Advertisement

খালেদাকে প্রধানমন্ত্রী ‘যে মন্ত্রণালয় চাইবেন সেই মন্ত্রণালয়ই দেয়া হবে’


ঢাকা: বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকারে এসে যে যে মন্ত্রণালয় চাইবেন সেগুলোই দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, গত ৩৮ বছর ধরে অ্যাডহক ভিত্তিতে নির্বাচন হয়েছে। আর অ্যাডহক ভিত্তিতে নয় এবার সংবিধান মোতাবেক নির্বাচন হবে। এবার সাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর হবে।

আজ রোববার বিকেলে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
গণভবনের সামনের প্রাঙ্গণে সামিয়ানা টাঙানো বিশাল প্যান্ডেলে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রায় দুই হাজার ৭০০ জন নেতা উপস্থিত ছিলেন। দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, বিভিন্ন জরিপ ও তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হবে। কাকে মনোনয়ন দেওয়া হলো তা না দেখে নৌকা মার্কা দেখে ভোট দেবেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত পাঁচ বছরে দেশের জনগণের জীবনমান উন্নত হয়েছে। সবকিছুতে উন্নতির ছোঁয়া লেগেছে। আওয়ামী লীগের সাফল্য বলে শেষ করা যাবে না।
বিরোধী দলীয় নেতাকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আসুন গণতন্ত্রকে সুসংহত রাখি। সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রাখি। কোনো এক জায়গা হতে আমাদের শুরু করতে হবে। আগামী প্রজন্মের জন্যে আমরা এই ধারা শুরু করি।”
দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।ঐক্যবদ্ধ হয়ে আগামী নির্বাচনে জয় লাভ করতে হবে। ঐক্যবদ্ধ থাকলে আওয়ামী লীগ জয় করবে।”
মনোনয়নপ্রত্যাশীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “যারা মনোনয়ন তুলেছেন তারা সবাই যোগ্য। তবে আমাদের ৩০০ জনকে প্রার্থী করতে হবে। আবার মহাজোটকেও ছাড় দিতে হবে। সেদিক বিবেচনা করেই মনোনয়ন দেয়া হবে।”
দলীয় নেতা-কর্মীদের সতর্ক করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, “আপনারা দলের এমপি-মন্ত্রীদের সমালোচনা করতে গিয়ে নিজেদের অবস্থান নড়বড়ে করবেন না। কারণ আপনারাও আওয়ামী লীগের তারাও আওয়ামী লীগের। আপনারা তাদের সমালোচনা করলে আওয়ামী লীগেরও সমালোচনা হবে।”
আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এ মতবিনিয়ন সভা শুরু হয় বিকেল সাড়ে তিনটায়। এর আগে দুপুর ১২টায় গণভবনের প্রবেশদ্বার খোলা হয়।
মতবিনিময় সভায় আওযামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাসহ মনোনয়নপ্রত্যাশীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম মনোনয়নপ্রত্যাশীদের স্বাগত জানান। তিনি বলেন, যাঁকে মনোনয়ন দিলে জয় পাওয়া যাবে, তাঁকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে। জনপ্রিয়তা যাচাই করে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে। তিনি বলেন, সবাই এক থাকলে সামনে আওয়ামী লীগ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে।
প্রসঙ্গত, ৩০০ সংসদীয় আসনে দুই হাজার ৬১১ জন মনোনয়নপ্রত্যাশী আওয়ামী লীগের ফরম কিনেছেন। এর মধ্যে যুবলীগের প্রায় ৩৫ জন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের ১৫ জন, কৃষক লীগের ২০ জন, যুব মহিলা লীগের ১০ জন, জাতীয় শ্রমিক লীগের ১০ জন, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের পাঁচজন। সদ্য যুবলীগ, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা-কর্মীদের সমন্বয়ে গঠিত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির ১৪৯ জনের সহ-সম্পাদকের মধ্যে ৯০ জন মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ দলীয় সংরক্ষিত আসনের নারী সাংসদরা প্রায় সবাই মনোনয়ন ফরম কিনেছেন।