Advertisement

কক্সবাজারে চার দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন

০ বিলিয়ন ডলারের বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনা
আতিকুর রহমান মানিক, কক্সবাজার :
আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার (বিসিআইএম) আঞ্চলিক জোটকে কার্যকর করতে চায় সরকার। এই জোটের মাধ্যমে দেশে আঞ্চলিক বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়িয়ে যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতের উন্নয়নের জন্য
পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ চলছে। কূটনীতিকদের মতে, এই জোট কার্যকর হলে ২০ বিলিয়ন ডলারের বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ১৭ ও ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার এই চার দেশের আঞ্চলিক জোটের মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী জানান, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তার আলাপ হয়েছে। বিসিআইএমের বৈঠক আয়োজন এবং জোটটিকে কার্যকর করার জন্য চীন কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার জানান, বিসিআইএম অর্থনৈতিক করিডোর বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন এবং ভারতের সংশ্লিষ্ট জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার উপর ভিত্তি করে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব হবে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পরিকল্পনা কমিশন থেকে জানা গেছে, চারদেশের আঞ্চলিক অর্থনৈতিক করিডোরে যুক্ত হলে লাভবান হবে বাংলাদেশ। বিসিআইএম কার্যকর হলে চারটি দেশের মধ্যে বছরে অন্তত ৪৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বাণিজ্য বাড়বে। যা থেকে বছরে কম হলেও ৩ হাজার কোটি টাকার শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা পাওয়া যাবে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশে বিশাল অংকের চীনা বিনিয়োগের দ্বার এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনা খুলে দেবে বিএসআইএম অর্থনৈতিক করিডোর। বাংলাদেশসহ এ অঞ্চলের সবগুলো দেশই এতে লাভবান হবে।
এদিকে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেজিয়াংয়ের আমন্ত্রণে গত জুন মাসে ৬ দিনের চীন সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীনের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠককালে বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার (বিসিআইএম) করিডোর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া দ্রুততর করার আহ্বান জানান।
শেখ হাসিনা চীন সফরে বলেন, এতে এ অঞ্চলের সব দেশ লাভবান হবে। এ স্বপ্ন বাস্তবায়নে চীন ও বাংলাদেশ একসঙ্গে ভারত এবং মিয়ানমারের সঙ্গে কাজ করতে পারে।
কূটনৈতিক সুত্রগুলো বলছে, বিসিআইএম অর্থনৈতিক করিডোর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হলে বাংলাদেশে ১৫ থেকে ২০ বিলিয়ন ডলারের মতো চীনা বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে বাংলাদেশে কর্মসংস্থানসহ অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসতে পারে। যার মধ্যে বিদ্যুৎ প্রকল্প, গভীর সমুদ্র বন্দরসহ বিভিন্ন প্রকল্পে চীনের বিনিয়োগ হবে।
চলতি বছরের শুরুতে চীনের ইউনান প্রদেশের গভর্নর লি জি হেং বাংলাদেশ সফরে এসে মন্তব্য করেন, বাংলাদেশ শিগগিরই বৈশ্বিক বিনিয়োগের কেন্দ্রে পরিণত হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দ্য রিপোর্টকে জানান, মিয়ানমারের মধ্য দিয়ে পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের জন্য বাংলাদেশ অনেক আগে থেকেই চেষ্টা করে আসছে। বাংলাদেশ ২০০৭ সালে তার নিজস্ব অর্থায়নে টেকনাফের গুনধুম থেকে মিয়ানমারের বাউলিবাজার পর্যন্ত ২৬ কিলোমিটার সড়ক স্থাপনে প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে আরাকানের মুসলিম রোহিঙ্গাদের নিয়ে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের মনোভাবের কারণে প্রকল্প নিয়ে অগ্রগর হওয়া সম্ভব হয়নি। অথচ বাউলিবাজার থেকে ১৪৬ কিলোমিটারের মধ্যে মিয়ানমারের পশ্চিম উপকূল চাকতো (কোয়াক কো) অবস্থিত। এখানে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের (এসইডেজ) আওতায় চীনের সহায়তায় একটি গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপিত হচ্ছে। চাকতো থেকে কুনমিং পর্যন্ত সরাসরি রেল যোগাযোগ স্থাপনের কাজ শিগগির শুরু হচ্ছে। আর চাকতো-কুনমিং গ্যাস পাইপলাইন ইতোমধ্যে স্থাপিত হয়েছে। তাই বাংলাদেশ চাকতোর সঙ্গে যুক্ত হতে পারলে সহজেই কুনমিংয়ে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারবে। এ ছাড়া প্রস্তাবিত একটি সড়ক রুট কলকাতা থেকে বাংলাদেশ, মিয়ানমার হয়ে চীনের কুনমিং পর্যন্ত একটানা হবে।
তিনি আরও জানান, ভূমিবেষ্ঠিত ইউনান প্রদেশ চীনের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। চীনের মূল ভূখণ্ড ঘুরে সমুদ্রে পৌঁছানো ইউনানের জন্য অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক নয়। এ কারণেই কুনমিং-চাকতো সরাসরি রেললাইন স্থাপিত হচ্ছে। আর ইউনান ও আশপাশের অঞ্চলের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে একই রুটে গ্যাস পাইপলাইন স্থাপিত হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় অঞ্চলের জন্য চীন বিকল্প হিসেবে বঙ্গোপসাগর ব্যবহার করতে চায়। এ জন্য দেশটি কক্সবাজারের সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপনে আগ্রহী

Post a Comment

0 Comments