আহসান সুমন : ১৮ দল ঘোষিত ৪৮ ঘন্টা অবরোধ কর্মসূচীর প্রথমদিনে কক্সবাজারের বিভিন্নস্থানে অরাজকতা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে। কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাওয়ার হাউস এলাকায় সংবাদপত্র বহনকারী একটি সিএনজি গাড়ি জ্বালিয়ে দেয় শিবির ক্যাডাররা। এসময় সিএনজির ভেতরে থাকা দৈনিক আজকের কক্সবাজারসহ প্রায় ২ হাজার কপি স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকা অবরোধকারীদের দেয়া আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এদিকে সচেতন মহল বলছেন, হরতাল-কিংবা অবরোধ চলাকালে আগেকারদিনে আন্দোলনকারীরা গাড়ি পুড়ালেও কখনো এমন নির্মমতায় জাতির দর্পন খ্যাত সংবাদ পত্রে অগ্নিসংযোগ করেনি। ফলে কোনভাবেই এটি গণমাধ্যমের প্রতি বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরসহ বিরোধী ঘরনার রাজনীতিবীদদের খুব একটা শুভ আচরণ নয় বলে মন্তব্য করেছেন সচেতন রাজনৈতিক বোদ্ধারা। তাদের মতে, এসব নাশকতা ও অরাজকতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা না হলে এটি গণমাধ্যমের প্রতি অন্যায় অবিচার করা হবে। শুধু তাই নয়, সংবাদ পত্রের আগুনে ছাই হয়ে আকাশে উড়া লেলিহান শিখার অর্থ দাঁড়ায় সভ্য সমাজে মূখোশধারী অসভ্য মানুষগুলোর মুল চরিত্র ভেসে ওঠার কষ্টকর দৃশ্য। যা খুবই অমানবিক। এমনই মনে করছেন সচেতন মিডিয়া ব্যক্তিত্বরা। এছাড়া সংবাদপত্র বহনকারী গাড়ি ও সংবাদপত্র পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কক্সবাজারের সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। এক বিবৃতিতে সংবাদ পুড়ানোর ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন কক্সবাজার সংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু তাহের ও সাধারণ সম্পাদক জাহেদ সরওয়ার সোহেল। পাশাপাশি নিন্দা জানিয়েছেন দৈনিক আজকের কক্সবাজার পত্রিকার সম্পাদক মুজিবুর রহমান। তারা নেক্কার জনক এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন। এদিকে ২৬ নভেম্বর সকাল ৬টা থেকে কক্সবাজার শহর ও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সড়ক অবরোধের চেষ্টা করে অবরোধকারীরা। এসময় তারা বিক্ষোভ মিছিল থেকে বেশ কিছু ছোট যানবাহন ভাংচুর করে। এমনকি জ্বালিয়ে দেয়া হয় কয়েকটি গাড়িও। এদিকে নাশকতা প্রতিরোধে পুলিশের পাশাপাশি মাঠে নামানো হয়েছে র্যাব ও বিজিবি। টহলে রয়েছেন জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালতের বিশেষ কয়েকটি টহল টিম। কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে দুর পাল্লার কোন যানবাহন কক্সবাজার ছেড়ে যায়নি। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই পর্যটকসহ কিছু যাত্রী তাদের নিজ নিজ গন্তব্যে যাতায়ত করতে না পেরে দুর্ভোগে পড়তে দেখা গেছে। যদিও বরাবরেরমতো ছোট গাড়িগুলোর চলাচল দেখা গেছে অনেকটা রীতিমতো। এর আগে সকাল-দুপুর ও মঙ্গলবার রাতে শহরের বাজারঘাটা এলাকায় জামায়াত-শিবিরের মিছিল থেকে বেশ কয়েকটি ককটেল বিষ্ফোরন ও টায়ার জ্বালিয়ে নাশকতার চেষ্টা চালানো হয়। এসময় সাধারণ মানুষের জানমালের সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষায় র্যাব ও পুলিশ আলাদাভাবে অন্তত: ১৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে। এতে মুহুর্তেই মিছিলগুলো ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এসব ঘটনায় পালাতে গিয়ে আহত হয় কমপক্ষে ১০ জন যুবদল, ছাত্রদল ও শিবিরকর্মী। অবরোধের সমর্থনে সকাল থেকে শহরে বেশ কয়েকটি মিছিল বের করে যুবদল, ছাত্রদল ও ছাত্র শিবিরকর্মীরা। এসব মিছিল থেকেই আতঙ্ক ছড়াতে বেশ কিছু ককটেল বিষ্ফোরন ঘটানো হয় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। প্রসঙ্গত: একতরফা তফসিল ঘোষনার প্রতিবাদে ২৫ নভেম্বর রাতে ৪৮ ঘন্টার সড়ক, নৌ এবং রেলপথ অবরোধের এ কর্মসূচী ঘোষনা দেয় বিএনপি’র নেতৃত্বাধিন ১৮ দলীয় জোট।

.jpg)