Advertisement

নির্বাচনকালীন সরকার পরিচালনায় রাষ্ট্রপতি অনুমতি দিয়েছেন: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

‘বৃহস্পতিবার নতুন মন্ত্রিসভার গেজেট’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নির্বাচনকালীন সরকার পরিচালনায় রাষ্ট্রপতি তাকে অনুমতি দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতির অনুমতিতেই তিনি সরকার পরিচালনা করে যাবেন।
বুধবার ৯ম জাতীয় সংসদের ১৯তম অধিবেশনের শেষ দিনে সংসদ নেতার ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ এখন নির্বাচনের দিকে এগুচ্ছে। আমি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে নির্বাচন প্রক্রিয়া ও নির্বাচনকালীন সরকার পরিচালনা নিয়ে কথা বলেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংগ্রাম করে আমরা দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছি। স্থায়ীভাবে দেশে যাতে গণতান্ত্রিক পথে নির্বাচন হয়, দেশের মানুষ গণতান্ত্রিক অধিকার ভোগ করতে পারে সে লক্ষেই সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে। আর সংশোধিত সংবিধান অনুযায়ীই নির্বাচন হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর অন্যন্য গণতান্ত্রিক দেশে যেভাবে সরকার পরিচালিত হয়, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, দেশের মানুষ গণতান্ত্রিক অধিকার ভোগ করে বাংলাদেশেও ঠিক তেমনটিই চলবে।
ভবিষ্যতে কেউ যেনো অসাংবিধানিক পথে ক্ষমতায় আসতে না পারে আমরা সেটাই নিশ্চিত করতে চাই, বলেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজ সংসদ অধিবেশন শেষ হচ্ছে। ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভা গঠন হয়ে গেছে, দপ্তর বণ্টনও হয়ে গেছে, কাল গেজেট হবে।’
তিনি বলেন, ‘মন্ত্রীরা নীতিগত কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না। তারা শুধুমাত্র সরকারের রুটিন কাজ করবে।’
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বিএনপিকে আগামী নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য আবারও আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভায় নাম প্রস্তাবের জন্যও তাদের আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।
ভাষণের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নবম জাতীয় সংসদে ৪২৮টি কার্যদিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটাই সর্বাধিক কার্যদিবস। সর্বাধিক আইন এ সংসদে পাস করেছি। দুটি বেসরকারি বিলসহ ২৭১টি আইন এ সংসদে পাস হয়েছে।’
চারদলীয় জোট সরকারের অষ্টম সংসদের তুলনা করে তিনি বলেন, ‘অষ্টম সংসদে ৩৭৩টি কার্যদিবস ছিল ও শতাধিক বিল পাস হয়েছে।’
প্রধামন্ত্রী বলেন, ‘মহমান্য হাইকোর্টের একটি রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশে মার্শাল ল জারি করে ক্ষমতা দখল নেয়া এবং আইন প্রণয়ন অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। হাইকোর্ট একটি ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন। ৩৮ বছর ক্ষমতার পরিবর্তন সাংবিধানিক হয়নি। প্রতিবারই কোনো না কোনো আন্দোলন ও সংগ্রাম করতে হয়েছে। ৩৮ বছরে মাত্র একবার শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়েছে ২০০১ সালে। এছাড়া আর কখনও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়নি। যেটা জাতির জন্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের।’
আগামীতে যাতে কেউ কোনোভাবে কোনো ফাঁক ফোকরে অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা দখল করতে না পারে, সে জন্যই সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করেছিলাম। নির্বাচন পর্যন্ত সংসদ চালিয়ে নেয়ার জন্য রাষ্ট্রপতি অনুমতি দিয়েছেন।’
তিনি তার বক্তৃতায় প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানকে তার বক্তব্যেও স্মরণ করেন। এছাড়া তিনি স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, সংসদ উপনেতা, বিরোধীদলীয় নেতা মন্ত্রিপরিষদ, সংসদ সদস্য, সংসদ সচিবালয়ের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানান।
সবশেষে প্রধানমন্ত্রী তার একমাসের বেতন সংসদের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সংসদ চলাকালে দৈনন্দিন বার্তাবাহককে বণ্টন করে দেয়ার জন্য স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
দেড় ঘণ্টাব্যাপী প্রধানমন্ত্রী তার সমাপনী বক্তব্য দেন।
এ সংসদে ৪২৮টি কার্যদিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটাই সর্বাধিক কার্যদিবস। দুটি বেসরকারি বিলসহ ২৭১টি আইন এ সংসদে পাস হয়। সে হিসাবে, সর্বাধিক আইন এ নবম সংসদে পাস হয়েছে।
গত ১২ সেপ্টেম্বর নবম জাতীয় সংসদের ১৯তম অধিবেশন শুরু হয়। এ অধিবেশন উপলক্ষে কার্য-উপদেষ্টা কমিটির প্রথম সভায় চলতি অধিবেশন ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত চালানোর সিদ্ধান্ত কথা ছিল। কিন্তু গত ২৩ অক্টোবর কার্য-উপদেষ্টা কমিটির সভায় অধিবেশনের মেয়াদ বৃদ্ধি করে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত করা হয়। এছাড়াও স্পিকারের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়; তিনি চাইলে প্রয়োজনে অধিবেশনের মেয়াদ আরও বাড়াতে পারেন।
এ সরকারের মেয়াদে এটিই সর্বশেষ অধিবেশন। বর্তমান সংসদ শুরু হয় ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি। সংবিধান অনুযায়ী, এ সরকারের মেয়াদ শেষ হবে ২৪ জানুয়ারি এবং ২৭ অক্টোবর থেকে এসময়ের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে যেহেতু সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন হচ্ছে, তাই তফসিলের আগ পর্যন্ত সংসদ চলতে আইনগত বাধা নেই।