![]() |
| আদালত থেকে বের হচ্ছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া |
বিএনপি চেয়ারপাসন খালেদা জিয়া বলেছেন, বিদেশ থেকে অনুদানের যে অর্থ এসেছিল তা জিয়াউর রহমানের নামে স্থাপিত এতিমখানার এতিমদের কল্যাণ সাধিত হচ্ছে। সেই অর্থের বাকি অংশ যা ব্যাংকে গচ্ছিত ছিল তার প্রতিটি পয়সাই রক্ষিত রয়েছে। সুদসহ ব্যাংকের সেই টাকার পরিমাণ আরো অনেক বেড়েছে। এর একটি পয়সাও অপচয় বা তছরূপ হয়নি। কেউ চুরি করে খাওয়ার প্রশ্নও ওঠেনি।
বৃহস্পতিবার ঢাকার পঞ্চম বিশেষ আদালতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থন করে এ বক্তব্যে দেন তিনি। এর আগে দুই মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে আদালত খালেদা
জিয়ার জামিন মঞ্জুর করেন।
রাজধানীর বকশাবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতের বিচারক ড. মো, আক্তারুজ্জামানের আদালতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার বিচার চলছে।
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারার বক্তব্যে খালেদা জিয়া বলেন, ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টকে কেন্দ্র করে আমিসহ অন্যান্যের বিরুদ্ধে একটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মামলার সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও পুরোপুরি বানোয়াট। সমস্ত অভিযোগ স্ববিরোধী বক্তব্যে ভরপুর। আর এমন একটি ভিত্তিহীন অভিযোগে দায়ের করা এ মামলায় বিচারের নামে দীর্ঘদিন ধরে আমি হয়রানি, পেরেশানি ও হেনস্তার শিকার হচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘দুদকের আইনগত কর্তৃত্ব ও এখতিয়ারের বাইরে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে। আর এমন একটি ভিত্তিহীন অভিযোগে দায়ের করা এ মামলায় বিচারের নামে দীর্ঘদিন ধরে আমি হয়রানি, পেরেশানি ও হেনস্তার শিকার। আমার স্বাভাবিক জীবন-যাপন ব্যাহত হচ্ছে। বিঘ্নিত হচ্ছে আমার রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম। দেশ, জাতি ও জনগণের জন্য, তাদের স্বার্থ ও কল্যাণে নিয়োজিত আমার প্রয়াস ও পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’
খালেদা জিয়া বলেন, নানা কারণেই দেশে ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত ও মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের সঙ্গে শাসক মহলের বিরোধ সম্পতি প্রায় প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। এসব কারণেই বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি সম্প্রতি বলেছেন যে, বিচার বিভাগের হাত-পা বাঁধা।
তিনি বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ড ও সাবেক বিডিআর বিদ্রোহের দায়ে অভিযুক্তদের বিচার করার জন্য এই আলীয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এজলাস বসানো হয়েছিল। বাংলাদেশের বিচারের ইতিহাসে বিদ্রোহ, ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে দায়ের করা ওই মামলাটি একটি অভূতপূর্ব ও বিশেষ মামলা। শত শত অভিযুক্ত ও সাক্ষীর উপস্থিতিতে সেই মামলা পরিচালনার উপযুক্ত কাঠামো বিরাজমান কোর্ট-কাছারির প্রাঙ্গণে নেই। তাই আলীয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এজলাস স্থাপন করে সেই বিশেষ মামলাটি বিচারের আয়োজন করা হয়। কিন্তু রাষ্ট্রদ্রোহ, হত্যা ও বিদ্রোহের বিচারের জন্য যেখানে এজলাস স্থাপন করা হয়েছিল সেখানে আমার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিচার কেন করা হবে? একই ধরনের অভিযোগে দায়ের করা অন্যান্য মামলা আপনি কোর্ট-কাছারির অঙ্গনে বসেই পরিচালনা করছেন। কেবল আমার বেলায় কেন এই ন্যক্কারজনক ব্যতিক্রম।
খালেদা জিয়া বলেন, শৃঙ্খলা ভঙ্গ, বিদ্রোহ, রাষ্ট্রদ্রোহ ও খুন-ধর্ষনের দায়ে অভিযুক্তদের যেখানে বিচার হয়েছে সেখানে এজলাস বসিয়ে আমার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় বিচারের আয়োজন তারাই করেছে। সেখানে আমাকে হাজির হতে হচ্ছে। ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশ্য, এর মাধ্যমে বিচারের আগেই, বিচার চলাকালেই এবং বিচারের নামেই আমাকে জনসমক্ষে হেয় করা, অপমান করা, অপদস্ত করা। এটাও বিচার প্রক্রিয়ায় এক ধরণের হস্তক্ষেপ।
তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ এমন একটি ভীতিকর পরিবেশের জন্ম দিয়েছে যার কারণে জনমনে ন্যায়বিচার সম্পর্কে চরম সংশয় ও সন্দেহ সৃষ্টি করেছে। এর মাধ্যমে আমাকে বিচারের আগেই এবং বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এক ধরণের চরম হেনস্তা ও অসম্মানিত করা হচ্ছে। এর প্রতিবিধান আমি কার কাছে চাইবো? কোথায় পাব এর প্রতিকার?
