Advertisement

চকরিয়া ও পেকুয়ায় চলছে পোনা আহরনের মহোৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক
সরকারী নিষেধাজ্ঞাকে অমান্য করে চকরিয়া ও পেকুয়ায় চলছে পোনা আহরন ও জাটকা নিধনের মহোৎসব।
সরকারী বিধি নিষেধ মোতাবেক, নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত ৮ মাস সমুদ্র উপকুলের সাগর ও নদী এবং শাখা খাল গুলো থেকে সব ধরণের মৎস্য ও পোনা আহরণ বন্ধ থাকবে। এসময়ে কেউ এসব পয়েন্ট থেকে মৎস্য ও পোনা আহরণ করলে তার জেল-জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। আইন
অমান্যকারীকে কমপক্ষে একবছর ও সর্বোচ্চ দুইবছর সশ্রম কারাদন্ড ভোগ করতে হবে। একই সাথে দিতে হবে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থ জরিমানা।  কিন্তু  চকরিয়া ও পেকুয়ায় মানা হচ্ছেনা এই আইনটি। বিভিন্ন পয়েন্টে সাগর ও নদী এবং শাখা খাল গুলোতে মশারির জাল বসিয়ে প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা চালাচ্ছে জাটকা ও পোনা আহরণের মহোৎসব। প্রকৃত জেলেরা সরকারের আদেশ মেনে আহরণ বন্ধ রাখলেও জেলে না হয়েও অভিযুক্ত ব্যবসায়ীরা শ্রমিকদের বেশি টাকার লোভ দেখিয়ে ঠিকই মৎস্য পোনা আহরন করে চলছে। এ অবস্থার কারনে জেলার ২২ হাজার প্রকৃত জেলে ও তাদের পরিবারের মাঝে চরম আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। জেলেরা দাবি করেন, সুবিধাভোগী পোনা ব্যবসায়ীদের অপতৎপরতা বন্ধ করা না হলে চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার মৎস্যভান্ডার শুন্য হয়ে পড়বে। সরকারী নির্দেশনা মতে, মৎস্য আহরণের সঠিক সময়ে জেলেদেরকে সাগরে নেমে মাছ না পেয়ে খালী হাতে ফিরে আসতে হবে। জেলেরা অবিলম্বে চকরিয়া ও পেকুয়াসহ জেলার সমুদ্র উপকুলের মৎস্যভান্ডার রক্ষার স্বার্থে নিষিদ্ধ সময়ে মৎস্য ও পোনা আহরণ বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবি জেলে সমিতির জেলা সভাপতি আশরাফ আলী, সমিতির অন্যতম সদস্য কামাল উদ্দিন, রামপদ জলদাশ, জামাল উদ্দিন ও জেলা জলমহাল কমিটির সদস্য জাফর আলম শুক্রবার বিকেলে চকরিয়া প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের জানান, সরকারীভাবে বছরের নভেম্বর থেকে জুন মাস পর্যন্ত সমুদ্র উপকুলের সাগর ও নদী এবং শাখা খাল গুলো থেকে সব ধরণের মৎস্য ও পোনা আহরণ বন্ধের সুনিদিষ্ট আদেশ রয়েছে। কিন্তু পেকুয়া উপজেলার কিছু সুবিধা ভোগী পোনা ব্যবসায়ী প্রকৃত জেলেদের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে দিব্যি মৎস্য ও পোনা আহরণে মেতে উঠেছে। সরকারের ঘোষনা মতে, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুজয় পাল মগনামা. উজানটিয়া, রাজাখালী ইউনিয়নের সমুদ্র উপকুলের বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধভাবে পোনা আহরণ বন্ধে কঠোর নির্দেশ দেন। জেলে সমিতির নেতৃবৃন্দরা আরো বলেন, নির্দেশনা পেয়ে সুবিধাভোগী ব্যবসায়ীরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। তাঁরা নিজেদের অপকর্ম ঢাকার জন্য উল্টো মৎস্য কর্মকর্তার অপসারন ইস্যুতে মানববন্ধন নাটক ও নিষিদ্ধ সময়ে মৎস্য ও পোনা আহরণের দাবি করেন। জেলে নেতারা বলেন, সরকারী হিসেব মতে চকরিয়া উপজেলায় ৩হাজার ৪৪১জন ও পেকুয়া উপজেলায় ৩হাজার ৬শত জন প্রকৃত জেলে রয়েছে। জেলার আট উপজেলায় সরকারী হিসেবে প্রকৃত জেলের সংখ্যা প্রায় ২২হাজার। এসব জেলেরা সরকারের আদেশ মেনে এখন মৎস্য ও পোনা আহরণে নেই। কিন্তু বর্তমানে যারা মৎস্য ও পোনা আহরণের দাবিতে সোচ্ছার হয়েছে তাঁরা কেউ প্রকৃত জেলে নন। মুলত মানবন্ধনকারীরা পেশায় পোনা ব্যবসায়ী। তাদের সাথে রয়েছে অবৈধ পন্থায় মশারির জাল বসিয়ে পোনা নিধনে জড়িত কিছু শ্রমিক।
কক্সবাজার জেলা জেলে সমিতির সভাপতি আশরাফ আলী বলেন, জেলার সমুদ্র উপকুলের মৎস্যভান্ডার রক্ষা তথা ডিম ওয়ালা মাছের প্রজনন ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারের ঘোষিত সময়ের মধ্যে কোন ধরণের মৎস্য ও পোনা আহরণ করা যাবেনা। তিনি বলেন, জেলার ২২হাজার জেলে পরিবারকে বাচাঁতে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাকে আরো বেশি কঠোর ভুমিকা পালন করতে হবে

Post a Comment

0 Comments