*মর্যাদার লড়াই রামুতে । *কুতুবদিয়ায় আতঙ্ক ও উৱকণ্ঠা।*দুই হেভিয়েট প্রার্থীর লড়াই নাইক্ষ্যংছড়িতে
তুষার তুহিনআজ রামু,কুতুবদিয়া ও পার্বত্য নাইক্ষ্যংছড়িতে উপজেলা নির্বাচন অনুষ্টিত হচ্ছে। চতুর্থ স্থরের এই নির্বাচনে ৩ উপজেলায় প্রশাসনিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
রামু
রামুতে নির্বাচনকে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন। ভোটারদের মধ্যে ও বিরাজ করছে উৎসাহ-উদ্দীপনা। আজকের নির্বাচনকে ঘিরে কয়েকটি ইউনিয়নে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আশংকা প্রকাশ করেছেন বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আহমেদুল হক চৌধুরী। তিনি ১৯ টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারি রিটার্নিং অফিসার মো. মাসুদ হোসেন জানিয়েছেন, নির্বাচনে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃংখলা বাহিনী মোতায়েন করা হবে। কোথাও অপ্রীতিকরকর ঘটনা ঘটলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারি রিটার্নিং অফিসারের কাছে দেয়া লিখিত অভিযোগে বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী ৮টি ইউনিয়নের ১৯ কেন্দ্রকে ঝূঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এসব কেন্দ্রে সুষ্ঠভাবে ভোট গ্রহনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
আজ রামু উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে ১১ ইউনিয়নে ভোটারদের মাঝে রয়েছে টানটান উত্তেজনা। চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন প্রধান রাজনৈতিকদল আওয়ামীলীগ, বিএনপি এবং জামায়াতের ৪ জন প্রার্থী। এরা হলেন, রামু উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সোহেল সরওয়ার কাজল (দোয়াত কলম), খুনিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, আওয়ামীলীগ নেতা চেয়ারম্যান প্রার্থী সাংবাদিক আবদুল মাবুদ (কাপ পিরিচ), উপজেলা বিএনপির সভাপতি আহমেদুল হক চৌধুরী (আনারস),ও উপজেলা জামায়াতের আমীর ফজলুল্লাহ মুহাম্মদ হাসান (ঘোড়া) । এদের পক্ষে মাঠে নেমেছেন বর্তমান ও সাবেক এমপিরা। মর্যাদার প্রতিযোগিতায় তাঁদের সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে এতদিন পথসভা, গণসংযোগ, মাইকিং, পোষ্টার, লিফলেটসহ নানামূখী প্রচারনায় অংশ নিয়ে সরগরম রেখেছিলেন জনপদ।
সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ সভাপতি সোহেল সরওয়ার কাজলের পক্ষে মাঠে নামেন সাবেক সাংসদ ও কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক আহমদ চৌধুরী। সর্বদলীয় চেতনার ব্যানারে সোহেল সরওয়ার কাজল তাঁর পদটি ধরে রাখতে চেষ্টা চালান । আওয়ামীলীগ নেতা চেয়ারম্যান প্রার্থী, খুনিয়াপালং ইউপি চেয়ারম্যান সাংবাদিক আবদুল মাবুদের পক্ষে কাজ করেছেন বর্তমান সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আহমেদুল হক চৌধুরীর জন্য মাঠে মাতিয়েছেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি লুৎফর রহমান কাজল। অন্যদিকে সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান, উপজেলা জামায়াতের আমীর ফজলুল্লাহ মুহাম্মদ হাসানের পক্ষে মাঠে নেমেছেন বিএনপির সাবেক এমপি শহীদুজ্জামানের কর্মী সমর্থকেরা।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬ জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২জন প্রার্থীর নির্ঘূম প্রচারণায় মুখর ছিল পুরো উপজেলা। ভাইসচেয়ারম্যান পদের প্রার্থীরা হলেন, উপজেলা যুবলীগ সভাপতি রিয়াজ উল আলম (চশমা), বিএনপি সমর্থিত আলী হোসেন (টিউবওয়েল), দিদারুল আলম প্রকাশ দিদার বলী (তালা), এস মোহাম্মদ হোসেন (টিয়াপাখি), আবুল কালাম সিকদার (উড়োজাহাজ) ও আলহাজ্ব মৌলানা হাফেজ আবদুল হাই (মাইক)। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদের ২ জন হলেন- আওয়ামীলীগ সমর্থিত মুসরাত জাহান মুন্নী (প্রজাপতি) ও বিএনপি সমর্থিত ফরিদা ইয়াছমিন (কলসি)। আজ ২৩ মার্চ নির্বাচন শেষে কে হাসতে পারে শেষ হাসি তা দেখার অপোয় রয়েছে রামুবাসী। রামু উপজেলার ১১ টি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৩৯ হাজার ৮০১ জন। এদের মধ্যে ৭০ হাজার ৮৫২ জন পুরুষ এবং ৬৮ হাজার ৯৪৯ জন মহিলা ভোটার রয়েছেন। ভোট কেন্দ্র ৫০টি। বুথ সংখ্যা ৩২৪টি।
