ঢাকা,২১নভেম্বর,বিএনপি�রভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দুই দলের সাধারণ সম্পাদক পর্যায়ে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।বৃহস্পতিবার সেনাকুঞ্জে সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে কুশল বিনিময়ের সময় বিএনপি নেতাকে এ আহবান জানান প্রধানমন্ত্রী। এসময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার উদ্যোগ নিলেই বিএনপি সাড়া দেবে।উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবসে সেনাকুঞ্জে বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়ার অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি সেখানে যাননি। বিএনপি�র পক্ষে স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব) মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সেখানে যান। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও ছিলেন সেই দলে। সশস্ত্র বাহিনী দিবসের কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘুরে ঘুরে অভ্যাগত অতিথিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।তিনি অন্য বিএনপি নেতাদের সঙ্গেও কুশল বিনিময় করেন।মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী এ সময় মির্জা ফখরুলকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে সংলাপে বসার আহ্বান জানান। জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি আলোচনার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হলেই তারা সাড়া দেবেন। পরে প্রধানমন্ত্রী কুশল বিনিময়ের জন্য অন্য অতিথিদের দিকে এগিয়ে যান।সভাব-সুলভভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার সঙ্গে কুশল বিনিময় করে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন এবং বলেছেন, আলোচনায় আসুন, বসুন আমরা সবাই মিলে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করি। আমরা জোড় গলায় বলতে পারি দৃঢ়চিত্তে যে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে, নিরপেক্ষ হবে এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অংশ নেননি। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তার সঙ্গে সেখানে প্রধানমন্ত্রীর কুশল বিনিময় হয়।মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার আলোচনার উদ্যোগ নিলে তারা অবশ্যই সাড়া দেবেন। চলমান সঙ্কট নিরসনে সরকার আলোচনার জন্য ডাকলে বিরোধীদল যেতে প্রস্তুত রয়েছে। তিনি আরো বলেন,সরকার আলোচনার জন্য ডাক দিলেই এবং উদ্যোগ নিলেই আমরা সাড়া দেবো।এছাড়া উভয় দলের মহাসচিব পর্যায়ে আলোচনা হওয়া উচিত বলে মনে করেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। গত বছর বাদ দিলে বর্তমান সরকারের সময় এই পর্যন্ত তিন বার সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকলেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে সেনাকুঞ্জে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, কূটনীতিক ও সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি- পেশার মানুষ ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেন। অনুষ্ঠানে বিরোধী দলীয় নেত্রী না গেলেও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের বেশ কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।বিএনপির কয়েকজন নেতার কাছে সশস্ত্র বাহিনীর অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাওয়া হলে তারা এবিষয়ে কিছু বলতে পারেনি।২০১২ সালে সশস্ত্র বাহিনী দিবসে সেনাকুঞ্জের অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া ২০১২ সালে সশস্ত্র বাহিনী দিবসে সেনাকুঞ্জের অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়াশুধু গত বছর সেনাকুঞ্জের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন বিরোধী দলীয় নেত্রী। তবে ওই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার কোনো কথা হয়নি।তবে সেনানিবাসের বাড়ি হারানোর পর ২০১০ ও ২০১১ সালে সেনাকুঞ্জের অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়াকে দেখা যায়নি।