এম.শাহজাহান চৌধুরী শাহীন
কক্সবাজারের উপকুলীয় এলাকা কুতুবদিয়া-পেকুয়া মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা খনিজ সম্পদ উত্তোলনের জন্য স্বাধীনতার দীঘৃ ৪১ বছরেরও কোন সরকার উদ্যোগ উদ্যোগ নেয়নি। গত ২০১০ সালে মার্চ মাসে কুতুবদিয়া ও কক্সবাজারের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে গভীর সমুদ্রে তেল ও গ্যাস উত্তোলনের মিয়ানমার সরকার পদক্ষেপ নিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে আর বেশী দুর এগোয়নি।
জানা যায়, জেলার পেকুয়া উপকূল হতে ১২ কিলোমিটার দূরে বিচ্ছিন্ন একটি দ্বীপের নাম কুতুবদিয়া। দ্বীপকন্যা কুতুবদিয়ার আয়তন প্রায় ৩০ কিমি দৈর্ঘ্য। ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে দ্বীপকন্যা কুতুবদিয়া উপজেলা গঠিত। দ্বীপটি প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদে ভরপুর। এখানে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার লবণ উদপাদিত হয়ে আসছে। দ্বীপটির চারদিকের সাগরে বিশাল মৎস্য ভান্ডারসহ ভূ-গর্ভে রয়েছে অমূল্য সম্পদ তেল, গ্যাস ও রাসায়নিক দ্রব্যাদিসহ কোটি কোটি ডলারের খনিজ সম্পদ।
কুতুবদিয়া-পেকুয়ার লবণাক্ত মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা এসব খনিজসম্পদ উত্তোলনের জন্য স্বাধীনতার ৩৮ বছরেও কোনো সরকার উদ্যোগ নেয়নি। তবে গত ২০১০ সালে মার্চ মাসে মিয়ানমার সরকার কুতুবদিয়া ও কক্সবাজারের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে গভীর সমুদ্রে তেল ও গ্যাস উত্তোলনের পদক্ষেপ নেন।
বিগত সরকারগুলো তেল ও গ্যাস উত্তোলনের জন্য বেশ কয়েকবার জরিপ কাজ চালালেও তা উত্তোলন বা ব্যবহারের কোনো কার্যকরি ভুমিকা রাখেনি। ২০১০ সালে সরকার বিদেশি তেল, গ্যাস অনুসন্ধানকারী সংস্থা কেয়ার্ন এনার্জি (বিজিপি) নামে এক কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার ফলে পেকুয়া-কুতুবদিয়ার গভীর ও অগভীর সাগরের তলদেশে রক্ষিত খনিজসম্পদ উত্তোলনের জন্য গ্যাসকূপ খনন কার্যক্রম শুরু করেন।
সুত্রে আরো জানা যায়, গত ২০০৯ সালের নভেম্বরে কেয়ার্ন এনার্জি (বিজিপি) কোম্পানি কুতুবদিয়ার সাত ইউনিয়নসহ পেকুয়া উপকূলীয় ৩টি ইউনিয়ন নিয়ে সংশ্লিষ্ট উপকূল এলাকায় এবং গভীর সাগরের তলদেশ হতে খনিজসম্পদ উত্তোলনের জন্য গ্যাসকূপ খনন কার্যক্রম করেছিলেন। জরিপ কার্যক্রম পরিচালনাকারী দলের ভূ-তাত্ত্বিক খনিজ সম্পদবিষয়ক বৈজ্ঞানিকরা তৎসময়ে নিশ্চিত হয়েছিলেন, ‘পেকুয়া-কুতুবদিয়া’ এর সাগরে প্রাপ্ত খনিজসম্পদ গুলো খুবই উন্নতমানের’।
এটাই হতে পারে দেশের বৃহত্তম তেল-গ্যাস ক্ষেত্র। জরিপ দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ৩ বিদেশি ভূ-সম্পদ বিজ্ঞানী তৎসময়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন, পেকুয়া-কুতুবদিয়ার তেল-গ্যাস ক্ষেত্রই হবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম খনিজসম্পদ এলাকা।
কুতুবদিয়া-পেকুয়া মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা খনিজ সম্পদ উত্তোলনের বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার যাতে উদ্যোগ গ্রহণ করে সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার দাবী জানিয়েছেন সচেতন মহল।

0 Comments