১১টি ইউনিয়নের কেন্দ্র ভিত্তিক ভোটার পরিসংখ্যান দেওয়া হল:
ঈদগড় ইউনিয়নের ৯,১৩৬ জন ভোটারের জন্য ৩টি কেন্দ্র যথাক্রমে ঈদগড় বদর মোকাম মাদ্রাসা কেন্দ্র (ভোটার সংখ্যা-৩৪৬৫), ঈদগড় বলবিল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র (ভোটার সংখ্যা-২৮২৯) ও দক্ষিণ ফোরকানিয়া মাদ্রাসা ছগিরা কাটা কেন্দ্র (ভোটার সংখ্যা-২৮৪২)।
গর্জনিয়া ইউনিয়নের ১০,৯৬৯ জন ভোটারের জন্য ৪টি কেন্দ্র যথাক্রমে উত্তর বড়বিল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র (ভোটার সংখ্যা-১৮৫৭), থোয়াইংকাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র (ভোটার সংখ্যা-৩০২৬), মাঝিরকাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র (ভোটার সংখ্যা-৩০০৬) ও গর্জনিয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র (ভোটার সংখ্যা-৩০৮০)।
কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের ১৩,৯৯৪ জন ভোটারের জন্য ৪টি ভোট কেন্দ্র যথাক্রমে কচ্ছপিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে (ভোটার সংখ্যা-৩১৪২),গর্জনিয়া ফয়জুল উলুম ফাযিল মাদ্রাসা কেন্দ্র (ভোটার সংখ্যা-৪৭১৯), শুকমনিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র (ভোটার সংখ্যা-২৯৭৩), মৌলভী কাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র (ভোটার সংখ্যা-৩১৬০)।
কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের ১২,৬২২ জন ভোটারের জন্য ৪টি ভোট কেন্দ্র যথাক্রমে মনিরঝিল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র (ভোটার সংখ্যা-২৭২৮), কাউয়ারখোপ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র (ভোটার সংখ্যা-৩৯৮০), উখিয়ারঘোনা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র (ভোটার সংখ্যা-৩৯৩৩), দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসা ও এতিমখানা (লামার পাড়া মাদ্রাসা) কেন্দ্রে (ভোটার সংখ্যা-১৯৮১)।
ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের ১৮,০৬৬ জন ভোটারের জন্য ৭ টি ভোট কেন্দ্র যথাক্রমে রামু খিজারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা-২০৮১, উত্তর ফতেখাঁরকুল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র (ভোটার সংখ্যা-২৩৫২), পশ্চিম মেরংলোয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র (ভোটার সংখ্যা-১৯৮৩), রামু কেন্দ্রীয় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র (ভোটার সংখ্যা-৩৮১২), লম্বরীপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র (ভোটার সংখ্যা-১৯২২), মন্ডলপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র (ভোটার সংখ্যা-১৯০৬), রামু খিজারী বার্মিজ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র (ভোটার সংখ্যা-৪০১০)।
জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের ১৪,৯৬৫ জন ভোটারের জন্য ৭টি কেন্দ্র যথাক্রমে নন্দাখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র (ভোটার সংখ্যা-১৮২১), পশ্চিম জোয়ারিয়ানালা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র (ভোটার সংখ্যা-২৪৫৭), পূর্ব জোয়ারিয়ানালা রেজিঃ প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র (ভোটার সংখ্যা-১৯৪৯), ঘোনারপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র (ভোটার সংখ্যা-২৩৩৬), নোনাছড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র (ভোটার সংখ্যা-১৮৩৯),উত্তরমিঠাছড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র (ভোটার সংখ্যা-২৪৪৫), জোয়ারিয়ানালা হাইস্কুল কেন্দ্র (ভোটার সংখ্যা-২১১৮)।
