এম.জিয়াবুল হক, চকরিয়া: কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের বাঁকখালী বনবিটের কর্মকর্তা আমিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে উৎকোচ বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ওই কর্মকর্তা বনবিটে যোগদানের পর থেকে বনজদ্রব্য পরীক্ষন ফাড়িকে পুঁিজ করে লাগামহীন ভাবে চালাচ্ছে উৎকোচ বাণিজ্য। তার এসব অপকর্মের কারনে স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে দরিদ্র কাঠুরিয়া লোকজন চরমভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে রামু উপজেলার কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার আবদু সালাম জানান, গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে একটি চাঁদের গাড়ি যোগে নাইক্ষংছড়ি থেকে বাড়ির জন্য কিছু গাছ আনছিলেন। ওইসময় বাঁকখালী পরীক্ষন ফাঁিড়তে গাড়িটি পৌঁছলে বিট কর্র্মকর্তা আমিরুল ইসলাম তার কাছে বিপুল টাকা উৎকোচ দাবি করেন। নইলে গাড়িসগ গাছ গুলো জব্দ করার হুমকি দেন। ভুক্তভোগী আবদু ছালাম জানান, স্থানীয় ইউপি মেম্বার কায়েসের মধ্যস্থতায় ১২হাজার ৭শত টাকা বিট কর্মকর্তা আমিরুল ইসলামকে দিয়ে গাড়িটি ছাড়িয়ে নেয়া গেলেও গাছ গুলো রেখে দেন ওই বনকর্মকর্র্তা। সাবেক মেম্বার আবদু সালাম সাংবাদিকদের জানান, জীবনে তিনি কোনদিন অনিয়ম দুর্নীতির সাথে জড়িত ছিলেন না। কিন্তু বাড়ির গাছসহ গাড়ি আটকের ঘটনায় জীবনের শেষ সময়ে এসে তাকে অনেক কষ্টে উৎকোচের টাকা গুলো জোগাড় করতে হয়েছে অন্যের কাছে দায়দেনা করে। স্থানীয়রা জানান, বাঁকখালী বনজদ্রব্য পরীক্ষন ফাঁিড়তে বিট কর্মকর্তা হিসেবে আমিরুল ইসলাম যোগদানের পর থেকে নিত্যদিন বাঁশকল আটকিয়ে শতশত গাছ ও লাকড়ি বোঝাই গাড়ি আটক করে তিনি হাতিয়ে নিচ্ছেন হাজার হাজার টাকা। শুধু গাছ ব্যবসায়ী নন, কোন ব্যক্তি অথবা নিরীহ কাঠুরিয়া লাকড়ি সংগ্রহ করে বাড়ি ফেরার পথে বিটকর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম তাদের আটক করে মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়। কেউ টাকা দিতে অপারগ হলে তাকে ঠুনকো বন মামলায় জড়িয়ে আদালতে সৌপর্দ করেন এ কর্মকর্তা। ভুক্তভোগীরা দুর্নীতিবাজ এ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
