Advertisement

কারা অভ্যন্তরে কোটি টাকার বাণিজ্য

‘রাখিব নিরাপদ, দেখাব আলোর পথ’ কারাগারের এই স্লোগান কেবল কাগজে-কলমে। বাস্তব চিত্র উল্টো। অনিয়মের চিত্র হরেকরকম। বন্দিদের জন্য বরাদ্দকৃত প্রয়োজনীয় সরকারি সুযোগ-সুবিধা বণ্টনে বৈষম্য সৃষ্টি করে তা পুনরায় বন্দিদের কাছে সাপ্তাহিক ও মাসিক প্যাকেজে বিক্রির সিস্টেম চালু করা হয়েছে। প্রতি মাসে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আড়াই থেকে তিন কোটি টাকার রমরমা বাণিজ্য চলছে বলে জানিয়েছেন সম্প্রতি মুক্তি ও জামিন পাওয়া বন্দি এবং তাদের স্বজনরা। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ৩ মাস কারাভোগের পর গত ১০ই ডিসেম্বর মুক্তি পান সোহেল নামে এক বন্দি। তিনি কারাভোগ ও কারাগারের ভেতরে রমরমা বাণিজ্যের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, প্রথমদিন আমিসহ আমদানি ওয়ার্ডে আড়াই শতাধিক বন্দি নেয়া হয়। প্রথম রাতের পর সকালে বিভিন্ন ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা কয়েদি ওভার শেয়ার (যারা মেট নামে পরিচিতি), ইনচার্জ (মেটের মধ্য থেকে নির্ধারিত) ও নাইট ওয়াচম্যানরা (মেটের সহযোগী ও রাতে পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করে) বন্দিদের কিনে নিয়ে যায়। আর এ সময় তারা বন্দিদের সঙ্গে প্যাকেজ বিক্রির চুক্তির কথা চূড়ান্ত করে নেয় (কার স্বজনরা কোন প্যাকেজের জন্য কতা টাকা প্রদান করবে)। আমাকে নেয়া হয় ‘স্কুল-২ ওয়ার্ডে’। মারধর এবং ইলিশ ফাইলে ঘুমাতে বাধ্য করা হলে পরে থাকার একটি সামান্য জায়গার জন্য প্রতি মাসে ৩ হাজার ৬০০ টাকায় ‘প্যাকেজ’ কিনে স্বজনদের ওই টাকা পরিশোধ করতে বলি। আর একটা প্যাকেজ আছে মাসে ৬ হাজার টাকা। তাতে শুধু চিৎ হয়ে ঘুমানো যায়। এপাশ-ওপাশ ফেরা যায় না। প্যাকেজ না কিনলে বরাদ্দকৃত খাবারও কমে যায়। তা অন্য বন্দির কাছে বিক্রি করে দেয়া হয়। আমাদের ওয়ার্ডের মেট যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত মো. জুলহাস মিয়া, ইনচার্জ ছিদ্দিক ও রাতের পাহারায় থাকা এরশাদ টাকা না দিলেই মারধর করতো। কষ্ট দিতো। কাজ করাতো। গোসলের জন্যও দিতে হতো ৫০০ টাকা করে। আমাদের ওয়ার্ডে ৩০০ থেকে ৩৫০ জন বন্দি থাকতো। এর মধ্যে ১০০ জনের মতো গরিব বন্দি যারা টাকা দিতে পারতো না। তারা প্রতিদিন ফাইলে ঘুমাতো এবং প্রায় প্রতি সপ্তাহেই নির্যাতনের শিকার হতো। কারাভোগের অভিন্ন অজ্ঞিতার বর্ণনা দেন একই দিন মুক্তি পাওয়া আরও ১৫ জন। এভাবে কারাগারের অর্ধেক তথা ৪ হাজার বন্দির কাছ থেকে প্রতি মাসে অন্তত ৬ হাজার টাকা করে আদায় করা হলে প্রায় আড়াই কোটি টাকা আদায় হয় বলে তারা জানান। ২,৬৮২ জন ধারণ ক্ষমতার ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ওইদিন বন্দির সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ২৪১ জন।
