Advertisement

পেকুয়ায় বিএনপির কয়েক হাজার নেতাকর্মী এলাকাছাড়া

এম জুবাইদ, পেকুয়া: পেকুয়ায় নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা তৃতীয় দিনের মতো অব্যাহত রয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পরাজিত আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থীর কর্মীরা বি.এন.পি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা বাড়ী বাড়ী গিয়ে হামলা হুমকি লুটপাট অব্যাহত রেখেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও হামলার শিকার লোকজন জানিয়েছে রাজাখালীর সুন্দরী পাড়া, ফাসিয়াখালী ব্রীজ স্টেশনে, সোনালী বাজারের দক্ষিণ পাশে পৃথক হামলার ঘটনায় ১০ ব্যক্তি আহত হয়েছে। ১ মার্চ সকাল ১০টার দিকে সোনালী বাজার এলাকায় যুবলীগ নেতা মহিউদ্দিনের নেতৃত্বে, মনসুর, সেকান্দর, দিদার ও করিমের নেতৃত্বে সি.এন.জি আটকিয়ে পেকুয়ার তিন যাত্রী সাজ্জাদ, হারুণ ও শুক্কুরকে মারধর করে মোবাইল সহ সব কিছু লুটে নেয়। একই দিন রাজাখালীর চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা নজরুল ইসলাম বাবুলের বাড়ীর সামনে ব্যরিকেট দিয়ে যুবলীগ ক্যাডার জহির ও নাসিরের নেতৃত্বে ১০/১৫জন আওয়ামীলীগ কর্মী একই ইউনিয়নের বকশিয়াঘোনা এলাকার বি.এন.পি কর্মী নবী হোছাইন(৫০), সুন্দরী পাড়ার দিদার, হাসান সহ ৫/৭ জন সাধারণ লোককে আটক করে মারধর করে তাদের সব কিছু কেড়ে নেয়। এদিকে ফাসিয়াখালী ব্রীজ স্টেশনে যুবলীগ নেতা আবদুল খালেক,এহছানের নেতৃত্বে ১৫/২০ জন স্বশস্ত্র সন্ত্রাসী অবস্থান নিয়ে পথচারীদের আটকিয়ে বি.এন.পি সমর্থিত আনারস প্রতীকে ভোট দেয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করে তাদের নাজেহাল করে বি.এন.পি নেতাকর্মীদের মারধর করে।

এসময় তারা বি.এন.পি কর্মী সিরাজুল মোস্তফা কালূকে বেদম মারধর করে গুরুতর আহত করে প্রবাহিত খালে ফেলে দিলে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে পেকুয়া হাসপাতালে ভর্তি করেন। এছাড়া বারবাকিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আবুল শামার নেতৃত্বে ৩০/৩৫ জন স্বশস্ত্র লোক বারাইয়াকাটা থেকে বের হয়ে কাদিমাকাটা-নয়াকাটা-মৌলভীবাজার-ফাসিয়াখালী সরকারী প্রাইমারী স্কুল স্টেশন হয়ে আবারো বারাইয়াকাটায় গিয়ে অবস্থান নেয়। এসব এলাকায় গিয়ে বি.এন.পি নেতাকর্মীদের নাম ধরে গালাগাল করে গুলি করবে বাড়ী ঘর জ্বালিয়ে দেয়ার হুমকি দিলে পুরো এলাকায় ভিতিকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ফাসিয়াখালী কুতুবপাড়া এলাকায় গতরাতে সরকারদলীয় পরাজিত সমর্থকরা মৌলভী আবদুলমাবুদের বসতঘরের পাশে সার্বজনীন নলকুপ নলি সহ কেটে নিয়ে যায় ও পাশের মৌলভী আবদুল জলিলে পায়খানা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয় ও আবদুল্লাহর দোকানে বৈর্জ্যমল নিক্ষেপ করেছে। একই ভাবে শীলখালী কাচারী মুড়া ষ্টেশনের ব্যবসায়ীদের ও স্থানীয় ব্এিন.পি নেতাদের বাসাবাড়িতে গিয়ে হুমকি দিয়েছে বলেও অভিযোগ তুলেছে। এদিকে আ’লীগের মনোনীত পরাজিত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ওয়াহিদুর রহমান ওয়ারেচীর নির্বাচনী ব্যয় পূরণে পেকুয়ার মগনামা বানিযারছরা সড়কের পেকুয়া বাজারের পশ্চিম মাথা আওয়ামীলীগ অফিসের সামনে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সড়কে ব্যরিকেট দিয়ে লবণবাহী ও মালবাহী ট্রাক আটকিয়ে ব্যাপক চাদাবাজি করছে আ’লীগ নেতারা। এসময় চাদা দিতে অপারগ হলে ঘন্টার পর ঘন্টা আটকে রেখেছে বলে কয়েক জন ট্রাক চালক প্রেসক্লাবে এসে সাংবাদিকদের এসব ঘটনার বর্ণনা দেন।

অপর দিকে নির্বাচনের পর দিন থেকে বারবাকিয়া ফাশিয়াখালীতে নির্বাচনী সহিংসতা এবং বি এন পির নেতাকর্মীদের ঘরবাড়ি ভাংচুর নেতাকমীদের কে মারধর এবং ঘুমান্ত মানুষের উপর নির্যাতন করার পরও আ’লীগের নেতা হেলালউদ্দিন বাদী হয়ে বি এন পি সমর্থক ১৪ জন নিরহ ব্যাক্তির নাম উল্লেখ করে ২০/৩০ জন অজ্ঞাত দেখিয়ে পেকুয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করে। মামলাটি তদন্ত করার জন্য পেকুয়া থানার এস আই কাইয়ুম চৌধুরীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ দিকে পেকুয়া উপজেলা পরিষদের দ্বিতীয় বারের মতো নির্বাচিত চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ রাজু বলেন, নির্বাচনে হেরে গিয়ে এমন বর্বোরিত হামলার ঘটনা বন্ধে প্রশাসন ও আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের বার বার অনুরোধ করলেও তারা এ হামলা ভাংচুর বন্ধের উদ্যোগ নিচ্ছেন না। বরং উল্টো বি.এন.পি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানি করছে।

এব্যাপারে পেকুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ হাবিবুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নির্বাচন পরবর্তী এসব সংঘর্ষ সব জায়গাতে হয়ে থাকে আমরা সব জায়গায় গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে চেষ্টা করছি। পেকুয়া বাজারের পশ্চিম মাথায় সড়কে ব্যারিকেট দিয়ে চাঁদা আদায়ের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, শীঘ্রই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।