জসিম উদ্দিন ছিদ্দিকী,কক্সবাজার:
বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন ধ্বংসের পথে। অরক্ষিত জনপথ ভুমিদুস্যদের কবল থেকে এ দ্বীপকে রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা তৈরী করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন কক্সবাজার জেলার পরিবেশবাদীরা। প্রাপ্ত তথ্য মতে, সেন্টমার্টিন দ্বীপকে ১৯ এপ্রিল ১৯৯৯ সালে স্বারক নং ৪/৭/৮৭/৯৯/২৪৫ মুলে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ে ইসিএ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে অনুমতিবিহীন যে কোন ধরণের স্থাপনা নির্মাণ ওই দ্বীপে সম্পূর্ণ নিষেধ। ওই নীতিমালায় ঝিনুক, খরাল ,কচ্চপ ধরা, ভুমি শ্রেণী পরিবর্তন না করার জন্য নিষেজ্ঞা রয়েছে। পর্যটন কেন্দ্র ঘোষণা করার কারণে স্থানীয় মানুষের মান জীবিকার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ওই পরিপত্রে।
সূত্রে প্রকাশ, দৈনিক ৪ হাজারোর অধিক পর্যটক সেন্টমার্টিন ভ্রমনে যায়। বিনিময়ে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সেন্টমার্টিন খেকোরা। কিন্তু নীতিমালা না থাকায় স্থানীয় এমপিসহ কিছু চিহ্নিত লোকজনের কাছে ওই মোটা অংকটি চলে যায়। অন্যদিকে লোকাল এমপি’র কারণে পরিবেশ অধিদপ্তর পরিবেশ বান্ধাব কোন কাজ করতে পারে না বলে জানা গেছে। অসাধারণ সৌন্দর্য্যে লীলাভুমি দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। টেকনাফ থেকে ৩০ কিলোমিটার দুরে বঙ্গোপসাগরের মাঝখানে দ্বীপটির অবস্থান। বিভিন্ন দেশ-বিদেশ হতে আসা দর্শনার্থীদের জন্য উপযুক্ত স্থান। মৎস্য খনি হিসেবে এ দ্বীপের পরিচিত সর্বত্র রয়েছে। দ্বীপের চর্তুদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে প্রবাল পাথর আর শামুক ঝিনুক। দেখা যায় সারি-সারি নারকেল বাগান আর সাগর উপকুলে মাছ শিকারে ব্যস্ত গাংচিল। সেন্টমাটিন এলাকায় বেশি দেখা যায় কেয়া মাছ, কাকঁড়া, কচ্চপ, পাথর মুক্তা সহ সমুদ্র ১০৩ প্রজাতির প্রাণী। চুনা পাথরের প্রবাল এ দ্বীপ বিশ্বখ্যাত একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র বটে। নেই কোন রাজনৈতিক অস্থিরতা, হরতাল অবরোধ। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কেয়াবন ও প্রবাল পাথরে বেষ্টিত নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যরে দ্বীপ সেন্টমার্টিনে প্রতিনিয়তে পর্যটকদের ভীড়। এ দ্বীপটির অকৃত্রিম দৃশ্য এক নজর উপভোগ করতে শত মাইল পেরিয়ে হাজার হাজার দশনার্থী এখানে এসে তৃপ্তি উপভোগ করে যাচ্ছে। পর্যটকরা বলছেন বিশ্বের অন্যান্য দর্শনীয় স্থানের তুলনায় এ দ্বীপের সৌন্দর্য্য কোন অংশেই কম না। সেন্টমার্টিনদ্বীপকে রক্ষা করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে একটি সু-নিদিৃষ্ট নীতিমালার আওতায় আনতে হবে। তা না হলে এ দ্বীপ অচিরে হারিয়ে যাবে। এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিভাগের ছাত্র তাসরিন হায়দার মাহি প্রতিবেদককে বলেন, দ্বীপের চর্তুদিকে দখল-বেদখলসহ বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তুলা হলে পরিবেশ হুমকির মুখে পড়বে। তিনি আরো বলেন পরিবেশ বিপর্যয়ের অনেক কারন সেন্টমাটিন দ্বীপে দেখা যাচ্ছে। সেন্টমাটিনদ্বীপ রক্ষা করার জন্য পরিবেশ বান্ধাব নীতিমালা গ্রহণ করতে হবে।
অন্যদিকে সেন্টমাটিন দ্বীপবাসীরা জানিয়েছেন, সরকারী দলের কিছু লোকজন আর বিরোধী দলীয় কিছু লোকজন মিলে সেন্টমাটিন দ্বীপকে হুমকির মুখে নিয়ে যাচ্ছে। তারা অবৈধভাবে বহুতল হোটেল মোটেল ও কটের্জ নির্মাণ, পরিবেশ বান্ধাব বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী ধ্বংস করে যাচ্ছে। সেন্টমার্টিন এলাকার সাংবাদিক হাফেজ মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন, প্রশাসন যদি একটি লোকাল কমিটি গঠন করে তাহলে এলাকার জনপথ সমস্যা সমাধানসহ পরিবেশ দুষণ রোধে আরো গতিশীল আকারে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। সড়কের উভয় পাশে বৃক্ষরোপন,সড়ক সংস্কারসহ আরো নানা উন্নয়নমুখী কাজ করা সম্ভব।
এব্যাপারে কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সর্দার শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, সেন্টমার্টিন উন্নয়নে একটি নীতিমালা থাকলে ভাল হয়। যদি কোন পক্ষে এব্যাপারে সহযোগিতা চাওয়া হলে তিনি সর্বাতœক সহযোগিতা করবেন বলেও জানান।
কক্সবাজারে সিনিয়র সাংবাদিক মমতাজ উদ্দিন বাহারী জানান,সেন্টমার্টিন রক্ষার জন্য একটি নীতিমালা করা খুবই প্রয়োজন। আমাদের জেলা প্রশাসক মহোদয় রয়েছেন তিনি সেন্টমার্টিন রক্ষা করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের সহযোগিতায় একটি গ্রহণযোগ্য নীতিমালাসহ কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে পারেন।
