্ষু চাষের মাধ্যমে পার্বত্য এলাকায় আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, পতিত জমির সদ্ব্যবহার, পুষ্টিমান বৃদ্ধি ও ক্ষতিকর তামাক চাষের বিকল্প অর্থকরী ফসল হিসেবে ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউট পার্বত্য অঞ্চলে ইক্ষু চাষ স¤প্রসারণের মাধ্যমে ভাগ্যের দ্বার খুলে দিয়েছে পাহাড়ি জনপদ মানুষের।
বাংলাদেশ ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রকল্পের মাধ্যমে পার্বত্য এলাকায় ব্যাপকভাবে ইক্ষু চাষের উৎসাহিত করা হলে কৃষকরা ক্ষতিকর তামাক চাষ থেকে ফিরে এসে বিকল্প হিসেবে ইক্ষু চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিশেষ ভুমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলে আশা করা যায়।

0 Comments