Advertisement

উপজেলা হাসপাতালে সেবার মান অনেক পরিবর্তন হয়েছে : টিআইবি

চকরিয়া প্রতিনিধি
চকরিয়া উপজেলা হাসপাতাল মিলনায়তনে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) এর আয়োজনে গতকাল মঙ্গলবার সকালে সেবাগ্রহীতাদের সাথে যৌথসভা ও সিটিজেন রিপোর্ট কার্ড জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চকরিয়া উপজেলা হাসপাতালে সেবার মান আগের চেয়ে অনেক পরিবর্তন হয়েছে।
সচেতন নাগরিক কমিটি-সনাক উপজেলা সভাপতি অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্টানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আনোয়ার আহমদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মোহাম্মদ ছাবের। বক্তব্য রাখেন সনাকের স্বাস্থ্য বিষয়ক উপকমিটির সভাপতি সন্তোষ কুমার সুশীল, হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আবদুস সালাম, ডা. মোহাম্মদুল হক, ডা. কবির আহমদ, ডা. মর্তুজা বেগম, ডা. মো. খালেদ হোসেন, ডা. সবুজ বরণ ধর, ডা. মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন, ডা. তোফাজ্জল হোসেন, ডা. জাহাঙ্গীর মো. তোফায়েল হোসেন। উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী, এনজিও প্রতিনিধি এবং সেবাগ্রহীতাগণ।
অনুষ্ঠানে হাসপাতালের সেবার মান বিষয়ক সিটিজেন রিপোর্ট কার্ড জরিপ ২০১৩ উপস্থাপনা করেন টিআইবির গবেষণা ও পলিসি বিভাগের ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার জাফর সাদেক চৌধুরী। জরিপের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, টিআইবি পরিচালিত ২০০৯ সালের বেইজলাইন জরিপের তুলনায় গতবছর সিটিজেন রিপোর্ট কার্ড জরিপের ১০টি সূচকের মধ্যে ৮ সূচকে ইতিবাচক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে এবং দুইটি সূচকে নেতিবাচক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে এমন সূচক সমূহের মধ্যে চিকিৎসককে সমস্যার কথা সম্পূর্ণ ব্যক্ত করার সুযোগ, রোগীকে ব্যক্তিগত চেম্বার ও হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ প্রদানের হার কমা, সিরিয়াল ভঙ্গের হার কমা ও অন্তবির্ভাগে জরুরি মুহূর্তে চিকিৎসক পাওয়ার হার বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য। নাগরিকদের বেড পেতে অতিরিক্ত অর্থ প্রদানের হার এবং ইনজেকশান এবং স্যালাইন পুশ করার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ প্রদানের হার বৃদ্ধি পেয়েছে।
রিপোর্ট প্রকাশের পর অনুষ্টানে উপস্থিত চিকিৎসক, সাংবাদিক, এনজিও প্রতিনিধি এবং সেবাগ্রহীতাবৃন্দ উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। আলোচনায় চিকিৎসকবৃন্দ বলেন, জরিপ কার্য খানা (পরিবার) পর্যায়ে না করে হাসপাতাল অভ্যন্তরে হলে ফলাফল আরো নির্ভরযোগ্য হতো, রোগীরা সন্তুষ্টির ক্ষেত্রে যে ইতিবাচক তথ্য দিয়েছেন তা হয়তো প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে সক্ষম নয়। জরিপে প্রসবের সময় হাসপাতালে পুরুষকর্মী উপস্থিত থাকে বলে যে তথ্য এসেছে তা সঠিক নয়। আমরা একজন রোগীকে যখন মৃত্যূদশা থেকে মুক্ত করি তখন ধন্যবাদ পাই না কিন্ত একটু ভুল করলেই অপবাদ জুটে। এসময় সভায় উপস্থিত সেবাগ্রহীতাবৃন্দ যেসব ক্ষেত্রে নেতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে সেসব ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ কি ধরণের পদক্ষেপ নেবেন তা জানতে চান।
সেবাগ্রহীতাদের প্রশ্নের উত্তরে আবাসিক চিকিৎসকরা জানান,”টিআইবির জরিপে যেসব দিক উঠে এসেছে তা অনেকটাই সঠিক। হাসপাতালের লোকবল স্বল্পতা এবং অবকাঠামোগত সমস্যা থাকার পরও টিআইবির জরিপে যে নাগরিক সন্তুষ্টির মাত্রা এসেছে তার জন্য হাসপাতালের সকলকে ধন্যবাদ জানাই। যেসব বিষয়ে নেতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে আমরা সেসব বিষয়গুলো খতিয়ে দেখব। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জরিপের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরে সনাক এবং টিআইবিকে ধন্যবাদ জানান।
স্থানীয় সুত্রে অভিযোগ উঠেছে, টিআইবি’র সহযোগি প্রতিষ্টান সনাকের প্রতিবেদনে চকরিয়া উপজেলা হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা আগের চেয়ে বেড়েছে ও চিকিৎসকরা কর্তব্য পালনে বেশি দায়িত্বশীল হয়েছে বলে দাবি করা হলেও মুলত সরকারী বাসায় চেম্বার খুলে চিকিৎসকদের প্রাইভেট বাণিজ্য ও হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা ও দুনীতিকে কৌশলে ছাফাই গাওয়া হয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে জখমী সনদ ব্যবসা করে হাসপাতালের চিকিৎসকরা প্রতিমাসে লাখ লাখ টাকা নেয়া, কর্মকালিন সময়ে হাসপাতালে উপস্থিত না থাকা এবং হাসপাতালে নিয়মিত রোগী না দেখা, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীরা সরকারের দেয়া ওষূধপত্র ও বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়া, জঠিল রোগীদেরকে বারেন্দার ফ্লুরে শুইয়ে রেখে চিকিৎসা দেয়া, হাসপাতালের ভেতরে ময়লা আবর্জনার ভাগাড়, হাসপাতাল বেডে রোগীদের দেয়া কাপড় চোপড় ময়লা ও দূর্গন্ধযুক্ত থাকা ও খাবার পরিবেশনে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম থাকলেও এসব ঘটনা তুলে ধরা হয়নি।
চকরিয়া হাসপাতালে রিপোর্ট কার্ড জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ করছেন সনাক সভাপতি অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী।

Post a Comment

0 Comments