Advertisement

এমএলএম ব্যবসার খসড়া আইন চূড়ান্ত .ওয়েবসাইটভিত্তিক সব এমএলএম কোম্পানি বন্ধ হয়ে যাবে

নয়ন কক্স নিউজ ডেস্ক: মাল্টিলেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) ব্যবসার নামে কিছু প্রতিষ্ঠানের প্রতারণা বন্ধে আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে সরকার। কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করতে ‘ডিরেক্ট সেল আইন-২০১১’ নামে একটি খসড়া আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।
খসড়া আইন অনুযায়ী হস্তান্তরযোগ্য নয় এমন পণ্য ক্রয়-বিক্রয়যোগ্য হবে না। এসব পণ্যের মধ্যে গাছ, বাড়ি, প্লট ইত্যাদিকে ধরা হয়েছে। এছাড়া অদৃশ্য বস্তু ও মুদ্রার লাভ-ক্ষতি বিষয়ক অন্য কোনো লেনদেনও আইনের মাধ্যমে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, ওই আইন অনুযায়ী বিভিন্ন কোম্পানির প্ল্যান্টেশন প্রকল্প, টাকার দ্বিগুণ স্কিম, হাউজিং প্রকল্পসহ হস্তান্তরযোগ্য নয়, এমন সব পণ্য ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ হয়ে যাবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, খসড়া আইনে ১৩টি অধ্যায়, ৫০টি ধারা এবং ২টি তফসিল রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবার মতামত সাপেক্ষে শীঘ্রই এ আইন চূড়ান্ত করা হবে। আইনের খসড়া অনুযায়ী আইন না মানলে কঠোরতর শাস্তির ব্যবস্থা থাকছে। ক্ষেত্রবিশেষে জামিন অযোগ্য অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান এবং ৩ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত জেল-জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
জানা গেছে, খসড়া আইনে বিক্রয়যোগ্য কোনো পণ্যের গায়ে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য উল্লেখ করতে হবে। পণ্যের মোড়ক ব্যবহার করার পাশাপাশি নির্ধারিত মূল্যের বেশি দাম রাখা যাবে না। এছাড়া বিক্রির ক্ষেত্রে টার্গেট পূরণ না হলে কাউকে শাস্তি দেওয়া যাবে না।
আইনে উল্লেখ রয়েছে, পণ্য বিক্রি করার জন্য কাউকে বাধ্য করানো যাবে না বা বিক্রি করার জন্যও কারো ওপর প্রভাব বিস্তার করা যাবে না। আইন অনুযায়ী নিম্নমানের পণ্য বিক্রি ও প্রতারণা আপিল অযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। খসড়া আইন অনুযায়ী অস্থাবর বাণিজ্যিক সামগ্রী যেমন স্থানান্তরযোগ্য পণ্য বা দ্রব্য বা সম্পদ বা সেবা, ইজারা, হস্তান্তরযোগ্য স্বত্ব বা মালিকানা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ বিক্রয় করা যাবে (ধারা ৪/১)।
এ ব্যাপারে প্রস্তাবিত বাংলাদেশ ডিরেক্ট সেল অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. ফকরুদ্দিন আসিফ বলেন, সরকার আইনের খসড়া তৈরি করেছে এতে আমরা খুশি। তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনটি তৈরি করা হোক। দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইন করা না গেলেও অন্তত একটি নীতিমালা তৈরি করা হোক যার অধীনে এ ধরনের ব্যবসা কার্যক্রম চালানো যেতে পারে। তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে এটা একটি স্বীকৃত পেশা। বিশ্বের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও এমএলএম কোম্পানি বিরাট জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান করেছে। কিন্তু বাংলাদেশে আইন ছাড়াই চলছে এ কর্মকাণ্ড। এ সুযোগে দেশের বাইরে থেকে এসেও কেউ কেউ বিভিন্ন লোভনীয় অফার দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দিচ্ছে।
সূত্র জানায়, অবস্তুগত বা অলীক পণ্য এবং সময়ের ধারাবাহিকতা বা পর্যায়ক্রমিক প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে বিপণনযোগ্য হবে এমন সব পণ্য বা সেবা, স্থাবর সম্পত্তি যেমন জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট, দোকান বা অফিস স্পেস, গাছ ইত্যাদি, সমবায় পদ্ধতির খামার বা সমিতি বা ব্যবসা এবং ব্যাংক, বীমা লিজিং কোম্পানি ইত্যাদি আর্থিক প্রতিষ্ঠান, কমিশন বা বোনাস হিসেবে কোনোরূপ শেয়ার বা ঋণপত্র ক্রয়-বিক্রয়, সব প্রকার সঞ্চয়পত্র, বোনাস স্কিম, কিস্তির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ বা সঞ্চয় বা বিলিবণ্টন ইত্যাদি নিষিদ্ধ করা হচ্ছে আইনের মাধ্যমে। এছাড়া লটারির টিকিট, প্লাটিনাম, স্বর্ণ, ব্রোঞ্জ, পারদ, হাইড্রোকার্বনস, পরিবেশ ও স্বাস্থ্য বিপন্ন পদার্থ, তেজষ্ক্রিয় পদার্থ, এসিড ও স্পর্শকাতর রাসায়নিক পদার্থ, অস্ত্র ও বিস্ফোরক পদার্থ, ধাতব মুদ্রা, মাদকদ্রব্য ও তামাক জাতীয়দ্রব্য, নিষিদ্ধ ঘোষিত ওষুধ ইত্যাদি পণ্য ওই আইনের মাধ্যমে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইনটি পাস হওয়ার পর থেকে ৯০ দিনের মধ্যে পুরনো সব এমএলএম কোম্পানিকে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে লাইসেন্স নিতে হবে। লাইসেন্স প্রাপ্তির পর নতুন পণ্য সংযোজন ও পরিকল্পনা প্রণয়নের আগে নিয়ন্ত্রকের অনুমোদন নিতে হবে।
এ প্রসঙ্গে বাণিজ্য সচিব গোলাম হোসেন বলেন, আইনটি কার্যকর হলে দেশে এমএলএম কোম্পানির নামে অবৈধভাবে আর্থিক লেনলেন বন্ধ হবে। হস্তান্তরযোগ্য নয় এমনসব পণ্য যারা ক্রয়-বিক্রয় করছে তাদের কার্যক্রম বন্ধসহ ওয়েবসাইটভিত্তিক সব এমএলএম কোম্পানি বন্ধ হয়ে যাবে।
ডিরেক্ট সেল আইনের বিষয়ে এমএলএম কোম্পানি এমওয়ে ইন্টারন্যাশনালের এক্সিকিউটিভ ডা. জাকির হোসেন মিরন বলেন, এমএলএম-এর নামে দেশে যা ইচ্ছা তা-ই হচ্ছে। এ ধরনের ব্যবসাকে একটি আইনি কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার বিষয়ে সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে তা অবশ্যই ইতিবাচক। কেউ কেউ এমএলএম কোম্পানির কথা বলে ছয় মাস বা এক বছরে দ্বিগুণ টাকা দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের সারা জীবনের সঞ্চয় উজাড় করে নিয়ে যাচ্ছে। তা হতে পারে না। পণ্য ছাড়া কোনো ব্যবসা হতে পারে না।

Post a Comment

0 Comments