এই দুই মামলার শুনানিতে হাজির না হয়ে বিচার বিলম্বিত করায় গত ১২ অক্টোবর একই আদালত খালেদার জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।
খালেদার পক্ষে জামিন আবেদনের ওপর শুনানি করে ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার বৃহস্পতিবার বলেন, তিনি চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গিয়েছিলেন। তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল তাই দেশে ফিরেই আত্মসমর্পণের জন্য আদালতে এসেছেন।
অন্যদিকে জামিনের বিরোধীতা করে দুদকের পিপি মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, খালেদা জিয়া জামিনের শর্ত লংঘন করে বিদেশে গিয়েছিলেন। তাকে জামিন দেওয়া যায় না।
উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন মঞ্জুর করে আদেশে বলেন, ভবিষ্যতে মামলা চলাকালে খালেদা জিয়া আবারও বিদেশে যেতে চাইলে তাকে আদালতের অনুমতি নিতে হবে। তবে, এই মামলার দুই আসামি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদের জামিন আবেদন নাকচ করেন আদালত।
চোখ ও হাঁটুর চিকিৎসার জন্য গত ১৫ জুলাই লন্ডন যান খালেদা জিয়া। সেখানে বড় ছেলে তারেক রহমানের বাড়িতে পরিবারের অন্যদের সঙ্গে কোরবানির ঈদ করেন তিনি। প্রায় তিন মাস যুক্তরাজ্যে থাকার পর বুধবার দেশে ফেরেন খালেদা জিয়া।
বৃহস্পতিবার ঢাকার পঞ্চম বিশেষ আদালতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থন করে এ বক্তব্যে দেন তিনি। এর আগে দুই মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে আদালত খালেদা
জিয়ার জামিন মঞ্জুর করেন।
রাজধানীর বকশাবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতের বিচারক ড. মো, আক্তারুজ্জামানের আদালতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার বিচার চলছে।
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারার বক্তব্যে খালেদা জিয়া বলেন, ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টকে কেন্দ্র করে আমিসহ অন্যান্যের বিরুদ্ধে একটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মামলার সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও পুরোপুরি বানোয়াট। সমস্ত অভিযোগ স্ববিরোধী বক্তব্যে ভরপুর। আর এমন একটি ভিত্তিহীন অভিযোগে দায়ের করা এ মামলায় বিচারের নামে দীর্ঘদিন ধরে আমি হয়রানি, পেরেশানি ও হেনস্তার শিকার হচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘দুদকের আইনগত কর্তৃত্ব ও এখতিয়ারের বাইরে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে। আর এমন একটি ভিত্তিহীন অভিযোগে দায়ের করা এ মামলায় বিচারের নামে দীর্ঘদিন ধরে আমি হয়রানি, পেরেশানি ও হেনস্তার শিকার। আমার স্বাভাবিক জীবন-যাপন ব্যাহত হচ্ছে। বিঘ্নিত হচ্ছে আমার রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম। দেশ, জাতি ও জনগণের জন্য, তাদের স্বার্থ ও কল্যাণে নিয়োজিত আমার প্রয়াস ও পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’
খালেদা জিয়া বলেন, নানা কারণেই দেশে ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত ও মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের সঙ্গে শাসক মহলের বিরোধ সম্পতি প্রায় প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। এসব কারণেই বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি সম্প্রতি বলেছেন যে, বিচার বিভাগের হাত-পা বাঁধা।