একই কারাগারে ২০ দিন কারাভোগের পর মুক্তি পাওয়া মোহাম্মদ মানিক মঙ্গলবার মানবজমিনকে বলেন, গত ২১শে নভেম্বর আমাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়। ওইদিন আমদানি ওয়ার্ডে আড়াই শতাধিক বন্দি ছিল। পরদিন সকালে পাঁচটি টেবিল নিয়ে বসা কারারক্ষীদের কাছে বিভিন্ন ওয়ার্ডের অর্ধশতাধিক মেট আসে। কারারক্ষীদের কাছ থেকে এক মেট ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নগদ পরিশোধ করে বেছে বেছে ৩০ বন্দিকে কিনে নিতে দেখা যায়। এভাবে ধারাবাহিকভাবে বিক্রি হতে থাকে। শেষের দিকে আমিসহ ৯৬ জনকে কিনতে নগদ ৩০ হাজার টাকা দেন ওয়ার্ড ‘দালান-২’ এর ইনচার্জ বা মেট আনোয়ার। ওয়ার্ডে এনেই আমাদের মারধর করতে শুরু করে। আর বলতে থাকে আমি তোমাদের কিনে এনেছি। তোমরা তা দেখেছ। তোমাদের স্বজনদের বলবে আমার টাকা দিয়ে দিতে। আমাকে বলে সপ্তাহে ৩ হাজার ৬০০ টাকা করে দিতে। ভ্রাম্যমাণ আদালতে মাদক আইনে আমি ২০ দিনের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হই। গরিব এবং টাকা নেই বলে জানালে মারধর ও ইলিশ ফাইলে ঘুমাতে দেয়। কষ্ট দেয়। তা সহ্য করতে না পেরে আমি বলি ২০ দিনের জন্য ৩ হাজার টাকার বেশি দিতে পারবো না। পরে ৩ হাজার ২০০ টাকায় দফারফা হয়। টাকা আদায় করার জন্য এভাবে কষ্ট দেয়ার কারণে বন্দিরা সহ্য করতে না পেরে অর্ধেকের বেশি বন্দি ওই প্যাকেজ কিনতে বাধ্য হয় বলেও জানান তিনি। তার সঙ্গে বের হওয়া অপর এক বন্দি জানান, টাকা দিতে না পারলে কম বয়সীদের তাদের সেবায় নিয়োজিত করে, একই বিছানায় ঘুমাতে বাধ্য করে মেট ও নাইট ওয়াচ ম্যানরা। 
কারাসূত্র ও সম্প্রতি কারামুক্ত ব্যক্তিরা জানায়, আদালত বা থানা পুলিশ অন্তর্বর্তীকালীন হাজতি পরোয়ানা বা সাজা পরোয়ানার কাগজপত্রসহ আসামি নিয়ে কারাগারে যান। এরপর ডেপুটি জেলার (ভর্তি) পরোয়ানার কাগজপত্রের সঙ্গে আসামিকে নাম, ঠিকানা, পরিবার বৃত্তান্ত ইত্যাদি জিজ্ঞেস করে তা মিলিয়ে নেন। লিপিবদ্ধ করেন শনাক্তকরণ চিহ্নও। এরপর ভর্তি রেজিস্ট্রারে তার নাম নিবন্ধন করা হয়। জমা রাখা হয় তাদের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন টাকাসহ ভেতরে নেয়ার অনুমতি নেই এমন জিনিসপত্র। পরে পাঠিয়ে দেয়া হয় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ওয়ার্ড যমুনা-২ এ। যা আমদানি ওয়ার্ড নামে পরিচিতি। প্রতিদিন আসা সাধারণ বন্দিদের ওয়ার্ডে নিয়ে রাখা হয়। এ ছাড়া ভিআইপি বন্দিদের আমদানি ওয়ার্ডে না নিয়ে সরাসরি ডিভিশন পাওয়া কারাকক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ছাড়া জঙ্গি, দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীকেও সেখানে না নিয়ে সরাসরি সেলে নিয়ে যাওয়া হয়। আমদানি ওয়ার্ডে নেয়ার পর প্রয়োজন অনুযায়ী অসুস্থ ও আহত হাজতি ও কয়েদিদের চিকিৎসক দেখানো হয়। প্রয়োজনে সেখান থেকে কারা হাসপাতাল বাইরের হাসপাতালেও পাঠানো হয়। বর্তমানে প্রতিদিন আমদানি ওয়ার্ডে ১৮০ থেকে ২৫০ পর্যন্ত বন্দি থাকে। তাদের মধ্যে ১০ থেকে ১২ জনকে চিকিৎসা দেয়ার প্রয়োজন পড়ে।
সকালে ফজরের নামাজের পর বন্দিদের জাগিয়ে তোলা হয়। রুটি ও গুড়ের নাস্তা শেষে হাজির করা হয় জেলারের কেস টেবিলে। তিনি সব মিলিয়ে রেজিস্ট্রারে ও পরোয়ানা স্বাক্ষর করে। এরপর কারা চিকিৎসক বা নার্স ওজন পরিমাপ করেন ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। এরপর সব বন্দির ছবি তোলা হয়। এরপর প্রতি বন্দির রেজিস্টার নম্বর অনুযায়ী মামলার শিরোনাম, নম্বর, ধারা, বন্দির আগমন ও আদালতে হাজিরের পরবর্তী