রাজারকুল ইউনিয়নের ১০,৬২৬ জন ভোটারের জন্য ৪টি কেন্দ্র যথাক্রমে রাজারকুল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র (ভোটার সংখ্যা-২৮৪৩), রাজারকুল আজিজুর উলুম মাদ্রাসা, সিকদারপাড়া কেন্দ্র (ভোটার সংখ্যা-৩৭২৯), রামকোট রেজিঃ বে-সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র (ভোটার সংখ্যা-১৬১৩),পূর্ব রাজারকুল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র (ভোটার সংখ্যা-২৪৪১)।
দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের ১৩,২৬২ জন ভোটারের জন্য ৪টি কেন্দ্র যথাক্রমে দক্ষিণ মিঠাছড়ি হাইস্কুল কেন্দ্র (ভোটার সংখ্যা-৩৮৯৮), চাইন্দা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র (ভোটার সংখ্যা-৩২২৬), উমখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র (ভোটার সংখ্যা-৩৪৫৬), পানেরছড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র (ভোটার সংখ্যা-২৬৮২)।
খুনিয়া পালং ইউনিয়নের ১৮,৪৫৩ জন ভোটারের জন্য ৭টি কেন্দ্র যথাক্রমে দারিয়ারদিঘী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র (ভোটার সংখ্যা-২৯২১),কালারপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র (ভোটার সংখ্যা-২৪৫২), খুনিয়াপালং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র (ভোটার সংখ্যা-২২২৩), গোয়ালিয়াপালং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র (ভোটার সংখ্যা-২৮৯১), পেচাঁরদ্বীপ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র (ভোটার সংখ্যা-১৭৬৭), ধেছুয়াপালং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র (ভোটার সংখ্যা-২৮৫১), ধোয়াপালং রেজিঃ বে-সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র (ভোটার সংখ্যা-৩৩৪৮)।
চাকমারকুল ইউনিয়নের ৮,৭৭১ জন ভোটারের জন্য ৩ টি কেন্দ্র যথাক্রমে দক্ষিণ চাকমারকুল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র (ভোটার সংখ্যা-২৫১০), জারাইলতলী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র (ভোটার সংখ্যা-৩৩৬৬), চাকমারকুল দারুল উলুম মাদ্রাসা কেন্দ্র (ভোটার সংখ্যা-২৮৯৫)।
রশিদনগর ইউনিয়নের ৮,৯৩৭ জন ভোটারের জন্য ৩টি কেন্দ্র যথাক্রমে ধলিরছড়া আশরাফুল উলুম মাদ্রাসা কেন্দ্র (ভোটার সংখ্যা-২৬৭২), নাদেরুজ্জামান উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র (ভোটার সংখ্যা-২৮১৩), ধলিরছড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র (ভোটার সংখ্যা-৩৪৫২)।
১৫,২৬১ জন নতুন ভোটার
রামুর ১৫ হাজার ২৬১ জন নতুন ভোটার তাদের প্রথম ভোটটি দিবেন আজ। গত ৫ জানুয়ারী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার সদর-রামু আসন থেকে আলহাজ্ব সাইমুম সরওয়ার কমল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় তারা ভোট কেন্দ্রে যেতে পারেনি। এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জীবনের প্রথম ভোটটি দিতে চায় তারা।
কুতুবদিয়া
কুতুবদিয়ার ৩৬ কেন্দ্রে অনেকটা আতংক উৎকন্ঠার মাঝেই আজ ২৩ মার্চ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। উপজেলায় ৬ ইউনিয়নে মোট ভোটার ৭৪ হাজার ৬০৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৩৮হাজার ৫৩৮ জন ও ৩৬ হাজার ৬৯ জন মহিলা ভোটার। ৬ ইউনিয়নে ৩৬ কেন্দ্রের মধ্যে ২৫ টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ।