তিনি বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ড ও সাবেক বিডিআর বিদ্রোহের দায়ে অভিযুক্তদের বিচার করার জন্য এই আলীয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এজলাস বসানো হয়েছিল। বাংলাদেশের বিচারের ইতিহাসে বিদ্রোহ, ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে দায়ের করা ওই মামলাটি একটি অভূতপূর্ব ও বিশেষ মামলা। শত শত অভিযুক্ত ও সাক্ষীর উপস্থিতিতে সেই মামলা পরিচালনার উপযুক্ত কাঠামো বিরাজমান কোর্ট-কাছারির প্রাঙ্গণে নেই। তাই আলীয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এজলাস স্থাপন করে সেই বিশেষ মামলাটি বিচারের আয়োজন করা হয়। কিন্তু রাষ্ট্রদ্রোহ, হত্যা ও বিদ্রোহের বিচারের জন্য যেখানে এজলাস স্থাপন করা হয়েছিল সেখানে আমার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিচার কেন করা হবে? একই ধরনের অভিযোগে দায়ের করা অন্যান্য মামলা আপনি কোর্ট-কাছারির অঙ্গনে বসেই পরিচালনা করছেন। কেবল আমার বেলায় কেন এই ন্যক্কারজনক ব্যতিক্রম।
খালেদা জিয়া বলেন, শৃঙ্খলা ভঙ্গ, বিদ্রোহ, রাষ্ট্রদ্রোহ ও খুন-ধর্ষনের দায়ে অভিযুক্তদের যেখানে বিচার হয়েছে সেখানে এজলাস বসিয়ে আমার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় বিচারের আয়োজন তারাই করেছে। সেখানে আমাকে হাজির হতে হচ্ছে। ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশ্য, এর মাধ্যমে বিচারের আগেই, বিচার চলাকালেই এবং বিচারের নামেই আমাকে জনসমক্ষে হেয় করা, অপমান করা, অপদস্ত করা। এটাও বিচার প্রক্রিয়ায় এক ধরণের হস্তক্ষেপ।
তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ এমন একটি ভীতিকর পরিবেশের জন্ম দিয়েছে যার কারণে জনমনে ন্যায়বিচার সম্পর্কে চরম সংশয় ও সন্দেহ সৃষ্টি করেছে। এর মাধ্যমে আমাকে বিচারের আগেই এবং বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এক ধরণের চরম হেনস্তা ও অসম্মানিত করা হচ্ছে। এর প্রতিবিধান আমি কার কাছে চাইবো? কোথায় পাব এর প্রতিকার?
এই দুই মামলার শুনানিতে হাজির না হয়ে বিচার বিলম্বিত করায় গত ১২ অক্টোবর একই আদালত খালেদার জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।
খালেদার পক্ষে জামিন আবেদনের ওপর শুনানি করে ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার বৃহস্পতিবার বলেন, তিনি চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গিয়েছিলেন। তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল তাই দেশে ফিরেই আত্মসমর্পণের জন্য আদালতে এসেছেন।
অন্যদিকে জামিনের বিরোধীতা করে দুদকের পিপি মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, খালেদা জিয়া জামিনের শর্ত লংঘন করে বিদেশে গিয়েছিলেন। তাকে জামিন দেওয়া যায় না।
উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন মঞ্জুর করে আদেশে বলেন, ভবিষ্যতে মামলা চলাকালে খালেদা জিয়া আবারও বিদেশে যেতে চাইলে তাকে আদালতের অনুমতি নিতে হবে। তবে, এই মামলার দুই আসামি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদের জামিন আবেদন নাকচ করেন আদালত।
চোখ ও হাঁটুর চিকিৎসার জন্য গত ১৫ জুলাই লন্ডন যান খালেদা জিয়া। সেখানে বড় ছেলে তারেক রহমানের বাড়িতে পরিবারের অন্যদের সঙ্গে কোরবানির ঈদ করেন তিনি। প্রায় তিন মাস যুক্তরাজ্যে থাকার পর বুধবার দেশে ফেরেন খালেদা জিয়া।


0 Comments