Advertisement

টেকনাফের বিচার প্রার্থীরা মামলা পরিচালনায় ভোগান্তিতে

ফোজদারী আদালত জেলায় স্থানান্তরের পর....

মোঃ আশেক উল্লাহ ফারুকী, টেকনাফধ:
টেকনাফ ফৌজদারী আদালত কক্সবাজার সদরে স্থানান্তরত করার পর টেকনাফ সীমান্ত উপজেলার প্রত্যান্ত অঞ্চলের বিচার প্রার্থীরা মামলা পরিচালনা করতে গিয়ে আর্থিক ও দৈহিক ভোগান্তির শিকার এখন নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। অনেকেই মামলা পরিচালনা করতে গিয়ে
আর্থিক ভাবে ফতুর বনে যাচ্ছে। তৎকালীন এরশাদ সরকারের আমলে ১৯৮১ সালে টেকনাফ উপজেলায় বিশেষ বিবেচনায় আদালতটি স্থাপিত হয়। পরবর্তী বি,এনপি সরকারের আমলে ১৯৯১ সালে আদালতটি কক্সবাজার জেলা সদরে স্থানান্তর করে। এর পর টেকনাফের বিচার প্রার্থীরা দীর্ঘপথ অতিক্রম করে মামলা পরিচালনা করে আসছে। জেলার কুতুবদিয়া, চকরিয়া, মহেশখালী থাকলে টেকনাফ সীমান্ত উপজেলায় কেন? থাকবেনা এ নিয়ে ভূক্ত ভোগীদের মধ্যে রীতিমতো প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। টেকনাফ উপজেলা থেকে কক্সবাজার জেলা সদর আদালত পর্যন্ত এর দুরত্ব ৯০ কিঃ মিটার। দীর্ঘপথ অতিক্রম করে বিচার প্রার্থীরা মামলা পরিচালনা করে আসছে। বিশেষ করে টেকনাফের প্রত্যান্ত অঞ্চল শাহপরীরদ্বীপ ও সেন্টমার্টিনদ্বীপের জেলা সদর মামলা পরিচালনা করতে গিয়ে একদিন আগে জেলা সদরে আসতে হয়। এতে করে ওদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যায় ও দৈহিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। উল্লেখ্য যে, টেকনাফ সীমান্ত উপজেলা নানা ক্রাইম ও অপরাধ প্রবন এলাকা। মাদক, চোরাচালান, নারী নির্যাতন, মানব পাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীসহ, বিভিন্ন মামলা জেলার অন্যান্য উপজেলার চেয়ে সবার শীর্ষে রয়েছে। টেকনাফ। এছাড়া টেকনাফ থানা থেকে বিভিন্ন মামলার গ্রেফতারকৃত আসামীদের জেলা কারাগারে প্রতিনিয়তই পৌছতে গিয়ে আইন শৃংখলা বাহিনীর বেগপেতে হয়। উখিয়া টেকনাফ সীমান্ত উপজেলায় প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা ৩২টি ক্যাম্পে শরণার্থী মর্যাদায় বসবাস করছে। এছাড়া এ দুই উপজেলায় ৬ লাখের বেশী বাংলাদেশী নাগরিকসহ ১৮ লাখ মানুষের বসবাস এবং এতে সৃষ্টি হচ্ছে, নানা অপরাধ প্রবনতা ও অপকর্ম। আইন শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে আইন শৃংখলা বাহিনীর  লোকেরা রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে এবং মামলার জট ও বাড়ছে। বিভিন্ন মামলার বাদী ও বিবাদী দীর্ঘপথ অতিক্রম করে জেলা আদালতে সঠিক সময়ে হাজিরা বা মামলা পরিচালনা করা দুরুহ ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। এতে মামলা পরিচালনা করতে গিয়ে বাদী ও বিবাদীর অতিরিক্ত আর্থিক ব্যায়ের অভিযোগ উঠেছে। টেকনাফ কক্সবাজার সড়কে রোহিঙ্গা ও এনজিওদের অবাধ বিচরণ ও ত্রান বিতরন নিয়ে সড়কে নিত্যদিন জনজাট লেগেই থাকে। ফলে মামলার বিচার প্রার্থীরা জেলা আদালত পৌছতে প্রায় বিলম্বের মধ্যে পড়ে। টেকনাফের প্রত্যান্ত অঞ্চল শাহপরীরদ্বীপ ও সেন্টমার্টিন দ্বীপের একাদিক বিচার প্রার্থীদের সাথে আলাপ করতে গিয়ে তারা উপরোক্ত কথাগুলোর সাথে একমত পোষন করে বলেন, টেকনাফ সীমান্তের সাধারণ বিচার প্রার্থীরা ভোগান্তির কথার প্রতি বিবেচনা করে জেলার অন্যান্য উপজেলার ন্যায় টেকনাফ ফৌজদারী আদালত পূর্ণবহাল দাবী করেন। এদিকে টেকনাফ ফৌজদারী  আদালত ভবনে যে সব দপ্তর কাজ চলছে তাদের মধ্যে টেকনাফ উপজেলা চেয়ারম্যান কার্যালয়, মহিলা বিষয়ক দপ্তর, যুব উন্নয়ন দপ্তর ও লবণ দপ্তর। আদালত ভবনটি রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে জরাজীন্ন এবং সংস্কার না থাকায় এটি এখন শ্রীহানিতে পরিনত হয়েছে। টেকনাফের ভূক্তভোগী বিচার প্রার্থী এবং জনস্বার্থে স্থানান্তির আদালতটি টেকনাফে পূণবহালের দাবী উঠেছে। 

Post a Comment

0 Comments