তারিখ ও সময়, এবং কারাগারের কোন ওয়ার্ডে তার ঠিকানা হবে বিস্তারিত লেখা হয়। তৈরি হয় হিস্ট্রি টিকেট। এই কাজ সম্পাদন করে সর্ব প্রধান কারারক্ষী, প্রধান কারারক্ষী ও কারারক্ষীরা। এ সময় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পদ্মা, মেঘনা, সুরমা, মণিহারসহ বিভিন্ন নামে ৪৮টি ওয়ার্ডে বন্দির দেখাশুনার দায়িত্বে থাকা কয়েদি ওয়ার শেয়ার (যারা মেট নামে পরিচিতি), ইনচার্জ (মেটের মধ্য থেকে নির্বাচিত) ও নাইট ওয়াচ ম্যানরা (মেটের সহযোগীর দায়িত্ব পালন করে) সামর্থ্যবান বন্দিদের নিলামের মতো ডাক দিয়ে নিজের ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতা করে। জেল কোড অনুযায়ী দীর্ঘমেয়াদি সাজার ১ তৃতীয়াংশ ভোগ করেছে এমন কয়েদিদের নাইট ওয়াচ ম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয় কারাকর্তৃপক্ষ। আর যারা সাজার দু’তৃতীয়াংশ ভোগ করেছে তাদের নিয়োগ দেয়া হয় কয়েদি ওভার শেয়ার বা মেট হিসেবে। যদিও প্রতি ৭ জন বন্দির বিপরীতে এক জন কারারক্ষী থাকার কথা থাকলেও দু’আড়ইশ’ বন্দির একটি পুরো ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালন করছে মাত্র ১ বা ২ জন কারারক্ষী। এছাড়া পুরো একটি ভবনে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র একজন প্রধান কারারক্ষী। অন্যদিকে একই সঙ্গে কয়েদি ওভার শেয়ার এবং নাইট ওয়াচ ম্যানের সংখ্যাও খুবই অপ্রতুল। প্রতি ১০০ জন বন্দির বিপরীতে ৫ জন নাইট ওয়াচ ম্যান রাতে পালাক্রমে ১ ঘন্টা পর পর পালাবদল করে দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও বর্তমানে প্রতিটি ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালন করছে ১ থেকে ৩ জন। অপর দিকে প্রতি ১০০ জন বন্দির বিপরীতে ৫ জন করে মেট দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও প্রায় ওয়ার্ডে রয়েছে মাত্র ১ জন করে।
সাজার নির্ধারিত ১ তৃতীয়াংশ বা ২ তৃতীয়াংশ সময় কারাভোগের পর যেসব কয়েদি জেলের নিয়ম-কানুন মেনে চলেছে, মার্জিত ও ভাল আচরণ করেছে তাদের মধ্যে থেকে কয়েদি ওভার শেয়ার এবং নাইট ওয়াচ ম্যান নির্বাচন করার বিধান রয়েছে, যাতে বন্দিদের সঙ্গে যথাযথ আচরণ করে। কিন্তু ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের এখন তারা নিজেরাই শোষক ও এবং শোষণের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বর্তমানে তিনগুণের বেশি বন্দি রয়েছে। ২ হাজার ৬৮২ ধারণ ক্ষমতার ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে গত ১০ ডিসেম্বর বন্দির সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ২৪১ জন। এ বিপুল পরিমাণ বন্দিকে রাখতে গিয়ে স্থান সংকট খুবই প্রকট। আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কারাওয়ার্ড বা কক্ষের মেঝে যা বন্দিদের থাকা, বিশ্রাম ও ঘুমানোর জায়গা তাই তাদের কাছে প্যাকেজভিত্তিতে নিলাম বা সাময়িকভাবে বিক্রি করা হচ্ছে। শোয়া ও দু’দিকে নড়াচড়ার মতো জায়গার জন্য সাপ্তাহিক প্যাকেজ ৩ হাজার ৬০০ টাকা। আবার শুধু চিৎ বা কাৎ হয়ে শোয়ার জায়গার জন্য মাসিক প্যাকেজ ৬ হাজার টাকা। টাকা না দিলে তাদের মারধর করা হয়। ইলিশ ফাইল ও কাচকি ফাইলে ঢুকানো