হেফাজতে ইসলামের আমীর আহমদ শফীর ‘দোয়া’ নিয়ে ‘মহাজোট সরকারের বিরুদ্ধে’ নির্বাচন করার ঘোষণা দিলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ।
মাহজোটে না থাকার ঘোষণা দেয়ার পরদিন রোববার চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসায় শফীর সঙ্গে বৈঠক করে তিনি এই ঘোষণা দেন।
ক্ষমতায় গেলে এরশাদ হেফাজতের ১৩ দফা বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন বলেও সংগঠনের মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরী জানান।
এরশাদ বলেন, হেফাজত আমিরের সঙ্গে রাজনৈতিক বিষয়ে তার কথা হয়নি।
“আমি শুধু দোয়া নিতে এসেছিলাম, হুজুর দোয়া করেছেন। উনি রাজনীতি করেন না। তার সাথে রাজনীতির কথা হয়নি।”
শফী কি বলেছেন জানতে চাইলে এরশাদ বলেন, “হুজুর বলেছেন, যে মনোবাসনা নিয়ে এসেছি, আল্লাহ তা পূরণ করুক।”
ঢাকা থেকে বিমানে চট্টগ্রামে পৌঁছানোর পর বেলা ১১ টা ৪০ মিনিটে হাটহাজারী মাদ্রাসায় পৌঁছান সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ। এরপর ওই মাদ্রাসার মহাপরিচালক শফীর কক্ষে প্রায় ৫০ মিনিট অবস্থান করেন তিনি।
জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাংসদ ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জিয়াউদ্দিন বাবলু, নগর জাতীয় পার্টির সভাপতি সোলায়মান আলম শেঠ এবং হেফাজতের মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরীও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎ শেষে বেরিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এরশাদ বলেন, ‘উনি রাজনীতি করেন না, হেফাজত রাজনৈতিক দলও না, উনি একজন ইসলামী চিন্তাবিদ, এখানে ইসলামের কথা হয়েছে।”
জাতীয় পার্টি নতুন জোট থেকে নির্বাচন করবে কি-না জানতে চাইলে দলের চেয়ারম্যান বলেন, “যদি আলাদা জোট করতে পারি, ইনশাল্লাহ নির্বাচন করব।… জোট করে এ সরকারের বিরুদ্ধে নির্বাচন করব।”
হেফাজতের মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরীও সাংবাদিকদের বলেন, এটা ছিল শুধুই সৌজন্য সাক্ষাৎ।
“তিনি (এরশাদ) কেবল দোয়ার জন্য এসেছেন, কোনো রাজনৈতিক আলোচনা হয়নি। হুজুর (শফী) তার ও দেশবাসীর জন্য দোয়া করেছেন।
“আমি মহাসচিব হিসেবে আলোচনায় বলেছি, হেফাজত ইসলাম সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক একটি সংগঠন। আমরা রাজনৈতিক ব্যানারে নির্বাচনে যাব না। কোনো দল বা জোটের সঙ্গেও জড়িত হব না।”
নির্বাচনে এরশাদ সহযোগিতা চেয়েছেন কি না জানতে চাইলে বাবুনগরী বলেন, “উনি শুধুই দোয়া চেয়েছেন।”
রাজনৈতিক বিষয়ে আলোচনা হয়নি অস্বীকার করলেও যে কোনো দলকে ক্ষমতায় যেতে হলে বা ক্ষমতায় থাকতে হলে হেফাজতের তের দফা দাবি মানতে হবে বলে মন্তব্য করেন বাবুনগরী।
“যে কেউ সরকার গঠন করতে পারে এ বিষয়ে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই। এরশাদ ক্ষমতায় গেলে ১৩ দফা বাস্তবায়নের চেষ্টা করবেন বলেও হুজুরকে জানিয়েছেন।”
গত ৬ মার্চ মতিঝিলে সমাবেশ করে ১৩ দফা দাবি উপস্থাপন করে হেফাজতে ইসলাম। ১৩ দফার চার নম্বর দাবিতে বলা হয় ‘ব্যক্তি ও বাকস্বাধীনতার নামে সব বেহায়াপনা, অনাচার, ব্যভিচার, প্রকাশ্যে নারী-পুরুষের অবাধ বিচরণ, মোমবাতি প্রজ্বালনসহ সব বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে হবে।’
এরপর মে মাসে এসব দাবিতে শাপলা চত্বরে সমাবেশ করে ব্যাপক তাণ্ডব চালায় হেফাজতকর্মীরা।
এ ছাড়া সম্প্রতি এক ওয়াজ মাহফিলে নারীদের তেঁতুলের সঙ্গে তুলনা করে সমালোচনায় পড়েন আহমেদ শফী। এছাড়া তিনি নারীদের চতুর্থ শ্রেণির বেশি পড়াতে এবং নারীদের চাকরি না করে বাড়িতে থাকার পরামর্শ দিলে নারী নেত্রীরা এর তীব্র সমালোচনা করেন।
বাবুনগরী বলেন, ভবিষ্যতে যেই ক্ষমতায় যাক, ইসলামবিরোধী কাজ করলে হেফাজতে ইসলাম তাদের সরে আসতে ‘বাধ্য করবে’।
এরশাদ মাদ্রাসা প্রবেশের পর হয়েক হাজার শিক্ষার্থী তাকে দেখার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ে। বৈঠক চলাকালে তাদের আগ্রহ নিয়ে বাইরে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

