প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ইঙ্গিত করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, এখন তিনি মানসিকভাবে ‘অসুস্থ’ এবং তার জায়গা গণভবন নয়।
বড়দিন উপলক্ষে রোববার রাতে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে ক্ষমতাসীনদের কঠোর সমালোচনা করেন বিএনপি নেত্রী।
খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা এখন হিংস্র হয়ে উঠেছে।
“এরা মানুষের মতো মানুষ নেই। এদের মধ্যে মনুষ্যত্ব বলে কিছু নাই। এরা হিংস্র হয়ে গেছে। এরা পশুর চেয়েও অধম হয়ে গেছে।
“সেজন্য বলছি যে, আওয়ামী লীগের নেত্রীর বিরুদ্ধে কোর্ট থেকে যে রায়টা দেওয়া হয়েছিল- ‘রং হেডেড’। আসলে যে পাগল মানুষকে দিয়ে কেনোদিন দেশ শাসন হয় না, তার অবস্থান গণভবনে না। তার অবস্থান হতে পারে পাবনার... কী যে বলে? অবস্থান সেখানে হলে সুস্থ হয়ে আবার রাজনীতি করতে পারেন।”
নাম উল্লেখ না করে প্রধানমন্ত্রীকে ইঙ্গিত করে বিএনপি নেত্রী বলেন, “এখন তিনি সম্পূর্ণ অসুস্থ এবং মানসিক দিক থেকে আরও বেশি অসুস্থ। মানসিক রোগী কখনো দেশ শাসন করতে পারে না।”
দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করে আসা বিএনপি এ বছরের শুরুতে নির্বাচনের বর্ষপূর্তির কর্মসূচিতে বাধা পেয়ে তিন মাস হরতাল-অবরোধ করলেও এবার সুর পাল্টেছেন খালেদা জিয়া। আন্দোলন নয়, নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারকে পরাস্ত করতে হবে বলে এখন মনে করছেন তিনি।
“বিএনপি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। আমরা বলতে চাই, দেশ বাঁচানোর জন্য আন্দোলন নয়, নির্বাচন দিয়ে তাদের (সরকার) ঘায়েল করতে হবে।”
পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
তবে বড়দিনের প্রার্থনায় সরকার পতনের কামনা করতে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন খালেদা জিয়া।
তিনি বলেন, “সেদিন আপনারা প্রার্থনা করবেন- আমাদেরকে ওই সব জালেম, অত্যাচারী, খুনিদের হাত থেকে, গুম-খুন-হত্যার হাত থেকে দেশের মানুষকে রক্ষা করে। যিশু খ্রিস্টের কাছে এটাই হোক প্রার্থনা।”
গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এলবার্ট পি কস্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সুকোমল বড়ুয়া, বিএনপির সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক জন গোমেজ, খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যাপক মার্শেল এম চিরান, ময়মনসিংহের শশধর দ্রং, দিনাজপুরের যাজক নির্ভয় দাস বক্তব্য রাখেন।


0 Comments