হয়। কেড়ে নেয়া হয় খাবার। এ ছাড়া গোসলের জন্য প্রতি বালতি পানি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকায়। বন্দির স্বজনরা কারাগারে দেখতে গেলে বিপরীত পাশ দিয়ে স্বজনদের পিছু নেয় কারারক্ষী এবং মেটের লোকজন বা দালাল। প্যাকেজ অনুযায়ী তার হাতে টাকা তুলে দিতে হয়। এছাড়া কারা ক্যান্টিন বা দোকান থেকে বন্দিদের জন্য জিনিসপত্র পাঠানো হলে সেখান থেকে পণ্য বিনিময়ের মাধ্যমেও টাকা নেয়া হয়। এক্ষেত্রে প্রতি প্যাকেট বেনসন সিগারেটের দাম ধরা হয় ২০০ টাকা। টাকা না দিলে চলে নানা ধরনের নির্যাতন। পেটানো হয়। কারাগারের ভেতরে অন্য একজন ঝগড়া করলেও দোষ চাপে প্যাকেজহীন ব্যক্তির উপর। তাদের ইলিশ ও কাচকি ফাইলে রাখা হয়। ঠাসাঠাসি জায়গায় ফাইল করে শুতে দেয়া হয়। কারাগারের ভেতরে থাকা স্বজন একটু ভাল থাকার জন্য কারাগারের বাইরে থেকে পিতা, ভাই, স্ত্রী ও অন্যান্য স্বজনরা কারারক্ষী ও মেটদের হাতে সপ্তাহ বা মাস শেষে তুলে দিচ্ছে টাকা। সম্প্রতি কারামুক্ত অন্তত একডজন ব্যক্তি জানিয়েছেন অর্ধেকের বেশি কারাবন্দি এই প্যাকেজ ক্রয় করছে। এ হিসেবে মাসে অন্তত ২ কোটি টাকার বাণিজ্য চলছে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাভ্যন্তরে। এই টাকার ভাগ পাচ্ছে মেট ও নাইট ওয়াচ ম্যান হয়ে কারারক্ষীরাও। ফলে কারাগারে থেকেই প্রতিমাসে ১ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করছে মেট ও সহযোগীরা। সেজন্য অনেকেই সাজা শেষ হয়ে গেলেও যাতে কারাগার থেকে বের হতে না হয় তার জন্য স্বজনদের বলে কৌশলে অন্য মামলায় আসামি হয়ে যায়। কোন বন্দি প্যাকেজের টাকা দিতে না পারলে অন্যের কাছ থেকে ধারে তা মেটানোর চলও রয়েছে। এছাড়া প্যাকেজের টাকা পরিশোধ করতে না পারলে আদালতের মুক্তির আদেশের পরও কারাফটকে আটকে রাখা হচ্ছে। স্বজনরা টাকা পরিশোধ করলে তবেই খোলছে কারাফটক।
৫ বছর কারাভোগের পর মুক্তি পাওয়া সুফিয়া খাতুন বলেন, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে টাকা দিতে না পারায় তাকে প্রথমে নির্যাতন করা হয়। একই কারণে শত অনুনয় বিনয়ের পরও তাকে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের মহিলা ওয়ার্ডেও একইভাবে বাণিজ্য চলছে বলে জানান ১০ বছর কারা ভোগের পর মুক্তি পাওয়া অপর এক নারী কারাবন্দি জানান।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. জাহাঙ্গীর কবির মানবজমিনকে বলেন, কারাগারে ১ জন বন্দির জন্য বরাদ্দ করা স্থানে কয়েকগুণ বেশি বন্দি রাখতে হচ্ছে। আবার কারারক্ষীর সংখ্যাও খুবই অপ্রতুল। এজন্য কারাভ্যন্তরে কিছু বিশৃঙ্খলা ও মারামারির ঘটনা ঘটছে। আর মেট বা ওয়াচম্যানরা তো অপরাধী থেকে হয়। বন্দিদের কাছ থেকে তাদের মাঝে-মধ্যে টাকা চাওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। তখন ব্যবস্থা নেয়া হয়। কারারক্ষীরা টাকা নিলেও ব্যবস্থা নেয়া হয়। কিছুদিন আগেও বন্দিদের কাছ থেকে টাকা নেয়ার অভিযোগে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হলেও চলতি এমন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে খাবার নিয়ে বাণিজ্য হয় না। যার যা প্রাপ্য তাকে তাই দেয়া হয়।

Post a Comment

0 Comments