এর মধ্যে উত্তর ধুরুং ইউনিয়নে ৭টি,দক্ষিন ধুরুং ৩টি,লেমশীখালী ৫টি, কৈয়ারবিল ১টি, বড়ঘোপ ২টি ও আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নে ৭টি কেন্দ্র ঝঁকিপূর্ণ। সাধারন ভোটারগন অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচনের আশা করলেও শংকা কাটছেনা। দ্বীপ জুড়ে গুজব রটেছে কেন্দ্র দখল,ব্যালট ছিনতাই সহ প্রশাসনিক হস্তক্ষেপসহ নানা কারচুপির কথা।
এই শংকা আরো বাড়িয়েছে বেসরকারি বিমান চলাচল ও পর্যটন সচিবের আপন চাচা নাগরিক কমিটির ব্যানারে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ মনজুর আলম সিকদার নির্বাচনে এবারও চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন। সচিব গতকাল শনিবার কুতুবদিয়ায় আসার খবরে তোলপাড় ছিল পুরো উপজেলা।
তাঁর উপস্থিতি ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং আশংকায় চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল বশর চৌধুরী,শাকের উল্লাহ ও আ.স.ম শাহরিয়ার চৌধুরী ,মনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী মুকুল ইতিমধ্যে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। আজ রবিবার বিকেল ৫ টা পর্যন্ত অবস্থান করার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সচিব কক্সবাজার এলেও কুতুবদিয়ায় সফর বাতিল করেন বলে নির্বাচনের প্রধান সম্বনয়কারি কৃষি কর্মকর্তা বণি আমীন খান জানিয়েছেন।
নির্বাচন অবাধ,সুষ্ঠ শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে কক্সবাজার এডিসি(ভুমি) মো.জাফর আলম, ৫ জন নির্বাহি ম্যাজেস্ট্রিট, কক্সবাজার সহকারি পুলিশ সুপার তোফাইল আহমেদ’র নেতৃত্বে পুলিশের কর্মকর্তা-ফোর্স ২৮৫, বিজিবি মেজর ইমরানের নেতৃত্বে ৭০, কোষ্ট গার্ডের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার এম.রেদওয়ান’র নেতৃত্বে ৭৩, নৌ-বাহিনী ২০ জনসহ আনসার,ব্যাটেলিয়ন,ভিডিপি দায়িত্ব পালন করবে।
নির্বাচনে আ‘লীগের সমর্থিত প্রার্থী শফিউল আলম(টেলিফোন) ও তৃণমূল আ‘লীগের প্রার্থী মনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী (কাপপিরিচ) নির্বাচন থেকে সরে দাড়ান। ফলে ৬ চেয়ারম্যান প্রার্থীর মাঝে এখন ৪ জন । তারা হলেন বিএনপি‘র একক প্রার্থী এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী(ঘোড়া), মহাজোট সমর্থিত প্রার্থী মনজুর আলম সিকদার(দোয়াত-কলম),জামায়াতের প্রার্থী আ.স.ম শাহরিয়ার চৌধুরী (আনারস) এবং বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী বড়ঘোপ ইউপি চেয়ারম্যান শাকের উল্লাহর(মোটর সাইকেল)। সর্বশেষ গতকাল পর্যন্ত সরেজমিন পর্যবেক্ষনে জানা যায়,নির্বাচন অবাধ হলে তীব্র প্রতিদ্বন্ধিতা হবে চার প্রার্থীর মাঝেই।
৫ ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে হুমায়ুন কবির হায়দার(তালা),সাংবাদিক আকবর খান(উড়ো জাহাজ),জিয়াউল করিম চৌধুরী(চশমা),কফিল উদ্দিন(টিয়া পাখি) ও রমিজ আহমদ(টিউবওয়েল)। ভোটারদের মতামত অনুযায়ি প্রথম দু‘প্রার্থীর মাঝেই মূল প্রতিদ্বন্ধিতা হবে ।
৫ মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হাছিনা আক্তার বিউটি(পদ্মফুল),সৈয়দা মেহেরুন নেছা(ফুটবল),রোকসানা আরা বেগম(প্রজাপতি),নাছিমা আক্তার (হাঁস) ও আজিমুননাহার(কলসী)। এই ৫ প্রার্থীর মাঝেও মূলত: প্রথম ২ জনের মধ্যেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। সার্বিক বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে এডিসি মো.জাফর আলম বলেন, পরিস্থিতি ভাল তবে এখনো পর্যবেক্ষন চলছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি
আজ রবিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহু আলোচিত নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। এই নির্বাচন যেন অন্য যেকোন উপজেলা নির্বাচনকে পেছনে ফেলতে যাচ্ছেন। নির্বাচনে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী জয়ী হতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এ নির্বাচনকে ঘিরে পর্যটন নগরি কক্সবাজর ও পর্যটন উপ-শহর রামুতেও চলছে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা।
সাধারন ভোটারদের মতে, এবারের নির্বাচনে দুই ফেভারিট চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এদিকে দুই চেয়ারম্যানই দলীয় প্রার্থী হলেও এ নির্বাচনকে ঘিরে বর্তমানে বিভিন্ন অংঙ্গ সংগঠনের মাঝে কোন্দল সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের তিন সহ-সভাপতি গোপনে তোফাইলের পক্ষে কাজ করছেন। পাশাপাশি উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি জহির উদ্দিন প্রকাশ্যে তোফাইলের জন্য দেদারছে প্রচারনা চালিয়েছেন ।
ইতোমধ্যে তোফাইলের স্ত্রী মনোয়ারা জেসমিন’র দুই শিশু সন্তানকে নির্বাচনি কাজে ব্যবহার করায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাধা দেওয়া হয়েছে। সমর্থকরা বিষয়টিকে ষড়যন্ত্র বলে দাবী করেছেন।
উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা ঘুরে জানা যায়, এ নির্বাচনে শফিউল্লাহ্ ভোট কেন্দ্র দখল করতে পারে এবং থানা পুলিশের অন্যায় অভিযানের অভিযোগে তোফাইল পক্ষ গত বৃহস্পতিবার নাইক্ষ্যংছড়ি প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করলেও প্রশাসন বলছে এবারের নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ট হবে। এ ব্যাপারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বেচ্চ নিরাপত্তা গ্রহন করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ রফিকুল ইসলাম পি.পি.এম বলেন, উপজেলার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে খুবই ভাল। যেটা নির্বাচন পরবর্তী সময় পর্যন্ত ধরে রাখতে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এবারের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন অধ্যাপক তোফাইল আহমদ (মোটর সাইকেল) ও আওয়ামীলীগ নেতা অধ্যাপক শফিউল্লাহ্ (আনারস)। ভাইস চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন বিএনপি নেতা কামাল উদ্দিন (চশমা), ছাত্রলীগনেতা চোচু মং মার্মা (টিয়া পাঁখি), জামায়াত নেতা নুরুল আবছার (তালা), বিএনপি নেতা ফুিরদুল আলম (উড়োজাহাজ), ও শ্রমিকনেতা মির্জা হাবিব বেগ (টিউবওয়েল)। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন বিএনপি নেত্রী হামিদা চৌধুরী (ফুটবল) ও আওয়ামীলীগ নেত্রী ওজিফা খাতুন রুবি (কলসি)।
উল্লেখ্য নাইক্ষ্যংছড়িতে ৫টি ইউনিয়নে মোট ভোটারের সংখ্যা ৩১ হাজার ৪৪৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১৬ হাজার ৯৬ ও নারী ভোটার রয়েছে ১৫ হাজার ৩৫৩ জন। উপজেলার ভোট কেন্দ্র থাকবে ২৪টি।
নাইক্ষ্যংছড়িতে দিনভর গুজব
এদিকে নাইক্ষ্যংছড়ির নির্বাচনকে ঘিরে শনিবার দিনভর বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে পড়ে। উপজাতি সম্প্রদায় সরকার দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী শফিউল্লাহকে সমর্থন জানিয়েছে মর্মে দিনের শুরুতেই গুজব ছড়িয়ে দেয় তার সমর্থকরা। কিন্তু অপর প্রার্থী তোফাইলের পক্ষে ওই ‘গুজব’কে ¯্রফে গুজব বলেই উড়িয়ে দেয়। অপরদিকে সরকার সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে কেন্দ্র দখল, প্রশাসনকে ব্যবহারসহ নানা গুজব চলছেই। তবে আইন শৃংখলা বাহিনীর পক্ষে বরাবরই নিরপেক্ষ ও সুষ্ট নির্বাচনের কথা বলা হচ্ছে। অপরদিকে নির্বাচনে পরাজয়ের আশংকায় সরকার দলীয় প্রার্থী শফিউল্লাহ’র পক্ষে জঙ্গী হামলার গুজবও ডালপালা ছড়িয়েছে। তবে সব গুজব শংকা উৎরে সুষ্ট ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আশা করছে সাধারণ ভোটাররা।


0 Comments